Ajker Patrika

গরু লুটে বাধা দেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি, মৃত সন্তান প্রসব

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪: ৪৫
গরু লুটে বাধা দেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি, মৃত সন্তান প্রসব

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় গরু লুটের সময় বাধা দেওয়ায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ লোকজনের বিরুদ্ধে। এতে তীব্র ব্যথার পর তিনি মৃত কন্যাসন্তান প্রসব করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা মা ও নবজাতককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসক নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন এবং রোকেয়াকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেন। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের হাটনাইয়া আলীপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর নাম রোকেয়া আক্তার (৩৮)। তিনি উপজেলার হাটনাইয়া আলীপুর গ্রামের ওলিউল্লাহর স্ত্রী। আগামী ১৫ এপ্রিল রোকেয়ার সন্তান প্রসবের তারিখ ছিল বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় শুক্রবার রাতে ওলিউল্লাহর ভাতিজা আবুল বাশার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।

এতে একই গ্রামের আংগুর মিয়া (৩২), রফিকুল ইসলাম (৩৩), তরিকুল মিয়া (৩৫), আনসার মিয়া (২২), মজিবর মিয়াসহ (৫০) ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৪ মার্চ ওলিউল্লাহর ভাগনের হাঁস নেমে আংগুর মিয়ার ডোবার পানি ঘোলা করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষের সময় আংগুর মিয়ার লোকজন হাঁস লুট করে নিয়ে যায়। পরে এই ঘটনায় আংগুর মিয়ার পক্ষ থেকে করা মামলায় ওলিউল্লাহসহ তাঁর পরিবার ও আত্মীয়দের আসামি করা হয়। এর পর থেকে ওলিউল্লাহর পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে থাকেন পুলিশের ভয়ে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে ওলিউল্লাহর বাড়িতে পুলিশ গিয়ে তাঁদের ধরতে অভিযান চালায়। কাউকে না পেয়ে পুলিশ চলে আসে। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে আংগুর মিয়াসহ ১৫-২০ জন ওলিউল্লাহর বাড়িতে হামলা চালায় এবং গরু লুট করতে চেষ্টা করে। তবে পুরুষ সদস্য না থাকায় ওলিউল্লাহর ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রোকেয়া গরু লুটে তাঁদের বাধা দেন। এ সময় আংগুর মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে রোকেয়ার পেটে লাথি মারেন। অন্যরাও তাঁকে কিলঘুষি মেরে আহত করেন। ওই সময় পেটের তীব্র ব্যথায় চিৎকার শুরু করেন রোকেয়া। এতে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। এর কয়েক ঘণ্টা পর মৃত সন্তান প্রসব করেন রোকেয়া। পরে মা ও নবজাতককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন। আর রোকেয়াকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেন।

ওলিউল্লাহ বলেন, ‘এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। আমি এর বিচার চাই। এর আগে ওরা আমাদের হাঁস লুট করেছে। পিটিয়ে জখম করে উল্টো মিথ্যা মামলায় আসামি করেছে। আমাদের পালিয়ে থাকার সুযোগে গভীর রাতে গোয়ালের গরুগুলো লুট করতে গেছে। বাধা দেওয়ায় আমার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে গর্ভের সন্তানকে হত্যা করেছে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুন মিয়া বলেন, ‘আংগুর মিয়ার লোকজন বলছে ঘটনা মিথ্যা। আর ওলিউল্লাহর লোকজন বলছে ঘটনা সত্য। এই বিষয়টা নিয়ে এলাকায় দুইটা পক্ষ তৈরি হয়েছে। তাই প্রকৃত ঘটনা বোঝা যাচ্ছে না। পুলিশ তদন্ত করে ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন করবে আশা করছি।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আংগুর মিয়া বলেন, ‘আগের একটি ঘটনায় আমার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ায় এলাকায় থাকি না। আগের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এটি একটি সাজানো নাটক। আমাদেরকে ফাঁসাতেই এই নাটক সাজানো হচ্ছে।’

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, খবর পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জিয়ার নাম না বলায় বিএনপির স্বাধীনতার অনুষ্ঠান বর্জন, ইউএনও বদলি

ইরানের প্রেসিডেন্টের পুত্র ইউসেফ পেজেশকিয়ানের ডায়েরিতে উঠে এল যুদ্ধের চিত্র

টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুসহ নিহত ৫

আমির হামজার বিস্ফোরক মন্তব্য: ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী টুকু নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’

দুই চীনা জাহাজ আটকে দিল ইরান

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত