Ajker Patrika

এবার ইরানের ‘খারগ দ্বীপ’ চান ট্রাম্প, যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
এবার ইরানের ‘খারগ দ্বীপ’ চান ট্রাম্প, যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
স্যাটেলাইটের ছবিতে ইরানের খার্গ দ্বীপ। ছবি: সংগৃহীত

পারস্য উপসাগরে চলমান সংঘাতের তৃতীয় সপ্তাহে এসে যুদ্ধের লক্ষ্য ও গতিপ্রকৃতিতে এক আমূল পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। আমেরিকার মূল লক্ষ্য এখন ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা পারমাণবিক চুক্তির গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালি’র নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দিকে মোড় নিয়েছে।

বিশ্বের মোট তেলের ১৫ শতাংশ এবং কাতারের এলএনজি রপ্তানির ২০ শতাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান বর্তমানে এই রুট কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন এই রুট ‘মুক্ত ও নিরাপদ’ করার ঘোষণা দিলেও ভৌগোলিক কারণে ইরান এখানে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। মাত্র ৫৪ কিলোমিটার চওড়া এই প্রণালি পাহাড়বেষ্টিত হওয়ায় মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষে পাহারা দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ পার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চীন বা ফ্রান্সের মতো দেশগুলোও তাদের যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে এই দ্বন্দ্বে জড়াতে আগ্রহী নয়।

হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন বিকল্প রণকৌশল হিসেবে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখলের পরিকল্পনা করছেন। ১৩ মার্চ আমেরিকা এখানে কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও মাইন মজুতকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। যদিও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কায় তেল স্থাপনাগুলো অক্ষত রাখা হয়েছে, তবে মার্কিন মেরিন ফোর্সের জাপানি ইউনিটকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করায় এই দ্বীপ দখলের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যেতে পারে বলে মনে করেন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় কুয়েত, বাহরাইন ও কাতার তাদের জ্বালানি রপ্তানি করতে পারছে না। তবে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিতসাগর ও ফুজাইরাহ বন্দর দিয়ে তেল সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা করছে। ইরান এখন এই পাইপলাইন ও বিকল্প বন্দরগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। ১৪ মার্চ ফুজাইরাহ বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা এবং সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ক্রমাগত ড্রোন বর্ষণ তারই ইঙ্গিত দেয়। এ ছাড়া ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লোহিতসাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য উসকে দিতে পারে তেহরান।

সৌদি আরব ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে, তাদের তেল স্থাপনায় আঘাত হানলে তারা সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে বাধ্য হবে। ইরান একদিকে যেমন যুদ্ধ থামানোর জন্য বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে ট্রাম্প তাঁর কঠোর অবস্থান বজায় রাখছেন। এশিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশ জ্বালানি সাশ্রয়ে চার দিনের কর্মদিবস বা এসি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। যদি এই সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হয়, তবে এটি কেবল ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে গ্রাস করতে পারে।

তথ্যসূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এনসিপি নেতারা গণভোট নিয়ে অর্ধেক বুঝেছেন: আইনমন্ত্রী

ইসরায়েলে শব্দের ১২ গুণ গতির ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ নিক্ষেপ ইরানের, বৈশিষ্ট্য কী

আটক ৩ ট্যাংকার ফেরত দিলে ভারতকে হরমুজে যাতায়াতের সুযোগে দেবে ইরান

র‍্যাবের নতুন ডিজি আহসান হাবীব, এসবি প্রধান নুরুল আমিন, সিআইডি প্রধান মোসলেহ উদ্দিন

সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য, ইউজিসিতে নতুন চেয়ারম্যান

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত