Ajker Patrika

ইসলামপুরে ভিজিএফ কার্ডের বরাদ্দ কম, ঈদে অর্ধলক্ষাধিক দরিদ্র বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা

এম কে দোলন বিশ্বাস ইসলামপুর (জামালপুর)
আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৬, ০৯: ১০
ইসলামপুরে ভিজিএফ কার্ডের বরাদ্দ কম, ঈদে অর্ধলক্ষাধিক দরিদ্র বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা
ফাইল ছবি

জামালপুরের ইসলামপুরে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি খাদ্যসহায়তা (ভিজিএফ) কর্মসূচিতে চাহিদার তুলনায় অনেক কম কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এ বছরের বরাদ্দ গত বছরের প্রায় এক-চতুর্থাংশ। এতে যমুনা–ব্রহ্মপুত্রসহ বিভিন্ন নদ-নদী ভাঙনকবলিত এ উপজেলার অন্তত অর্ধলক্ষাধিক দরিদ্র মানুষ ঈদের খাদ্যসহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। কম বরাদ্দের কারণে কার্ড বিতরণে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও।

উপজেলা ত্রাণ শাখা সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ভিজিডি অনুবিভাগের উপপরিচালক (ভিজিডি-২) কাজী মো. লিয়াকত হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে ইসলামপুর উপজেলায় ১৩ হাজার ৮৩৪টি পরিবারের জন্য ১৩৮ মেট্রিক টন ৩৪০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে পরিবারপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে।

অথচ গত ঈদুল ফিতরে উপজেলায় ৪৬ হাজার ৬১টি পরিবার ভিজিএফ কার্ড পেয়েছিল। সে হিসাবে এবার বরাদ্দ প্রায় চার ভাগের এক ভাগে নেমে এসেছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বরাদ্দ বাড়ার পরিবর্তে কমে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রতিনিধিরা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ভিজিএফ একটি সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি। এর মাধ্যমে অসহায়, ভূমিহীন, কর্মহীন, অতিদরিদ্র ও নদীভাঙন, বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সাময়িক খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে সুবিধাভোগীর তালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং জনসংখ্যা ও দারিদ্র্যের হার বিবেচনায় বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বসবাস করেন। ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৮২ হাজার ১০৩। যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও দশআনী নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল হওয়ায় এখানকার সিংহভাগ মানুষ দারিদ্র্যপীড়িত। জনপ্রতিনিধিদের দাবি, জনসংখ্যার ভিত্তিতে অন্তত ৬০ হাজার কার্ডের চাহিদা রয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোছা. নূর-এ শেফা বলেন, ‘১৩ হাজার ৮৩৪টি পরিবারের জন্য ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ হয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় কম। কেন কম বরাদ্দ হয়েছে, তা বলতে পারছি না।’

বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়ন যমুনা নদীভাঙনকবলিত। গত বছর চার হাজারের বেশি পরিবার সহায়তা পেয়েছে। এবার বরাদ্দ কমে যাওয়ায় মাত্র এক হাজার পরিবারকে চাল দেওয়া যাবে। এতে আমরা চরম বিব্রত।’

কুলকান্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান আনিছ বলেন, ‘চরাঞ্চল হওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষের সংখ্যা বেশি। এমন এলাকায় বরাদ্দ কমানো যুক্তিযুক্ত নয়। বরাদ্দ বৃদ্ধি করা জরুরি।’

সাপধরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহালম মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ অতিদরিদ্র। তাঁরা ঈদের ভিজিএফ চালের অপেক্ষায় থাকেন। এবার অনেকেই বঞ্চিত হবেন।’

উপজেলা পরিসংখ্যান তদন্তকারী মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী ইসলামপুর উপজেলার জনসংখ্যা ৩ লাখ ১৯ হাজার ৭৫৮। জনসংখ্যা এবং অর্থনৈতিক শুমারির তথ্যাদি যথারীতি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছি। তবে কী কারণে বরাদ্দ কম অনুমোদন হয়েছে, সেটা বলতে পারছি না।’

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুসাইন বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে।’

জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু বলেন, ‘কম বরাদ্দের বিষয়টি আগে জানতাম না। এখন জেনেছি। বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত