Ajker Patrika

ইফতারি: আখনি ছাড়া চলেই না

মাহিদুল ইসলাম, মৌলভীবাজার
ইফতারি: আখনি ছাড়া চলেই না
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি রেস্তোরাঁয় ইফতারের আগ মুহূর্তে আখনি বিক্রি হচ্ছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

মৌলভীবাজার তথা সিলেট বিভাগের ইফতারে অন্যতম জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী খাবার হলো আখনি পোলাও। এই অঞ্চলের মানুষেরা নিজ বাড়িতে আখনি তৈরির পাশাপাশি রোজার মাসে বড় হাঁড়ির আখনি খাবারের স্বাদ নিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় ইফতার করতে আসেন। সুগন্ধি চাল, ঘি, গরম মসলা ও গরুর মাংস বা মুরগির মাংস দিয়ে তৈরি হয় এই মুখরোচক খাবারটি। ইফতারে আখনির সাথে ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি এর স্বাদ আরও বাড়িয়ে দেয়। যুগ যুগ ধরে এই খাবারটি সিলেটে ইফতারে শীর্ষ প্রিয় খাবার হিসেবে পরিবেশন করা হয়।

জানা যায়, মোগল আমলের বাবুর্চিদের হাত ধরে উপমহাদেশে আখনি পোলাও জনপ্রিয়তা পায়। বিভিন্ন অঞ্চলে এর চাহিদা কমে গেলেও সিলেটে এই আখনির জনপ্রিয়তা এখনো অনেক বেশি। আখনি মাংসের ঝোলের মধ্যেই রান্না করা এক ধরনের পোলাও। রমজানে ইফতার, ধর্মীয় আয়োজন, আকিকা কিংবা পারিবারিক উৎসবে সুস্বাদু এই খাবারটি পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পানসী রেস্টুরেন্টে ইফতার করতে আসা কয়েকজন বলেন, আখনি সিলেটের আদি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি দেখতে তেহারির মতো হলেও স্বাদ ও রান্নার পদ্ধতি ভিন্ন। বিশেষ করে রমজান মাসে ইফতারের সময় গরম গরম আখনির সুঘ্রাণ ও স্বাদ নিতে পাড়া-মহল্লা, রেস্টুরেন্টে এবং ইফতারির দোকানগুলোতে অনেকেই ভিড় করেন। আমরাও আজ আখনি খেতে এখানে এসেছি।

মৌলভীবাজারের রেস্টুরেন্টের গুণগত মানের ওপর নির্ভর করে আখনির দাম। ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪০০ টাকা প্রতি কেজি গরুর মাংসের আখনি বিক্রি করা হয়। আর মুরগির মাংসের আখনি ২৫০ টাকা থেকে ৩২০ টাকা পর্যন্ত প্রতি কেজি বিক্রি করা হয়।

মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন ইফতার বাজার ও রেস্টুরেন্ট ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ইফতারির পাশাপাশি আখনি বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটি রেস্টুরেন্টে লাল কাপড় দিয়ে মোড়ানো কমপক্ষে দুটি বিশাল হাঁড়ি রাখা আছে। একটি হাঁড়িতে গরুর মাংসের অন্যটিতে মুরগির মাংসের আখনি রাখা হয়েছে। ক্রেতারা যে যার ইচ্ছেমতো আখনি ক্রয় করছেন ওজনের মাধ্যমে। এ ছাড়া পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, ছোলা ও জিলাপির সঙ্গে ইফতারে আখনি পরিবেশন করা হচ্ছে যাঁরা রেস্টুরেন্টে ইফতার করবেন তাঁদের জন্য।

আব্দুল মোতালেব নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘আমার মেয়ের বাড়িতে ইফতারি দেওয়ার জন্য আমি ১০ কেজি আখনি কিনেছি। মৌলভীবাজারে ইফতারে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে আখনি তৈরি করা হয়। তবে বড় রেস্টুরেন্টের আখনির স্বাদই অন্যরকম।’

শ্রীমঙ্গল পানসী রেস্টুরেন্টে ইফতার করতে আসা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আখনি খুবই জনপ্রিয় খাবার, বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে আখনি দিয়ে ইফতার করতে এসেছি। আখনির হাঁড়ি যত বড় হয়, স্বাদ ততই বেশি পাওয়া যায়। আমরা রোজার মাসে ইফতারে কম-বেশি সবাই আখনি খেতে পছন্দ করি।’

মৌলভীবাজার জেলা শহরের একটি রেস্টুরেন্টের মালিক খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘আমার রেস্টুরেন্টে প্রতিদিন কয়েক শ কেজি আখনি বিক্রি হয়। গরু ও মুরগির মাংস দিয়ে আলাদাভাবে রান্না করা হয়। পুরো রমজান মাসে এই আয়োজন চলে। কেউ বেশি নিতে চাইলে আগে অর্ডার করতে হয়। আখনি দিয়ে ইফতার করতে অনেকেই রেস্টুরেন্টে আসেন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ইরান যুদ্ধে পালানটিরের ‘মেভেন’ যেন ১২ ঘণ্টায় ৯০০ আজরাইল

জর্ডানে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন রাডার ধ্বংস করেছে ইরান: সিএনএনের অনুসন্ধান

নেপালের নির্বাচন: এগিয়ে বালেন শাহর দল, পাত্তা পাচ্ছেন না ওলি

ইরানকে গোপনে মার্কিন সামরিক গতিবিধির তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া

৪০ বছর ধরে যে যুদ্ধের পরিকল্পনা করেছে ইসরায়েল, ঘোল খাইয়েছে পশ্চিমাদের

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত