Ajker Patrika

ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার জিসানের জন্য মেডিকেল বোর্ড

কুমিল্লা প্রতিনিধি
ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার জিসানের জন্য মেডিকেল বোর্ড
ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জিসান। ছবি: সংগৃহীত

ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধানের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা মূল্যায়নে চার সদস্যের একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে তিনি পুলিশ পাহারায় ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আজ রোববার দুপুরে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে আহ্বায়ক করে গঠিত বোর্ডে অ্যানেসথেসিয়া, নিউরো মেডিসিন এবং মনোরোগবিদ্যা বিভাগের একজন করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, আগামীকাল সোমবার সকাল ১১টায় বোর্ডের সদস্যরা জিসানকে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা সম্পর্কে মতামত দেবেন। জিসানের অসুস্থতার দাবি এবং তাঁর প্রকৃত শারীরিক অবস্থার মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, সেটিও বোর্ডের মূল্যায়নের আওতায় থাকবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তিনি চিকিৎসাধীন থাকলেও এখন পর্যন্ত বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর শরীরে উল্লেখযোগ্য বা গুরুতর কোনো শারীরিক জটিলতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বোর্ডের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী চিকিৎসা কিংবা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জিসানের পরিবার দাবি করছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক নয়। জিসানের ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল রাফি বলেন, “হাসপাতালে আমার বাবাই ভাইয়ের দেখাশোনা করছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। সে চোখ খুলতে পারছে না, ঠিকমতো কথা বলতে পারছে না। মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের সদস্যরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জানতে পারব।”

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই জিসানকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল বারিক বলেন, “ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জিসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা তাকে সুস্থ ঘোষণা করলে আদালতে হাজির করা হবে।”

ওসি আরও জানান, মামলার বাদী নারীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি তাঁর বাবার হেফাজতে রয়েছেন। এ ছাড়া ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে এবং সেই প্রতিবেদন তদন্তের অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর জিসানকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি উঠেছিল। তবে পরে কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানায়, তদন্তে অপহরণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এক নারীর দায়ের করা ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগের পরিণতি এড়াতে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরে লাকসাম এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে জিসানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনের দিকেও নজর রাখছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত