Ajker Patrika

আনোয়ারায় স্কুল ফিডিং

প্রথম দিনেই ৪০ স্কুলের শিক্ষার্থীরা খাবার পায়নি

  • উপজেলায় ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২২ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।
  • কর্মসূচি শুরুর প্রথম দিনেই ৪০টি বিদ্যালয়ের ১০ হাজার শিক্ষার্থী পুষ্টিকর এই খাবার পায়নি।
  • দীর্ঘ অপেক্ষা করেও খাবার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ শিক্ষার্থীদের।
কর্ণফুলী(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রথম দিনেই ৪০ স্কুলের শিক্ষার্থীরা খাবার পায়নি

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বর্তমানে ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২২ হাজার। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গতকাল রোববার উপজেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শুরু করেছে। তবে প্রথম দিনেই ৪০টি বিদ্যালয়ের অন্তত ১০ হাজার খুদে শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার পায়নি।

খাবার না পাওয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ, অসন্তোষ বিরাজ করছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে এসব শিক্ষার্থী খাবার পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ঠিকাদারের অভিযোগ, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্কুলশিক্ষকদের সহযোগিতা পাননি।

গতকাল সকালে আনোয়ারা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কর্মসূচির প্রথম দিন ছিল। বিদ্যালয়ে ৩৭০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও দুপুরে ৩০২ জনের জন্য খাবার সরবরাহ করে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য দুটি বনরুটি ও একটি সেদ্ধ ডিম দেওয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বদেশ পল্লী উপজেলাটিতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার সরবরাহের এই কার্যাদেশ পেয়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদসংলগ্ন অগ্রযাত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরস্বতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুধকুমড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ গহিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব গহিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় ৪০টির বেশি বিদ্যালয়ে কোনো খাবার পৌঁছায়নি। যেসব স্কুলে খাবার সরবরাহ করা হয়েছে, সেগুলোতে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে খাবার পাঠানো হয়। ফলে তখন অনেক শিক্ষার্থী বাসায় চলে গেছে। দুটি খাবারের মধ্যে কোনো বিদ্যালয় পেয়েছে একটি। এর মধ্যে বনরুটিতে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ লেখা ছিল না।

আনোয়ারা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রোমেনা আক্তার খানম বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে ৩৭০ শিক্ষার্থীর জন্য খাবার পাঠিয়ে ৩০২ জনের জন্য। খাবারে দুটি বনরুটি ও এটি সেদ্ধ ডিম দিয়েছে। বাকি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে জানতে চাইলে ২০২৫ সালের শিক্ষার্থীর তালিকা অনুযায়ী খাবার দেওয়া হয়েছে বলে ঠিকাদার জানান।’

আনোয়ারা সরস্বতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরূণ কুমার গুপ্ত বলেন, ‘স্বদেশ পল্লীর নিয়োজিত কর্মীরা শিক্ষার্থীদের খাবার দিতে পারেননি। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষে বাড়িতে চলে গেছে। নিয়োজিত ঠিকাদারের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সুফল মেলেনি। এতে প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়েছে।’

সরস্বতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিন ইসলাম বলে, ‘আমরা সকাল থেকে অপেক্ষায় ছিলাম, আজ খাবার পাব। যখন স্কুল ছুটির সময় হয়ে গেছে, তথনো খাবার আসেনি।’

আনোয়ারায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার সরবরাহে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বদেশ পল্লীর সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল, আগের দিনই প্রতিটি স্কুলে খাবার পৌঁছে দেব; কিন্তু শিক্ষা অফিস এবং স্কুলের শিক্ষকেরা কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ছিল, স্কুলে ২ ঘণ্টার মধ্যে খাবার পৌঁছানোর। কিন্তু প্রথম দিন সড়কে যানজটের কারণে একটু সমস্যা হয়েছে। আশা করি, আগামীকাল (সোমবার) থেকে এমনটি হবে না।’

শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে এবং ঝরে পড়া রোধে সপ্তাহের পাঁচ দিন দুপুরের খাবার দিতে সরকার এ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

আনোয়ারা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হিন্দোল বারী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সরকার ও বিশ্বখাদ্য কর্মসূচির সহযোগিতায় আনোয়ারার ১১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীকে রুটিন অনুযায়ী কলা, বনরুটি, সেদ্ধ ডিম, ইউএইচটি তরল দুধ ও পুষ্টিকর বিস্কুট দেওয়া হবে। আজকের (রোববার) মেনুতে ছোট দুটি বনরুটি এবং একটি সেদ্ধ ডিম ছিল।’

কর্মসূচির প্রথম দিনেই সব শিক্ষার্থী খাবার না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে হিন্দোল বারী বলেন, ‘প্রথম দিনে ৪০টি বিদ্যালয়ের ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী খাবার পায়নি। এ বিষয়ে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কয়েকবার চেষ্টা করেও কোনো সুফল মেলেনি। আমরা বিষয়টি লিখিতভাবে মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা বোর্ডকে জানিয়েছি। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত