Ajker Patrika

হিউম্যানয়েড রোবটের বিশ্ববাজারে চীনের আধিপত্য

ফিচার ডেস্ক
হিউম্যানয়েড রোবটের বিশ্ববাজারে চীনের আধিপত্য
ছবি: পেক্সেলস

সম্প্রতি চীনের বসন্ত উৎসবের মঞ্চে হিউম্যানয়েড রোবটদের কুংফুর কসরত দেখে বিশ্ববাসী চমকে উঠেছে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই স্পেনের মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে নিজেদের প্রথম হিউম্যানয়েড রোবট উন্মোচনের ঘোষণা দিয়েছে চীনা মোবাইল ফোন নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান অনার। একসময় যা শুধু কল্পবিজ্ঞান ছিল, এখন সেটা বাস্তব রূপ পাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উন্নত হার্ডওয়্যারের কল্যাণে। বিশেষ করে মানুষের মতো চরিত্রের বা হিউম্যানয়েড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট তৈরিতে চীন এখন বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

মেইড ইন চায়না ২০২৫ এবং এমবেডেড এআই

চীনের মেইড ইন চায়না ২০২৫ পরিকল্পনায় রোবোটিকসকে প্রথম থেকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। শুরুতে এর লক্ষ্য ছিল ফ্যাক্টরি অটোমেশন। তবে এখন তা এমবেডেড এআইয়ের দিকে মোড় নিয়েছে। এটি এমন এক প্রযুক্তি, যেখানে স্বয়ংক্রিয় মেশিনগুলো বাস্তব পরিবেশে মানুষের মতোই কাজ করতে সক্ষম। চীনের নীতিনির্ধারকদের মতে, এই প্রযুক্তি দেশটির শ্রম সংকট দূর করতে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়াতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর চীনের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ইউনিট্রি তাদের মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ফিগার এবং টেসলার তুলনায় প্রায় ৩৬ গুণ বেশি ইউনিট রোবট সরবরাহ করেছে। ‘ফোর্বস’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে এই খাতের বাজার বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ২৬ লাখ ইউনিটে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডেমো থেকে বাস্তবে

গ্যালবটের চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার ইউলি ঝাও জানান, এখন গ্রাহকেরা জানতে চাইছেন, রোবটটি বাস্তব পরিবেশে কতটা স্থিতিশীল এবং মানুষের কাজের বোঝা কতটা কমাতে পারে। চীনের শক্তিশালী ম্যানুফ্যাকচারিং ইকোসিস্টেমের কারণে তারা খুব দ্রুত প্রোটোটাইপ থেকে বাস্তব প্রয়োগে যেতে পারছে। এখন এজিবট, ইউনিট্রি, ইউবিটেক এবং ফুরিয়ার ইন্টেলিজেন্সের মতো চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববাজারে আধিপত্য বিস্তার করছে। চীনা হিউম্যানয়েড স্টার্টআপগুলোতে বিনিয়োগের জোয়ার এসেছে। ইউনিট্রি তাদের সিরিজ-সি ফান্ডিংয়ের পর বর্তমানে ৩০০ কোটি ডলার মূল্যের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তাদের লক্ষ্য ভবিষ্যতে আইপিওর মাধ্যমে ৭০০ কোটি ডলারে পৌঁছানো। একইভাবে গ্যালবট ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি নতুন ফান্ড সংগ্রহ করেছে, যা তাদের বাজারমূল্যকে ৩০০ কোটি ডলারে উন্নীত করেছে।

চ্যালেঞ্জ ও সীমাবদ্ধতা

এত সাফল্য সত্ত্বেও কিছু সীমাবদ্ধতা এখনো রয়ে গেছে। বর্তমানে রোবটগুলোর মস্তিষ্ক কিংবা সফটওয়্যার এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এনভিডিয়া বর্তমানে এই সফটওয়্যার স্ট্যাকের নেতৃত্বে থাকলেও চীনা চিপ নির্মাতারা নিজস্ব বিকল্প তৈরির চেষ্টা করছে। এখানে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ ডেটা সংগ্রহ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। চ্যাটবটের মতো ইন্টারনেট থেকে ডেটা সংগ্রহ করে রোবটকে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব নয়। এর জন্য বাস্তব জগতের ডেটা প্রয়োজন। এ ছাড়া নিরাপত্তা একটি বড় চিন্তার বিষয়। রোবটের মাধ্যমে কোনো বড় দুর্ঘটনা যদি ঘটে, তাহলে জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চীন সরকার এই প্রযুক্তির প্রসারে খুব সতর্কতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রক আইন প্রণয়নের কথা বিবেচনা করছে।

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা: জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া

জাপান আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে হিউম্যানয়েড রোবটের গণ-উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। জাপানে শ্রম-সংকট মেটাতে এবং বয়স্কদের সেবায় রোবটকে ‘বন্ধু’ হিসেবে দেখার একটি দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। এ ছাড়া হুন্দাই মোটরের মালিকানাধীন বোস্টন ডায়নামিকস ২০২৮ সালের মধ্যে কারখানায় ব্যবহারের জন্য অ্যাটলাস রোবট তৈরির পরিকল্পনা করছে। আরও জানা গেছে, এই রোবটের ৩০ হাজার ইউনিট উৎপাদন করা হবে।

সূত্র: টেক ক্রাঞ্চ

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত