Ajker Patrika

ছেলের প্যারোল মেলেনি, বৃদ্ধের লাশ গেল কারাগারে

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১: ০৩
ছেলের প্যারোল মেলেনি, বৃদ্ধের লাশ গেল কারাগারে
ছবি: আজকের পত্রিকা

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে বাবার মরদেহ দেখে বারবার ভেঙে পড়েন হাজতি মিলন মিয়া (৪৫)। রাজনৈতিক মামলায় আটক থাকায় বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলের (সাময়িক মুক্তি) আবেদন করেছিলেন তিনি। তবে সেই আবেদন নামঞ্জুর হলে শেষ পর্যন্ত বাবার মরদেহ আনা হয় কারাগারে।

আজ বুধবার সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে এ ঘটনা ঘটে। এ দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্বজন ও উপস্থিত ব্যক্তিরা।

মিলন মিয়া কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবা ফুল মিয়া (৬৭) দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবার ও আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৪ ডিসেম্বর মিলন মিয়াকে আটক করে পুলিশ। পরে ১৬ ডিসেম্বর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি একটি মামলায় তিনি জামিন পেলেও আরেকটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বাবার জানাজায় অংশ নিতে মঙ্গলবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলের আবেদন করা হয়। তবে আবেদন নামঞ্জুর হয়। পরিবারের দাবি, মিলন আওয়ামী লীগের কোনো পদ-পদবিতে ছিলেন না।

মিলন মিয়ার চাচা মতিউর রহমান বলেন, ‘কারাগারের ভেতরে বাবার মরদেহ দেখে মিলন বারবার মূর্ছা যাচ্ছিল। প্যারোলের জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। ব্যর্থ হয়ে শেষে মরদেহই কারাগারে নিতে হয়েছে। জীবনে এমন ঘটনা আর দেখিনি।’

স্বজনেরা জানান, বুধবার সকাল ১০টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স জেলা কারাগারে পৌঁছায়। মিলনের এক চাচাকে কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও অন্য স্বজনেরা পান সাধারণ সাক্ষাতের সুযোগ।

মিলনের চাচাতো ভাই সালাম মিয়া বলেন, ‘৬০ কিলোমিটার দূর থেকে মরদেহ কারাগারে আনতে হয়েছে। এই সময় দাফন-কাফনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমাদের ছুটতে হয় কারাগারে।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল মোমেন ভূঁইয়া তুহিন বলেন, মিলন মিয়া কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও নেই। তিনি কোনো রাজনৈতিক পদে নেই এবং কোনো মামলায় নামীয় আসামিও নন। সন্দেহের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একটি মামলায় জামিন পেলেও পরে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার রীতেশ চাকমা আজকের পত্রিকাকে বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারের গেটে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অপর দিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত