Ajker Patrika

মুন্সিগঞ্জে শ্যামল হত্যা: তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ৮

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
মুন্সিগঞ্জে শ্যামল হত্যা: তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ৮
প্রতীকী ছবি

মুন্সিগঞ্জের পূর্ব রাখী গ্রামের শ্যামল সরকারকে (৩৮) হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক শ্যাম সুন্দর রায় এই রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— শাহাদাত বেপারী, মো. জাহাঙ্গীর বেপারী ও মো. ইব্রাহিম বেপারী।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— মনির চৌকিদার, হায়াতুন ইসলাম চৌকিদার, আশরাফুল খান, আইয়ুব খাঁ, হুমায়ুন দেওয়ান, লিটন বেপারী, হাবিব বেপারী ও এমদাদ হাওলাদার ওরফে ইমরান।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সব আসামিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তাঁদের আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে বলে রায় বলা হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জাহাঙ্গীর বেপারী ও ইব্রাহিম বেপারী এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি লিটন বেপারী, হাবিব বেপারী ও এমদাদ হাওলাদার পলাতক রয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল তাঁদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। অন্য আসামিরা ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন। তাঁদের সাজা পরোয়ানাসহ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করেছেন, যাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাঁদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। তবে হাইকোর্টের অনুমোদন দিতে হবে। পলাতক আসামিরা গ্রেপ্তার হওয়ার বা আত্মসমর্পণ করার পর সাজা কার্যকর হবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৩ জুন রাত ১টার দিকে মুন্সিগঞ্জ জেলার পূর্ব রাখী গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল সরকারের বাড়িতে এসে দরজা খুলতে বলেন একই গ্রামের এমদাদ ওরফে ইমরান। সে সময় ঘুমিয়ে ছিলেন শ্যামল। দরজা খুললে জোরপূর্বক ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়েন কয়েকজন ব্যক্তি। তাঁরা শ্যামল সরকারকে পিস্তল দিয়ে গুলি করেন। পরপর কয়েকটি গুলি করায় শ্যামল সরকারের হাত ও পায়ে মারাত্মক জখম হয়। পরে তাঁকে ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করা হয়। স্বজন ও স্থানীয়রা তাঁকে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ১৫ জুন শ্যামল সরকারের ছোট ভাই ইব্রাহিম বেপারী বাদী হয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় একই গ্রামের ১৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিবরণীতে বলা হয়, গ্রামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আসামিদের সঙ্গে নিহতের বিরোধ ছিল। তাই পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শ্যামল সরকারকে হত্যা করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

তদন্ত শেষে মুন্সিগঞ্জ থানার এসআই লিপন সরকার ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অন্য একজন শিশু হওয়ায় তার বিরুদ্ধে দোষীপত্র দাখিল করা হয়। শিশু আদালতে তার বিচার চলছে।

মামলাটি ২০২৫ সালের ২৪ জুন ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য পাঠানো হয়। এরপর ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

প্রশাসনের সভায় এমপির বউ, ইউএনও-এসি ল্যান্ড বদলি

৩৫ হাজারের ইরানি ড্রোন ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ৪০ লাখ ডলার

‘লিবিয়া মডেল’ কাজ করছে না ইরানে, বুমেরাং হলো খামেনি হত্যা

ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেবে না স্পেন, চলে গেল মার্কিন যুদ্ধবিমান

ইসরায়েলের চাপেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে তোলপাড়

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত