Ajker Patrika

ঢাকায় ১৭৭১টি ঈদ জামাত, বহুস্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৬, ১৪: ২৪
ঢাকায় ১৭৭১টি ঈদ জামাত, বহুস্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা
জাতীয় ঈদগাহ মাঠের নিরাপত্তায় ডগ স্কোয়াডের মহড়া। ছবি আজকের পত্রিকা

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকায় নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুতি। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, এবারের ঈদে রাজধানীর ১২১টি ঈদগাহ ও ১৫৯৯টি মসজিদে মোট ১৭৭১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই, তবে সতর্কতায় কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না।

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বরাবরের মতো এবারও জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়, যেখানে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যার প্রথমটি শুরু হবে সকাল ৭টায়।

মো. সরওয়ার আরও জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে ঢাকায় তিনটি ঈদ জামাত এবং শিয়া সম্প্রদায়ের আটটি জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠেও উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ঈদ জামাত আয়োজন করা হবে।

ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয়েছে ‘মাল্টি-লেয়ার সিকিউরিটি’ বা বহুস্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশের প্রতিটি গেটে বসানো হবে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর। পুরো ঈদগাহ এলাকা এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিএমপির পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।

ঈদগাহে প্রবেশের জন্য নির্ধারিত গেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নারীদের জন্য রাখা হয়েছে পৃথক প্রবেশপথ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঈদগাহের চারপাশে পুলিশের টহল জোরদার থাকবে। পাশাপাশি কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের ডগ স্কোয়াড, স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম এবং ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।

নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সোয়াট, সাদা পোশাকে ডিবি সদস্য এবং সিটিটিসির বিশেষ টিম ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় নজরদারিতে থাকবে। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার টেন্ডার ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। মৎসভবন, প্রেস ক্লাব, শিক্ষাভবনসহ আশপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ব্যারিকেড ও ডাইভারশন দেওয়া হবে। জিরো পয়েন্ট, হাইকোর্ট এলাকা, পল্টন ক্রসিংসহ আশপাশের সড়কগুলোতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা হবে। নির্ধারিত পয়েন্ট পর্যন্ত যানবাহন চলাচল সীমিত থাকবে এবং সেখান থেকে মুসল্লিদের হেঁটে ঈদগাহে প্রবেশ করতে হবে।

ডিএমপি কমিশনার মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশিতে সহযোগিতা করতে হবে, নির্ধারিত গেট ব্যবহার করতে হবে এবং কোনো ধরনের ব্যাগ বা সন্দেহজনক বস্তু সঙ্গে না আনার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। কেউ কোনো সন্দেহজনক কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত