
বাড়ির উঠানে বা গ্যারেজে রাখা একটি ছোট ডেটা সেন্টার (কম্পিউটার সার্ভার) ব্যবহার করে নিজেদের ঘর গরম রাখার এক যুগান্তকারী প্রকল্প শুরু হয়েছে যুক্তরাজ্যে। এসেক্সের এক দম্পতি এই প্রকল্পের প্রথম পরীক্ষামূলক ব্যবহারকারী। এভাবে তাঁরা মাসিক জ্বালানি বিল প্রায় ১০ গুণ কমাতে সক্ষম হয়েছেন।
ব্রেইন্ট্রির কাছে বসবাসকারী টরেন্স (৭৬) ও লেসলি ব্রিজেস (৭৫) দম্পতি তাঁদের পুরোনো গ্যাস বয়লারের পরিবর্তে ‘হিটহাব’ নামের একটি ছোট ডেটা সেন্টার স্থাপন করেছেন। এই ডেটা সেন্টারে পাঁচ শতাধিক কম্পিউটার রয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থা চালুর পর তাঁদের মাসিক জ্বালানি বিল ৩৭৫ পাউন্ড থেকে কমে মাত্র ৪০ থেকে ৬০ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে।
ডেটা সেন্টার হলো মূলত বিপুলসংখ্যক কম্পিউটারের সমষ্টি। কম্পিউটারগুলো ডেটা প্রক্রিয়া করার সময় প্রচুর পরিমাণে তাপ উৎপন্ন করে। ‘হিটহাব’ সেই তাপ ধারণ করে তেলে। সেই তেল একটি ক্লোজড-লুপ সিস্টেমের (চক্রাকার) মাধ্যমে ব্রিজেস দম্পতি পানি ও ঘর গরম করার সিস্টেমে তাপ স্থানান্তর করেন।
অবসরপ্রাপ্ত রয়্যাল এয়ারফোর্স সার্জেন্ট টরেন্স ব্রিজেস বলেন, তাঁর স্ত্রী লেসলি মেরুদণ্ডের সমস্যায় ভোগেন এবং ঠান্ডা লাগলে তাঁর প্রচণ্ড ব্যথা হয়। তাই বাড়ি উষ্ণ রাখাটা তাঁদের জন্য জরুরি। তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা সত্যিই দুর্দান্ত। আমরা এই ট্রায়ালের জন্য নির্বাচিত হওয়ায় খুবই খুশি। হিটিং সিস্টেমে কোনো ত্রুটি নেই—আগের ব্যবস্থার তুলনায় এটি শতভাগ উন্নত।’
হিটহাব সিস্টেমটি তৈরি করেছে থার্মিফাই নামের একটি সংস্থা। এটি ইউকে পাওয়ার নেটওয়ার্কসের শিল্ড প্রকল্পের একটি অংশ। তাদের লক্ষ্য হলো স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোকে পরিবেশবান্ধব ‘নেট জিরো’ ব্যবস্থায় স্থানান্তরিত করার উদ্ভাবনী উপায় খুঁজে বের করা। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ব্রিজেস দম্পতির বাড়িতে সোলার প্যানেল ও একটি ব্যাটারি স্থাপন করা হয়েছে। এতে তাঁদের আরও বেশি সাশ্রয় হচ্ছে।
থার্মিফাইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ট্রেভিস থিউন বলেন, তাঁদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি ব্যবস্থা ডিজাইন করা, যা একই সঙ্গে ‘পরিবেশবান্ধব’ ও ‘সাশ্রয়ী’ জ্বালানি সরবরাহ করতে পারে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই পদ্ধতিতে ‘কম বা বিনা মূল্যে পরিবেশবান্ধব ও কার্বনমুক্ত তাপ’ পাওয়া যায়, কারণ, তাপ উৎপন্নকারী বিদ্যুতের বিল অন্য কেউ (ডেটা প্রক্রিয়াকরণ ক্লায়েন্ট) পরিশোধ করে।
প্রকল্পটি বর্তমানে পাইলট পর্যায়ে রয়েছে। থার্মিফাই আশা করছে, ভবিষ্যতে এটি একটি ‘রিমোট ও ডিস্ট্রিবিউটেড’ ডেটা সেন্টারের অংশ হবে। এ ধরনের ডেটা সেন্টার বহু ইউনিটে বিভক্ত হয়ে গ্রাহকদের ডেটা প্রক্রিয়াকরণের কাজ করবে। যদিও এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল ডেটা প্রক্রিয়াকরণের জন্য ডিজাইন করা হয়নি, তবে এটি অ্যাপ বা বড় ডেটা বিশ্লেষণের মতো কাজ পরিচালনা করতে সক্ষম।
ব্রিজেস দম্পতির আবাসন সরবরাহকারী ইস্টলাইট কমিউনিটি হোমসও এই প্রকল্পের অংশ। ইস্টলাইটের ড্যানিয়েল গ্রিনউড আশা প্রকাশ করেছেন, প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে আরও ৫০টি বাড়িতে হিটহাব স্থাপন করা সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, আধুনিক বিশ্বে ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। অনুমান করা হয়, যুক্তরাজ্যের মোট বিদ্যুতের প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহার করে সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা ডেটা সেন্টারগুলো। ২০৩০ সালের মধ্যে এই চাহিদা চার গুণ বাড়তে পারে।
অবশ্য ডেটা সেন্টার থেকে উৎপন্ন তাপকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে—এমন প্রতিষ্ঠান থার্মিফাই একা নয়, ডেভনের একটি সুইমিং পুল বর্তমানে ওয়াশিং মেশিনের আকারের একটি ‘ডিজিটাল বয়লার’ দিয়ে গরম করা হচ্ছে। এ ছাড়া ক্যামব্রিজশায়ারেও একটি সৌরবিদ্যুৎচালিত ডেটা সেন্টার ও ডিস্ট্রিক্ট হিট নেটওয়ার্ক তৈরির প্রস্তাব রয়েছে।
মাইক্রোসফটও একটি পরীক্ষামূলক আন্ডারওয়াটার ডেটা সেন্টার নিয়ে কাজ করেছে (প্রজেক্ট ন্যাটিক)। তারা ৮৫০টির বেশি সার্ভার সমুদ্রের তলদেশে স্থাপন করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) হিসাব অনুসারে, ডেটা সেন্টারগুলো তাদের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের ৩০ শতাংশ ব্যয় করে কুলিং বা ঠান্ডা করার কাজে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাত্রীরা এখন অ্যাপভিত্তিক সেবার মাধ্যমে গাড়ি, মোটরবাইক, এমনকি নৌযানও ডাকতে পারেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আকাশপথের ট্যাক্সি। রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘উবার’ ঘোষণা দিয়েছে, চলতি বছরের (২০২৬) শেষ নাগাদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে তাদের অ্যাপের মাধ্যমেই বুক করা যাবে...
২ দিন আগে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারে এখন ইচ্ছেমতো ছবি ও ভিডিও তৈরি করার প্রযুক্তি হাতের মুঠোয়। যে কেউ যথাযথ প্রম্পট লিখে তৈরি করে ফেলতে পারছেন মনের মতো ছবি-ভিডিও। এই কাজটি আরও সহজ ও দ্রুততর করতে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল তাদের ‘ন্যানো বানানা’ মডেল আরও উন্নত করেছে। নতুন এই মডেলের নাম দেওয়া হয়েছে...
৩ দিন আগে
এআই-চালিত অটো জুম সেলফি ক্যামেরা প্রযুক্তির ফোন নিয়ে এল অপো। আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে উন্মোচন করা হয়েছে নতুন ‘অপো এ৬ এস প্রো’।
৬ দিন আগে
পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত আমাদের বাংলা ভাষা। সাহিত্য, সংগীত, নাটক, চলচ্চিত্র, গবেষণা—সবকিছুর ভেতর দিয়ে বাংলা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি আমাদের ইতিহাস, পরিচয় ও সৃজনশীলতার ভিত্তি।
৬ দিন আগে