Ajker Patrika

ঢাকা-১৯ আসন: বিভক্ত জামায়াত, সুযোগ বিএনপির

অরূপ রায়, সাভার 
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮: ০৯
ঢাকা-১৯ আসন: বিভক্ত জামায়াত, সুযোগ বিএনপির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের সিদ্ধান্তে ঢাকা-১৯ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ছেড়ে দিয়েছে। তবে জোটের আরেক শরিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেনি। ফলে প্রার্থী না থাকলেও জামায়াতের ভোট কোন বাক্সে গিয়ে পড়বে, এ নিয়ে চলছে আলোচনা। এই সমীকরণে বাড়তি সুবিধা পাবে বিএনপি—এমনটাই মনে করছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

দলীয়ভাবে জামায়াত এনসিপিকে সমর্থন দিলেও মাঠের চিত্র ভিন্ন। এলডিপির প্রার্থীর সক্রিয় উপস্থিতি জামায়াতের নেতা-কর্মী ও জামায়াতঘেঁষা ভোটারদের একটি অংশকে দ্বিধায় ফেলেছে। কেউ কেউ এনসিপির পরিবর্তে এলডিপিকেও বিকল্প হিসেবে দেখছেন। জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। তবে এনসিপি মনে করে, জামায়াতের ভোট তাদের বাক্সেই পড়বে। পাশাপাশি পরিবর্তনের পক্ষের ভোটাররা তাদেরই বেছে নেবে।

অপরদিকে বিএনপি মনে করে জামায়াত জোটের দুই প্রার্থী মাঠে থাকায় তাদের (বিএনপির) প্রার্থীর জয়ের পথ আরও সুগম হয়েছে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের মতে, জামায়াতের ভোট এনসিপি ও এলডিপির মধ্যে ভাগাভাগি হলে তাঁদের ভোট বাড়বে।

যদিও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ যাই হোক না কেন ভোটের মাঠের চিত্র অনেকটা ভিন্ন। কে প্রার্থী, জোটের সিদ্ধান্ত কী—এসব নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তেমন একটা আগ্রহ চোখে পড়েনি। বরং ভোট ও নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের অনীহা ও উদাসীনতা লক্ষ করা গেছে মানুষের মধ্যে।

এবারের নির্বাচনে ঢাকা-১৯ আসন থেকে মোট প্রার্থী হয়েছিলেন ৯ জন। তাঁদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আফজাল হোসাইন ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এ কে এম এনামুল হক প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। মাঠে লড়বেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, এনসিপির দিলশানা পারুল, জাতীয় পার্টির বাহাদুর ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সাবেক সেনা কর্মকর্তা চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীসহ আরও তিনজন।

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগে জামায়াতের আফজাল হোসাইন আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর আফজাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জোটগতভাবে এনসিপির প্রার্থীর পক্ষেই আমাদের কাজ করতে হবে।’

এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল বলেন, ‘আমি একজন মেয়ে প্রার্থী। আর এখানকার অধিকাংশ ভোটার পোশাকশ্রমিক, যাদের বড় একটা অংশ নারী ভোটার। এ ছাড়া হিউস পরিমাণে ইয়ং ও নতুন ভোটার রয়েছে এই আসনে, যারা পরিবর্তন চায়। মূলত এই ভোটাররাই আমার সম্বল।’

এ নিয়ে কথা হলে জামায়াতের ওয়ার্ড পর্যায়ের এক নেতা বলেন, দলের প্রার্থী না থাকায় অনেক নেতা-কর্মী এবং জামায়াতঘেঁষা ভোটারেরা কেন্দ্রেই যাবেন না। অনেকে কেন্দ্রে গেলেও এলডিপিকে ভোট দেবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তিনি নিজেও ভোটের দিন কেন্দ্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

সাভার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বদি বলেন, ‘জামায়াত মাঠে থাকলে আমাদের লড়াইটা একটু কঠিন হতো। জামায়াত তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় আমাদের প্রার্থীর বিজয় অনেকটা সহজ হয়ে গেছে।’

বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘যে দলের প্রার্থীই হোক আর সেই দল যত ছোটই হোক না কেন নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি সবাইকে সমান গুরুত্ব দেই। আমার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করি। তবে আমার অতীতের কর্মকাণ্ড, আমার এবং দলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা থেকে ভোটাররা আমাকে নির্বাচিত করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত