
একটি ছেলের সঙ্গে ফেসবুকে আমার পরিচয় হয়েছিল। দীর্ঘ দুই বছর সম্পর্ক করার পর দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে আমাদের বিয়ে হয়। ছেলের বাসা অন্য জেলায়। গত অক্টোবর মাসে সে আমার সঙ্গে ঝামেলা বাধায়। এরপর সে আমাকে এমন এক পরিস্থিতিতে ফেলে যে আমি আমার বাড়িতে জানাতে বাধ্য হই। এরপর আমার বাবা এসে আমাকে তার কাছে নিয়ে যায়। চার মাস ধরে সে আমার কোনো খোঁজখবর রাখছে না। আমি ঢাকাতেই থাকি।
সে আমাকে সামাজিকযোগাযোগের মাধ্যমসহ সব জায়গায় ব্লক করে রেখেছে। আমি বিভিন্নভাবে অনেকবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সফল হইনি। এখন আমি তাকে ডিভোর্স দিতে চাই। ডিভোর্স দেওয়ার পর কোনো ঝামেলা যাতে না হয়, তার জন্য আমি কীভাবে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারি? সে কি আমার ওপর উল্টো মামলা করে হয়রানি করতে পারে?
সাহারা নিতু, পঞ্চগড়
উত্তর: চার মাস কোনো খোঁজখবর না রাখা, সব জায়গা থেকে ব্লক করে দেওয়া—এগুলো মানসিক নির্যাতনের মধ্যে পড়ে। আপনি যদি নিশ্চিতভাবে ডিভোর্স বা তালাক দিতে চান, তাহলে আইনগতভাবে সঠিক প্রক্রিয়ায় এগোনো খুব গুরুত্বপূর্ণ, যাতে পরে কোনো ঝামেলা না হয়।
বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী একজন মুসলিম স্ত্রী নিজে থেকেই তালাক দিতে পারেন, যদি কাবিননামায় ‘তালাক-ই-তাফওয়িজ’-এর ক্ষমতা দেওয়া থাকে। তাই আপনার প্রথম কাজ হবে, কাবিননামা চেক করা। স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কি না, তা ১৮ নম্বর ঘরে সাধারণত উল্লেখ থাকে।
যদি দেওয়া থাকে, তাহলে আপনি সরাসরি তালাক কার্যকর করতে পারবেন নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায়। না থাকলে, আপনাকে আদালতের মাধ্যমে খুলা বা ডিক্রি ডিভোর্স নিতে হবে।ক্ষমতা থাকা সাপেক্ষে তালাকের সঠিক আইনি প্রক্রিয়া
» লিখিত তালাকনামা প্রস্তুত করুন।
» আপনার এলাকার সিটি করপোরেশন অথবা পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কিংবা কাজি অফিসে নোটিশ পাঠান।
» স্বামীর ঠিকানায় রেজিস্ট্রি ডাকযোগে কপি পাঠাতে হবে।
» নোটিশ দেওয়ার পর ৯০ দিন অর্থাৎ ইদ্দতকাল পার হলে তালাক কার্যকর হবে।
» এ সময়ের মধ্যে সালিস বা মীমাংসার চেষ্টা হতে পারে। তবে সে যোগাযোগ না করলে প্রক্রিয়া এগোবে।
» যদি কাবিনে তালাকের ক্ষমতা না থাকে, তাহলে আপনাকে পারিবারিক আদালতে মামলা করতে হবে। আপনি যেহেতু ঢাকায় থাকেন, সে ক্ষেত্রে ঢাকার পারিবারিক আদালতে মামলা করতে পারবেন।
কারণ হিসেবে যা কিছু উল্লেখ করতে পারেন—
» ভরণপোষণ না দেওয়া
» পরিত্যাগ
» মানসিক নির্যাতন
তিনি চাইলে উল্টো মামলা করতে পারেন। যেমন—
» দাম্পত্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা
» মিথ্যা অভিযোগে মামলা
» তবে আপনি যদি আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন এবং প্রমাণ থাকে (মেসেজ, ব্লক করা, যোগাযোগের চেষ্টা), তাহলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
ডিভোর্সের সময় আপনি দাবি করতে পারেন—
» দেনমোহর (মোহরানা)
» ইদ্দতকালের ভরণপোষণ
» বকেয়া ভরণপোষণ (যদি প্রমাণ থাকে)
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
» একজন ভালো ফ্যামিলি ল আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।
» সব প্রমাণ (মেসেজ, কললগ, ব্লক স্ক্রিনশট) সংরক্ষণ করুন।
» সরাসরি তার বাড়িতে না গিয়ে আইনি পথে এগোন।
পরামর্শ দিয়েছেন
ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন
অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

‘মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু যেন ভাই,/ ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই’—মায়ের হাতে বাঁধাই করা একটি ফ্রেমে লেখা এই উক্তি যেন তাঁর ভালোবাসারই প্রতিচ্ছবি।
১৬ ঘণ্টা আগে
‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার’—এ বছরের নারী দিবসের লক্ষ্যটি ঠিক এমন। মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত এক নোটিশে অন্তত সেটি উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএন উইমেনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিপাদ্যটি হলো ‘রাইটস, জাস্টিস, অ্যাকশন ফর অল উইমেন অ্যান্ড গার্লস’।
১৭ ঘণ্টা আগে
১৯৮৩ সাল। তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগার। চোখে কালো পট্টি বাঁধা এক গর্ভবতীকে ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রসবযন্ত্রণার মধ্যেই চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। এভাবেই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জন্ম নেয় একটি শিশু। নাম সাহর দেলিজানি। জন্মের পর কয়েক ঘণ্টা তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল মায়ের স্পর্শ পাওয়ার জন্য।
১৯ ঘণ্টা আগে
আইন ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল থাকা সত্ত্বেও দেশে ধর্ষণ প্রতিরোধ এবং দ্রুত বিচার সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ফোরাম (জেএনএনপিএফ) ও দুর্বার নেটওয়ার্ক। নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণ, হত্যার ঘটনাসহ সাম্প্রতিক সময়ের কিছু নারী নির্যাতনের ঘটনায় নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে গতকাল মঙ্গলবার...
১ দিন আগে