Ajker Patrika

বরগুনার তালতলী: খননে ৯ মরা খালে ফিরল প্রাণ

মনোতোষ হাওলাদার, বরগুনা
বরগুনার তালতলী: খননে ৯ মরা খালে ফিরল প্রাণ
পানি বয়ে চলেছে পুনঃখনন করা একটি খালে। সম্প্রতি বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নে। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি বছরের পর বছর পানির অভাবে অনাবাদি ছিল। ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম দিয়ে বয়ে যাওয়া ৯টি খাল পলি জমে ভরাট হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি এসব খাল পুনঃখনন করায় আশার আলো দেখছেন স্থানীয় কৃষকেরা। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এসব খাল ঘিরেই বদলে যাবে স্থানীয় কৃষকের ভাগ্য।

বরগুনা কৃষি বিভাগ বলছে, খালগুলো পুনঃখননের ফলে এক ফসলি জমি তিন ফসলিতে রূপান্তরিত হবে। পর্যায়ক্রমে জেলার বিভিন্ন মরা খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জানা গেছে, জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ প্রকল্পের অর্থায়নে তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়া সমবায় সমিতির আওতায় ১৭ হাজার ৫৫২ দশমিক ৫ মিটার খাল খননের প্রকল্প বাস্তবায়ন করে বরগুনা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী দপ্তর। খালগুলো হলো নলবুনিয়া খাল, চিলু মাঝির খাল, সুন্দরিয়া খাল, সুন্দরিয়া ব্রাঞ্চ খাল, তাঁতিপাড়া খাল, চামোপাড়া খাল, মৌরাবির খাল, বথিপাড়া খাল ও পাওয়াপাড়া-মাওয়াপাড়া খাল। প্রায় ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৮৮৩ টাকা ব্যয়ে এই ৯টি মরা খাল পুনঃখনন করা হয়।

নলবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ মিয়া বলেন, ‘শত বছর আগে এখানে বড় খাল ছিল। ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে খালগুলো মরে যায়। শুকনা মৌসুমে পানি না থাকায় চাষাবাদ করা সম্ভব হতো না। এমনকি পান করার পানিসহ দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজেও দেখা দিত তীব্র পানির সংকট। খালগুলো পুনরায় খনন করায় এখন প্রাণ ফিরে এসেছে জীববৈচিত্র্যে।’

সরেজমিনে নলবুনিয়া এলাকার পাওয়াপাড়া-মাওয়াপাড়া খালসহ আরও কয়েকটি প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এসব এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি একসময়ে পানির অভাবে অনাবাদি অবস্থায় পড়ে থাকত। প্রাকৃতিক বৃষ্টির পানিই ছিল এখানকার চাষাবাদের একমাত্র ভরসা। পুনঃখনন করায় সেই মরা খালে এসেছে পানি। খালে নতুন পানি আসায় কৃষকেরা যাঁর যাঁর জমিতে নালা কেটে সেচ দিচ্ছেন। একসময়ের এক ফসলি জমি এখন তিন ফসলি জমিতে পরিণত হচ্ছে। খালগুলোর দুই তীরের বিস্তীর্ণ মাঠ এখন বোরো ধানের সবুজ চারায় ছেয়ে গেছে।

শুধু ধান চাষই নয়, জেলার সবচেয়ে বেশি তরমুজের আবাদ হয় তালতলী উপজেলায়। নলবুনিয়া গ্রামের খালগুলো মরে যাওয়ায় এখানের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তরমুজ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও পানির সংকটে তরমুজ চাষ করতে পারতেন না এখানকার চাষিরা। কিন্তু খালগুলো খনন করায় এই অর্থনৈতিক চাকা ঘোরানো তরমুজ চাষে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

নলবুনিয়া এলাকার কৃষক আলী হোসেন মিয়া বলেন, ‘খালগুলো কাটায় এখন সারা বছর পানি পাব। এখন থেকে তিনবার চাষ করা সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে চলতি শুকনা মৌসুমে খালে পানি থাকায় আমরা বোরো ধানের আবাদ শুরু করেছি। কেউ কেউ তরমুজের আবাদ করেছেন।’

নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ‘নলবুনিয়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি এই এলাকায় ৯টি খাল খনন করেছে। আমি এই খাল খননের শুরু থেকে খেয়াল রেখেছি। একসময়ে এখানে এক ফসলি চাষ হতো। এখন আর সেটা হবে না। শুষ্ক মৌসুমে কৃষকেরা পানি পাবেন। আবার জলাবদ্ধতাও থাকবে না। এই এলাকার মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষি যদি হুমকিতে থাকে, তাহলে এই এলাকার মানুষ ধ্বংস হয়ে যাবে। আশা করি খালগুলো খননের ফলে নতুন পানি আসায় এই পরিবারগুলো রক্ষা পাবে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ইলিয়াস বলেন, ‘নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ৯টি খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। তালতলীতে পানির সমস্যা তীব্র ছিল, বিশেষ করে বোরো ধান ও তরমুজ আবাদের ক্ষেত্রে পানির খুব প্রয়োজন হতো। খালগুলো খনন হওয়ায় পানির সমস্যা থেকে চাষিরা উপকৃত হয়েছেন। পর্যায়ক্রমে তালতলীর গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো খনন করা হবে।’

তালতলী উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘নলবুনিয়া এলাকায় জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ প্রকল্পের আওতায় ৯টি খাল খনন করা হয়েছে। এই খালগুলো খননের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য ও কৃষিকাজে উন্নয়ন সাধিত হবে এবং এসব এলাকার মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। খাল খননের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবি: বেঁচে ফিরলেন খোকসার খাইরুল, ছিনিয়ে নিয়েছে মোবাইল ফোন

সোনার দাম দীর্ঘমেয়াদি পতনে যাচ্ছে

‘ডিপ স্টেট’ ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল: আসিফ মাহমুদ

বৈশ্বিক ‘রেপ একাডেমির’ পর্দা ফাঁস, স্ত্রীকে ধর্ষণ শেখান স্বামীরা

স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গীতা পাঠে জামায়াত এমপির ‘বারণ’, শোনেননি ইউএনও

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত