Ajker Patrika

কিশোরগঞ্জ হোসেনপুর

৩ বছর ধরে লোকসান গুনছেন আলুচাষিরা

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি 
আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১২: ০৩
৩ বছর ধরে লোকসান গুনছেন আলুচাষিরা
ঝুড়িতে বড় বড় আলু বেছে তুলছেন কৃষক। গত সোমবার হোসেনপুরের আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের চর জামাইল এলাকায় তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

কিশোরগঞ্জ হোসেনপুরে তিন বছর ধরে আলু চাষ করে লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের। প্রতিবছর আলুর উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারদর কম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা। এ ছাড়া স্থানীয় কোনো হিমাগার না থাকায় আলু সংরক্ষণের উপায় তাঁদের নেই। আলু সংরক্ষণের জন্য কিশোরগঞ্জ ও পাকুন্দিয়ায় হিমাগারে নিতে গিয়ে লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়ছে কৃষকের।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ৪১০ হেক্টর জমিতে ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, এসটেরিক্স ও স্পিড জাতের আলু চাষ করা হয়েছে। প্রায় ১১ হাজার টন আলু উৎপাদন হলেও এসব আলু সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় কোনো হিমাগার না থাকায় মাড়াই মৌসুমে চাষিরা কম দামে তা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

হোসেনপুর উপজেলার জিনারী, সিদলা ও আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকা আলু চাষের জন্য বেশ উপযোগী।

গত সোমবার (৩০ মার্চ) সরেজমিন আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের চর জামাইল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সংরক্ষণের অভাবে শত শত মণ আলু এখনো খোলা আকাশের নিচে কিংবা টিনের চাল দেওয়া ঘরে পড়ে রয়েছে। এ সময় অন্তত ১৫ জন আলুচাষির সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দুর্দশার কথা জানতে পারা যায়।

চর জামাইল এলাকার কৃষক হারুন-অর-রশিদ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) একজন নিয়মিত আলুচাষি। তিনি ছয় একর জমিতে আলু চাষ করেছেন। কৃষক মজিবুর রহমান ১২ একর জমিতে, রাসেল মিয়া মিয়া সাত একর জমিতে, রবিউল আলম চার একর, খাবিরুল ইসলাম পাঁচ একর জমিতে আলু চাষ করেছেন। তাঁরা জানান, বিএডিসি অফিস থেকে চুক্তি মোতাবেক একর প্রতি বীজ, সার বাবদ ৬৭ হাজার টাকা পেয়েছেন। তাঁদের উৎপাদিত আলু থেকে পাঁচ টন করে আলুবীজ নেওয়ার কথা থাকলেও সাড়ে চার টন করে আলুবীজ নেওয়া হচ্ছে। বাকি আলুগুলো বাজারে ৫৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আলুচাষিরা বলছেন, তাঁদের জমি চাষ, সেচ, সার, রোপণ খরচ বাবদ একরপ্রতি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মতো খরচ পড়ে। চুক্তি মোতাবেক উৎপাদন খরচ হিসেবে যে টাকা পান তাতে সম্পূর্ণ কুলায় না। বীজের পরিমাণ যদি আরও বেশি পরিমাণে দেওয়া হতো তা হলে কৃষকদের লোকসানের পরিমাণ কিছুটা হলেও কমতো।

কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি মণ আলুর উৎপাদন খরচ ৬০০ টাকা হলেও বাজারদর কম হওয়ায় লোকসান হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, প্রতি মণ আলুর বাজারদর ৮০০ টাকা হলে তাঁদের আর লোকসানের ঝুঁকিতে পড়তে হতো না।

আলু হিমাগারে সংরক্ষণের জন্য ৬৫ কেজির একটি পাটের বস্তা কিনতে এ বছর ১৮০ টাকা গুনতে হচ্ছে। এই বস্তাও আবার পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া কাছাকাছি কোনো হিমাগার না থাকায় আলু নিয়ে কিশোরগঞ্জ ও পাকুন্দিয়া নিয়ে যেতে হয়। সেখানে পরিবহন খরচ পড়ে বস্তা প্রতি ১০০ টাকা ও হিমাগারের ভাড়া গুনতে হয় বীজ আলুর জন্য ৪২০ টাকা করে। সব মিলিয়ে ৬৫ কেজি আলু সংরক্ষণ খরচই গুনতে হয় ৭০০ টাকা। এসব লোকসানের কথা চিন্তা করে বিগত বছর অনেক কৃষক তাঁদের হিমায়িত আলু ফিরিয়ে আনেননি।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ শেখ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, এ এলাকার কৃষকদের স্বার্থে স্থানীয়ভাবে অন্তত ৫০০ টন আলু ধারণ সক্ষমতাসম্পন্ন একটি হিমাগার স্থাপন করা উচিত। তা না হলে আগামীতে কৃষকেরা আলু চাষে আগ্রহ হারাবেন।

এ ব্যাপারে কথা বলতে কিশোরগঞ্জ বিএডিসি বীজ বিপণনের উপপরিচালক মো. নায়েব আলীকে ফোন করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। পরবর্তীকালে একাধিকবার ফোন দিলেও কল রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

প্রাথমিকেও চালু হচ্ছে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস

বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে আমরা কষ্ট পেয়েছি: ইরানি রাষ্ট্রদূত

২০২৬ সালের ঈদুল আজহা কবে, যা জানা গেল

কিশোরগঞ্জে যুবদল নেতার হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

‘ওকে লাথি মেরে বের করে দিন’—নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুদ্ধে পাঠাতে বললেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত