নারীর নিরাপত্তা ও অধিকার প্রশ্নে বর্তমানে বাংলাদেশ এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। বিবিএস, ইউএনএফপিএ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাম্প্রতিক তথ্যমতে, ঘরে-বাইরে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীর প্রতি সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ঘরের ভেতরে এই নির্যাতনের মাত্রা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কিছুদিন পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেখানেও নারীদের প্রার্থিতা এবং অংশগ্রহণ নিয়ে মুখোমুখি হতে হচ্ছে কঠিন বাস্তবতার।
বিবিএস ও ইউএনএফপিএর ‘ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন সার্ভে-২০২৪’ এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিবাহিত নারীদের অর্ধেকের বেশি জীবনে অন্তত একবার শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জরিপে আরও উঠে এসেছে, ৬৮ শতাংশ নারী সঙ্গীর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত আচরণের শিকার হন, যা তাঁদের মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে। নির্যাতনের শিকার ৬২ শতাংশ নারী কখনোই তাঁদের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের কথা কাউকে জানান না। মাত্র ১২ দশমিক ৩ শতাংশ নারী ‘১০৯’ হেল্পলাইন সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের গত কয়েক মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালের শুরুতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার সংখ্যা বেড়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, নারী নির্যাতনের মামলায় সাজার হার মাত্র শূন্য দশমিক ৪২ শতাংশ। এই দীর্ঘ বিচারহীনতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। নারীবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে অন্তত ৮ দশমিক ৩ শতাংশ নারী ডিজিটাল ব্ল্যাকমেল এবং ইমেজ-বেজড অ্যাবিউজ কিংবা ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার শিকার। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নারীদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে, যা তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করছে।
শুধু আইন দিয়ে এ ধরনের পরিস্থিতি বদলানো কোনোভাবে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সচেতনতা, আইনের প্রয়োগ ও সামাজিক প্রতিরোধ। শহর থেকে গ্রামে প্রত্যেক নারীকেই জানতে হবে, নির্যাতনের শিকার হলে কোথায় অভিযোগ করতে হয়। এ ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে আইনি সহায়তার তথ্য পৌঁছানো জরুরি। আইনের ফাঁকফোকর বন্ধ করে অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচনের পর নতুনভাবে দেশ গঠনের স্বপ্ন দেখতে চাইলে নারীদের জন্য এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে অবশ্যই বের হয়ে আসতে হবে। সর্বোপরি নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ এবং চলাফেরার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে।
নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নারী ক্ষমতায়নের বিষয়টাকে রাজনৈতিক দলগুলো গুরুত্ব দিচ্ছে না। এটাই দৃশ্যমান হলো। ডা. ফওজিয়া মোসলেম, সভাপতি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে নারীর অবাধ চলাফেরা ও পোশাকের স্বাধীনতার ওপর নতুন করে আঘাত আসছে। ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন নারী কর্মীরা। ৫০টির বেশি দলের মধ্যে প্রায় ৩০টি দলেই কোনো নারী প্রার্থী নেই, যা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরে। রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন কিংবা রাষ্ট্র—কেউই নারীর বিষয়কে গুরুত্বসহকারে দেখছে না। অনেক আগে থেকে বলার পরেও এবারের নির্বাচনে এমন দৃশ্য দেখতে হলো বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। এর জন্য নারীর সম-অধিকারের আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এবারের নির্বাচনের আগে আর কোনো পথ খোলা নেই বলে জানান তিনি। ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি তো বটেই, আগামী রাষ্ট্রতন্ত্রও কতটা নারীর পক্ষে থাকবে, তা নিয়েও আমরা সন্দিহান।’ নির্বাচনের আগে নারী প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান ডা. ফওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন, মব ভায়োলেন্স, মোরাল পুলিশিংয়ের বিষয়গুলো আমরা বর্তমানে অনেক বেশি দেখছি।
তবে নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের সময় যেন নারী প্রার্থী এবং ভোটার এমন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার না হন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নির্বাচনের আগে যা হয়েছে, তা তো হয়েই
গেছে। কিন্তু নির্বাচনের সময় যেন নারীরা নিরাপদে ভোট দিতে পারেন, প্রার্থীরা যেন নিরাপদে থাকতে পারেন, সেই বিষয়ে নিশ্চয়তা দেওয়া নিয়ে আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করব।’

সম্প্রতি ‘ফোর্বস’ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ২৫ দানবীরের তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকার ২৫ জনের মধ্যে আছেন ছয়জন নারী। এই নারীরা কোনো আড়ম্বর ছাড়াই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সমাজসংস্কারে ব্যয় করছেন।
৫ দিন আগে
বাসার বাইরে এটাই আমার প্রথম রোজা। আমি এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। আমার গ্রামের বাড়ি খুলনায়। ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। রমজান মাসে ক্লাস বন্ধ না দেওয়ার কারণে আমি বাড়িতে যেতে পারছি না। কিন্তু আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে, মানসিকভাবে। কখনোই পরিবার ছাড়া এভাবে থাকা হয়নি কিংবা...
৫ দিন আগে
অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনার সময় নুসরাত জাহান নুহার শরীরে আক্রমণ করে মরণব্যাধি ক্যানসার। যে বয়সে একজন কিশোরীর জীবন এগিয়ে যাওয়ার কথা, সেই সময়ে তাঁর জীবন থেমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু নিজের অদম্য মনোবল আর পরিবারের পাশে থাকার শক্তি তাঁকে ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধে নেমে পড়ার শক্তি জোগায়।
৫ দিন আগে
১৩ দিন আগে সৌদি আরব থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় দেশে ফিরেছিলেন রিজিয়া বেগম (৪০)। হাতে ছিল না পাসপোর্ট বা কোনো পরিচয়পত্র। চিনতে পারছিলেন না কাউকেই। অবশেষে ব্র্যাক অভিবাসন ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রযুক্তির সহায়তায় মিলেছে তাঁর পরিচয়।
৬ দিন আগে