এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হওয়া পুরোনো জুতার বয়স প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর। এ জুতা পাওয়া যায় আর্মেনিয়ায়। জুতার ইতিহাস প্রাচীন হলেও আধুনিক শৈলীর জুতার বয়স আনুমানিক দুই শ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে জুতার বিভিন্ন উন্নয়নে ভূমিকা রাখে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ও সংস্কৃতির প্রচুর মানুষ। আজ তেমনই এক নারীর গল্প বলি, যিনি জুতার বিবর্তনের এই দীর্ঘ ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হওয়া একজন। তাঁর নাম নওরিন হাবিব। তাঁর প্রতিষ্ঠানের নাম সোয়াংকি গার্লস। সোয়াংকি শব্দের অর্থ চটপটে। আর গার্ল অর্থ মেয়ে বা কিশোরী। মূলত নারীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের জুতা তৈরি করেন নওরিন।
নওরিন ও তাঁর সোয়াংকি গার্লস
আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে স্থাপত্য বিষয়ে লেখাপড়া শেষ করে নওরিন শুরু করেন নিজের ব্যবসা। জুতা নিয়ে একটু বাড়তি ভাবনা ছিল তাঁর ছোটবেলা থেকেই। বিদেশে গেলে অন্য কিছু নিলেও এক জোড়া জুতা তাঁর চাই। রঙিন ও ট্রেন্ডি ডিজাইনের প্রতি ছিল তাঁর তীব্র আকর্ষণ। দেশে ফিরে দেখতেন জুতার ডিজাইনগুলো একঘেয়ে! তখনই মনে হতো জুতার ‘কিছু একটা বদলানো দরকার’।
সেই ভাবনা থেকে শুরু তাঁর সোয়াংকি গার্লসের পথ চলা। সেখানে নারীর চোখ দিয়ে নারীর প্রয়োজন ও স্টাইল দেখা হয়। এখন তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন আরও পাঁচজন। নওরিন দেখেন ডিজাইন ও বিপণন। তাঁর স্বামী সামলান অর্ডার ও ক্লায়েন্ট। আর বাকি তিনজন প্যাকিংয়ের কাজ করেন।
বোহিমিয়ান ঘরানা, বাঙালির ছোঁয়া
নওরিনের দাবি, সোয়াংকি গার্লসের জুতাগুলো শুধু আরামদায়ক নয়, সেগুলোর নকশায় ফুটে ওঠে বোহিমিয়ান ঘরানার ডিজাইন। ট্রেন্ডি লুক, নরম আর রঙের খেলায় ছোঁয়া প্রতি জোড়া জুতা যেন একেকটি ছোটগল্প বলে। নওরিন বলেন, ‘আমরা এমনভাবে ডিজাইন করি, যেন সব বয়সের নারীরা সেটা পরতে পারেন। ভার্সিটি গোয়িং, অফিস গোয়িং, এমনকি নিউ মম বা সিনিয়র নারীরাও আমাদের গ্রাহক।’ ডিজাইন যতই ইউনিক হোক, দামটা সব সময় সাধ্যের মধ্যে রাখার চেষ্টা করেন নওরিন। কারণ, তিনি চান তাঁর তৈরি জুতা সবার ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠুক। নওরিনের জুতার সর্বনিম্ন দাম ৮০০ টাকা আর সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০ টাকা।
উদ্যোক্তা বলে আত্মবিশ্বাসী
নওরিন বলেন, ‘একজন নারী হিসেবে আমি এই ইন্ডাস্ট্রিতে খুব আত্মবিশ্বাসী। আমার ভিশন, আমার অনুভব, আমার দেখার দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে আলাদা করে দেয়।’ তবে জুতার ব্যবসা এখনো ‘মেল ডমিনেটেড’ বা পুরুষের হাতেই বলে মনে করেন নওরিন। তিনি বলেন, ‘আমার ডিজাইনগুলো ট্রাডিশনাল থেকে আলাদা। ম্যাটেরিয়াল খুঁজে পাওয়া, কারিগরদের বোঝানো, ফ্যাক্টরি ম্যানেজ করা—সবকিছুই আসলে চ্যালেঞ্জের বিষয়।’ পরিবারও শুরুতে সংশয়ে ছিল। স্থাপত্য পেশা ছেড়ে কেউ কেন জুতা নিয়ে কাজ করবে? কিন্তু নওরিনের মধ্যে ছিল তীব্র এক প্যাশন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সংশয় দূর হয়েছে।
অনলাইনের শক্তি, অফলাইনের অপেক্ষা
সোয়াংকি গার্লস পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা। এখনো শোরুম নেই, কোনো মেলায়ও অংশ নেয়নি এখনো। নওরিন জানিয়েছেন, তাঁদের গ্রাহকেরা সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট দেখে আগ্রহী হন। আর তাঁরাও চেষ্টা করেন ইউনিক কনটেন্টের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছাতে। সে জন্যই হয়তো প্রতি মাসে তাঁদের কাছে ২০০ থেকে ২৫০ জোড়া জুতার অর্ডার আসে। নওরিনের কাছে ক্রেতাদের রিভিউ মূল্যবান।

কীভাবে নিয়মিত ক্রেতা তৈরি হয়? নওরিন শোনালেন এক মায়ের গল্প। তাঁর এক ক্রেতা একবার সোয়াংকি গার্লস থেকে জুতা কিনেছিলেন তাঁর মায়ের জন্য। নিখুঁত নকশায় তৈরি এ জুতা পরে তাঁর মায়ের পায়ের পুরোনো ব্যথা সেরে যায়। সেই ক্রেতা এখন নিয়মিতই সোয়াংকি গার্লস থেকে জুতা কেনেন।
এমন একেকটা গল্প তাঁর উদ্যোগের সার্থকতা বলে জানান নওরিন। ক্রেতা তো হয়েছে। এখন তাঁদের লক্ষ্য একজন ইনভেস্টর পাওয়া। যাতে ভবিষ্যতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে শোরুম খোলা যায়।
২০২০ সাল থেকে পথচলা শুরু সোয়াংকি গার্লসের। আগামী পাঁচ বছর নিজের উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে দেখতে চান নওরিন হাবিব। বাংলার রং, ছন্দ ও নারীর গল্পকে নিজের তৈরি পণ্যের সাহায্যে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার একটা তাগিদ আছে তাঁর ভেতর।

সম্প্রতি ‘ফোর্বস’ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ২৫ দানবীরের তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকার ২৫ জনের মধ্যে আছেন ছয়জন নারী। এই নারীরা কোনো আড়ম্বর ছাড়াই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সমাজসংস্কারে ব্যয় করছেন।
৫ দিন আগে
বাসার বাইরে এটাই আমার প্রথম রোজা। আমি এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। আমার গ্রামের বাড়ি খুলনায়। ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। রমজান মাসে ক্লাস বন্ধ না দেওয়ার কারণে আমি বাড়িতে যেতে পারছি না। কিন্তু আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে, মানসিকভাবে। কখনোই পরিবার ছাড়া এভাবে থাকা হয়নি কিংবা...
৫ দিন আগে
অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনার সময় নুসরাত জাহান নুহার শরীরে আক্রমণ করে মরণব্যাধি ক্যানসার। যে বয়সে একজন কিশোরীর জীবন এগিয়ে যাওয়ার কথা, সেই সময়ে তাঁর জীবন থেমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু নিজের অদম্য মনোবল আর পরিবারের পাশে থাকার শক্তি তাঁকে ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধে নেমে পড়ার শক্তি জোগায়।
৫ দিন আগে
১৩ দিন আগে সৌদি আরব থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দেশে ফিরেছিলেন রিজিয়া বেগম (৪০)। হাতে ছিল না পাসপোর্ট বা কোনো পরিচয়পত্র। চিনতে পারছিলেন না কাউকেই। অবশেষে ব্র্যাক অভিবাসন ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রযুক্তির সহায়তায় মিলেছে তাঁর পরিচয়।
৬ দিন আগে