Ajker Patrika

কিশোরের ৩৮ টুকরা কঙ্কাল: হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন দাবি পিবিআইয়ের

উত্তরা-বিমানবন্দর (ঢাকা) প্রতিনিধি 
আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬: ২০
কিশোরের ৩৮ টুকরা কঙ্কাল: হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন দাবি পিবিআইয়ের
নিহত মিলন হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

​সাভারের আশুলিয়া মডেল টাউন এলাকা থেকে এক কিশোরের ৩৮ টুকরা হাড় ও কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নগদ টাকার প্রয়োজনে অটোরিকশা ছিনতাই করতে ১৫ বছরের মিলন হোসেনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই। এ ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে।

রাজধানীর উত্তরায় ঢাকা জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।

মিলন হত্যায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা। ছবি: আজকের পত্রিকা
মিলন হত্যায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

পুলিশ সুপার জানান, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় মিলন। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর ১৮ নভেম্বর আশুলিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন মিলনের মা জোসনা বেগম। এর কিছুদিন পর ১ ডিসেম্বর আশুলিয়া মডেল টাউনের একটি কাঁশবন থেকে অজ্ঞাতনামা কঙ্কাল ও কাপড় উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তী সময় কাপড় দেখে মিলনকে শনাক্ত করেন তাঁর স্বজনেরা। আদালতের নির্দেশে চলতি মাসের ১ জানুয়ারি মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই ঢাকা জেলা।

এসপি মোর্শেদ বলেন, ‘পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে, ঘটনার দিন আসামি সুমন ও রনি মিয়া মিলে মিলনের অটোরিকশাটি ভাড়া করে আক্রান বাজার এলাকায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে ফুসলিয়ে আশুলিয়া মডেল টাউনের নির্জন কাশবনে নেওয়া হয়। সেখানে তারা একত্রে গাঁজা সেবন করে এবং একপর্যায়ে মিলনকে গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ কাশবনে ফেলে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।’

উদ্ধার করা মিলনের অটোরিকশা। ছবি: আজকের পত্রিকা
উদ্ধার করা মিলনের অটোরিকশা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঢাকা জেলার পিবিআই অভিযান চালিয়ে ১৬ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সাভারের আকরান বাজার থেকে মূল আসামি মো. রনি মিয়াকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অটোরিকশা কেনাবেচায় জড়িত মো. এরশাদ আলী (৩৪) ও অটোরিকশা গ্যারেজ মালিক মো. আবুল কালামকে (৫২) গ্রেপ্তার করা হয়।

​আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, মাত্র ৬২ হাজার টাকায় তাঁরা অটোরিকশাটি বিক্রি করে দেয় এবং ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচতে অটোরিকশার রং পরিবর্তন করে ফেলা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে বলেও জানান এসপি মোর্শেদ।

​পিবিআই জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামি সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা-পুলিশ। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত