Ajker Patrika

সুদের টাকা আদায় করতে নির্যাতন ও খুন, গ্রেপ্তার ৬

গাজীপুর (শ্রীপুর) প্রতিনিধি
সুদের টাকা আদায় করতে নির্যাতন ও খুন, গ্রেপ্তার ৬
আতিকুল ইসলাম। ছবিঃ সংগৃহীত

সুদের টাকা আদায়ের জন্য গাজীপুরের শ্রীপুরে আতিকুল ইসলাম নামে এক মাছ বিক্রেতাকে মোটরসাইকেলে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। হত্যার আলামত নষ্ট করতে গভীর জঙ্গলে নিয়ে মরদেহ জ্বালিয়ে দেয় খুনিরা। চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে শ্রীপুর মডেল থানা-পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৭মার্চ) দুপুরে গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) মিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আতিকুল (১৮) ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের মো. তাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ গ্রামে জনৈক মাইনুদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থেকে ফেরি করে মাছ বিক্রি করতেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন ইমরান হাসান (২৪), টুটুল হাসান (২০), নাজমুল (৩৫), কামাল হোসেন (৩২), রুহানুল ইসলাম রুহান (২৩) ও আকবর (২৯)।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা এলাকার বৃন্দাবন এলাকার গভীর জঙ্গলের পাশ থেকে আগুনে পোড়ানো এক অজ্ঞাত পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের গলায় পোড়া কাপড় প্যাঁচানো এবং চন্দ্রাকৃতির দাগ দেখা যায়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত জব্দ করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য মরদেহটি গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মরদেহটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। তিনি জানান, এ ঘটনায় শ্রীপুর থানা-পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এ বি এম রুহুল কাইয়ুম বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় উপপরিদর্শক (এসআই) মো. লালচাঁন মিয়াকে।

সহকারী পুলিশ সুপার জানান, মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় একটি বিশেষ আভিযানিক দল গঠন করা হয়। পরবর্তী সময় প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ইমরান হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদে নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামি নাজমুল পরিচালিত একটি সমিতি থেকে আতিকুল নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে লক্ষাধিক টাকা ঋণ নেন। সেই ঋণের টাকা পরিশোধ না করে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীকালে আসামিরা আতিকুলের অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে ধরে এনে শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ এলাকায় নাজমুলের বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মরদেহটি কাঁঠালপাতাভর্তি একটি বস্তায় ভরে উপজেলার টেংরা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বস্তার ওপর পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

নিহতের মা ফজিলা বেগম বলেন, ‘গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় ওরা। এরপর ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলেও ওরা দেয়নি। শুধু জানায় সে সুস্থ আছে, ভালো আছে। টাকা দিলে ছেড়ে দেবে। কিন্তু ওরা আমার ছেলেকে ধরে আনার কয়েক দিন পর মেরে ফেলে। আমার ছেলে মাছ ব্যবসা করার জন্য তাদের সমিতি থেকে এক লাখ টাকা লোন নেয়। সুদ হিসেবে কয়েক লাখ টাকা দেয়। তবুও ওরা আসল টাকার জন্য অনেক চাপ দেয়। ছেলে তাদের ভয়ে বাড়িতে চলে আসে। কিন্তু তারা এখানে এসে ছেলেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে মোবাইল ফোনে একটি পোড়া লাশের ছবি দেখে সন্দেহ হলে পুলিশকে ঘটনা বলি। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করলে আসল ঘটনা জানি। আমার সোনা মানিককে কত কষ্ট দিয়ে মেরেছে ওরা।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

দুই বছরের কন্যাকে নিয়ে ২৩ তলা থেকে বাবার ঝাঁপ, দুজনেরই মৃত্যু

সব লঞ্চার ‘ধ্বংসের’ পরও এত ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র কীভাবে ছুড়ছে ইরান, আর কত অবশিষ্ট

১৯ বছর পর চাকরি ফিরে পেলেন পুলিশের ৩৩০ এসআই ও সার্জেন্ট

ইরান এতগুলো দেশে হামলা চালাবে ভাবিনি, আমরা হতবাক: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ বিলিয়ন ডলারের রণতরিতে ৩০ ঘণ্টা ধরে আগুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত