
যুগে যুগে রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, আর উলুখাগড়া হিসেবে আমরা ইন্টারনেটের ডেটা খরচ করে সেসব তামাশা দেখি। কিন্তু এবারের তামাশাটা একটু বেশিই ‘স্বর্গীয়’ হয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি কিনা নিজেকে ছাড়া আর কাউকেই খুব একটা গুরুত্ব দেন না, তিনি এবার এআইয়ের মাধ্যমে নিজেকে প্রায় ‘যিশু’র আসনে বসিয়ে দিলেন।
ঘটনাটা নিশ্চয়ই কানে এসেছে? ট্রাম্প সাহেব তাঁর মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা ছবি দিয়েছিলেন, যেখানে দেখা যায় তিনি শুভ্র পোশাকে (যিশুর মতো) এক অসুস্থ মানুষের মাথায় হাত রেখে অলৌকিক কায়দায় সারিয়ে তুলছেন। পেছনে আবার স্ট্যাচু অব লিবার্টি, যুদ্ধবিমান আর ইগল পাখির ওড়াওড়ি—মানে একদম ‘হলিউডি স্টাইল’ ত্রাণকর্তা!
ট্রাম্প যখন ছবিটি পোস্ট করলেন, তখন থেকেই তাঁর ইনবক্স আর কমেন্ট সেকশনে সম্ভবত আমাদের দেশের সেই কালজয়ী ট্রেন্ড আছড়ে পড়েছিল—‘ভাই, পোস্ট ডিলিট করেন, সমস্যা হবে!’ বাংলাদেশে যেমন কোনো বিপত্তি ঘটার আগেই শুভাকাঙ্ক্ষীরা (বা ভয় দেখানো পক্ষ) ইনবক্সে এসে এই সতর্কবার্তা দেয়, ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও সম্ভবত ডোনাল্ড জুনিয়র বা তাঁর উপদেষ্টারা ঠিক একইভাবে ইনবক্সে হানা দিয়েছিলেন। ট্রাম্প সাহেবও হয়তো ভাবলেন, ‘আইরিশ পোপের সঙ্গে পাঙ্গা নেওয়া যায়, কিন্তু ইন্টারনেটের এই “সমস্যা হবে” পাবলিকদের তো সামলানো দায়!’ তাই তো কয়েক ঘণ্টা যেতে না যেতেই ছবি গায়েব!
সমালোচনা যখন তুঙ্গে, তখন ট্রাম্পের ব্যাখ্যাটা ছিল আমাদের দেশের ‘ভুল হয়ে থাকলে, ক্ষমা করে দেবেন’ টাইপ পলিটিক্সকেও হার মানানোর মতো। তিনি বললেন, ‘আরে আমি তো যিশু সাজিনি, আমি ভেবেছিলাম এটা আমি “ডাক্তার” হিসেবে রোগীদের সেবা দিচ্ছি!’
বাঙালি হিসেবে এটা শুনে আমার আমাদের দেশের নির্বাচনী ইশতেহারের কথা মনে পড়ে গেল। নেতা যখন বলেন, ‘আমি দেশের সব সমস্যা এক তুড়িতে সারিয়ে দেব’, তখন আমরাও কনফিউজড হয়ে যাই তিনি কি পলিটিশিয়ান নাকি পীরে কামেল! ট্রাম্পের এই “ডাক্তার” তত্ত্বটা অনেকটা আমাদের সেই চিরচেনা ফর্মুলার মতো— “আই এম নট অ্যা করাপ্ট ম্যান, আই এম জাস্ট অ্যা হেল্পার।” মানে, ভুল যখন ধরা পড়ে গেছে, তখন একটা সাদা অ্যাপ্রন পরে নিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়!’
ট্রাম্প আবার পোপের ওপরও খেপেছেন। পোপ ইরান যুদ্ধের সমালোচনা করেছেন বলে ট্রাম্প তাঁকে ‘দুর্বল’ বলে গালি দিলেন। ট্রাম্পের যুক্তি, ‘পোপ সাহেব আপনি ক্রাইম বোঝেন না, আপনি ফরেন পলিসি বোঝেন না।’
আমাদের দেশে যেমন কোনো বড় নেতাকে কেউ একটু নীতি কথা শোনাতে গেলে বলা হয়, ‘আপনি তো ষড়যন্ত্রকারীদের লোক’, ট্রাম্পের আচরণ ঠিক তেমনই। তাঁর কাছে ধর্মগুরু বা পোপও নিরাপদ নন, যদি না তিনি ট্রাম্পের ইচ্ছায় সায় দেন। ট্রাম্প যেন বলতে চাচ্ছেন, ‘পোপ সাহেব, আপনি ভ্যাটিকানে বাইবেল পড়েন, হোয়াইট হাউসের টুইট নিয়ে জ্ঞান দিতে আইসেন না!’
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট থেকে ওবামা দম্পতিকে নিয়ে একটা আপত্তিকর ভিডিও পোস্ট হয়েছিল বেশ আগে। তখন হোয়াইট হাউস থেকে বলা হলো, ‘স্টাফ, ভুল করে পোস্ট করেছে।’
এই ‘ভুল করে স্টাফের পোস্ট’ থিওরিটা তো ইন্টারন্যাশনাল! বাংলাদেশেও তো আমরা দেখি, কোনো বিতর্কিত কিছু ঘটলে বলা হয়, ‘ভাইরাল ভিডিওটা তো ফেইক’ অথবা ‘আইডি হ্যাক হয়েছে’। ট্রাম্পের স্টাফরা কি তবে বাংলাদেশি সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট কোর্স করে গেছেন? নাকি ট্রাম্পের পাসওয়ার্ডও আমাদের দেশের সেই ‘হ্যাক হওয়া’ নেতাদের মতো সবার কাছে বিলি করা থাকে?
ট্রাম্পের এই ডিজিটাল ‘লীলা’ দেখে শুধু একটাই কথা মনে হয়—নেতা আমেরিকান হোক বা আমাদের পাশের বাড়ির, তাঁরা যখন নিজেদের ‘অতিমানব’ ভাবতে শুরু করেন, তখন ‘এআই’ও তাঁদের বাঁচাতে পারে না।

পুরোনো লোহার রেল সেতু চুরির পর এবার ভারতের বিহারে আস্ত একটি মোবাইল টাওয়ার চুরি হয়ে গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের বক্সার জেলায়...
১১ ঘণ্টা আগে
টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন চীনের এক ব্যক্তি। সব প্রস্তুতি শেষে যখন ফ্ল্যাটটি বুঝে নেওয়ার সময় এল, তখনই ঘটল চরম বিস্ময়কর এক ঘটনা। ক্রেতা জানতে পারলেন, যে বহুতল ভবনের ৩৪তম তলায় তিনি ফ্ল্যাট কিনেছেন, পুরো ভবনটিই আসলে ৩২ তলা!
৬ দিন আগে
হলিউডের বিখ্যাত হরর চলচ্চিত্র ‘অরফ্যান’-এর গল্পের মতোই এক রুদ্ধশ্বাস ও অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে ব্রাজিলে। ১২ বছর বয়সী এক অটিস্টিক শিশুকে দত্তক নেওয়ার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল একটি পরিবার।
৬ দিন আগে
ভারতে এক যুবকের অদ্ভুত অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, একটি রানি মৌমাছি তাঁর প্যান্টে বসে পড়ার পর হাজার হাজার মৌমাছি তাঁকে ঘিরে ফেলে। সম্ভাব্য বিপদের মুখে তিনি প্রায় ৩০ মিনিট সম্পূর্ণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত কোনো হুলের আঘাত...
১৩ দিন আগে