বর্তমান যুগে উচ্চশিক্ষা ও একাডেমিক উৎকর্ষের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো গবেষণা। কিন্তু বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ গবেষকের ভিড়ে নিজের স্বকীয়তা বজায় রাখা কি এতই সহজ? ধরুন, আপনার নাম এবং অন্য দেশের একজন গবেষকের নাম হুবহু এক। অথবা, বিভিন্ন জার্নালে আপনার নামের বানান ভিন্নভাবে লেখা হয়েছে। এর ফলে আপনার কষ্টার্জিত গবেষণার স্বীকৃতি বা ক্রেডিট কি হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে না? এই বিশ্বজনীন সমস্যার একটি আধুনিক ও স্থায়ী সমাধান হলো ‘ওআরসিআইডি’। সহজ ভাষায় যাকে বলা যায়, একজন গবেষকের ‘ডিজিটাল এনআইডি’ বা গবেষণার দুনিয়ায় বিচরণের এক বিশ্বস্ত পাসপোর্ট।
ওআরসিআইডি আসলে কী?
ওআরসিআইডি (ওপেন রিসার্চার অ্যান্ড কন্ট্রিবিউটর আইডি) হলো ১৬ সংখ্যার একটি ইউনিক ডিজিটাল আইডেন্টিফায়ার। এটি মূলত এমন একটি ব্যবস্থা, যা একজন গবেষককে বিশ্বের অন্য সব গবেষকের ভিড় থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে চিহ্নিত করে। নামের বানান যেমনই হোক বা নামের মিল যার সঙ্গেই থাকুক না কেন, এই ১৬ সংখ্যার কোডটির কারণে আপনার গবেষণাকাজ, প্রকাশনা এবং একাডেমিক অবদান আজীবনের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত থাকে।
কেন এই ডিজিটাল পাসপোর্ট এত গুরুত্বপূর্ণ?
একাডেমিক জগতে গবেষকদের কাজ সঠিকভাবে শনাক্ত করা এবং তাঁদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ওআরসিআইডি এই কাজটিকে অবিশ্বাস্য রকম সহজ করে দেয়। এটি গবেষকের প্রকাশনা, গবেষণা প্রকল্প, অনুদান, পেটেন্ট, রিভিউ কার্যক্রম এবং অন্য একাডেমিক অবদানকে একটি একক প্রোফাইলে সুসংগঠিতভাবে সংরক্ষণ করে।
এর বেশ কিছু অভাবনীয় সুবিধা রয়েছে—
কোথায় প্রয়োজন হয় এই আইডি?
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটি এখন অপরিহার্য। অনেক নামকরা আন্তর্জাতিক জার্নালে রিসার্চ পেপার সাবমিট করার সময় ওআরসিআইডি দেওয়া এখন বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া গবেষণা অনুদান বা স্কলারশিপের আবেদন, কনফারেন্স রেজিস্ট্রেশন, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রোফাইল ও সিভিতেও এই আইডির ব্যবহার এখন গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডে পরিণত হয়েছে। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, রিসার্চার আইডি বা Scopus ID-এর সঙ্গে এর পার্থক্য কোথায়? মূল পার্থক্য হলো ওই আইডিগুলো নির্দিষ্ট প্রকাশক বা ডেটাবেইসভিত্তিক। কিন্তু ওআরসিআইডি হলো একটি ওপেন এবং ইউনিভার্সাল আইডি, যা সব প্ল্যাটফর্মের ডেটাকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসে।
কাদের জন্য এই ওআরসিআইডি?
ভুল ধারণা রয়েছে যে এটি কেবল পিএইচডিধারী বা প্রবীণ বিজ্ঞানীদের জন্য। আদতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পিএইচডি ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ব্যাচেলর শিক্ষার্থী, ডেটা রিসার্চার, রিভিউয়ার বা গবেষণা সহকারী—যিনিই গবেষণা বা একাডেমিক কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাঁর জন্যই এটি প্রয়োজন।
কীভাবে তৈরি করবেন?
সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার হলো, এই আন্তর্জাতিক মানের আইডিটি সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে পাওয়া যায়! খুব সহজেই orcid.org ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Register’ অপশনে ক্লিক করে নাম, ই-মেইল এবং একটি পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করা যায়। ই-মেইল ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করার সঙ্গে সঙ্গেই পেয়ে যাবেন আপনার কাঙ্ক্ষিত ইউনিক ১৬ সংখ্যার ওআরসিআইডি, যা আজীবনের জন্য আপনার।
বর্তমান গবেষণাজগতে ওআরসিআইডি শুধু একটি আইডেন্টিফিকেশন নম্বর নয়; এটি আপনার মেধা, পরিশ্রম আর একাডেমিক পরিচয়ের এক বিশ্বস্ত দলিল। গবেষণায় স্বচ্ছতা, সঠিক ক্রেডিট এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে ক্যারিয়ারের শুরুতে একটি ওআরসিআইডি তৈরি করে নেওয়া হতে পারে আপনার একাডেমিক জীবনের অন্যতম সেরা একটি সিদ্ধান্ত।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত ই-মেইল হ্যাক করার দাবি করেছে ইরান সরকারের সঙ্গে যুক্ত একদল হ্যাকার। হ্যাকাররা প্যাটেলের অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যক্তিগত ছবি ও নথি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে দিয়েছে বলে সিএনএনের একটি প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
৯ ঘণ্টা আগে
চীনে হিউম্যানয়েড রোবট প্রযুক্তি যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে অচিরেই বদলে যাবে জীবন ও কাজের ধরন। সাংহাইয়ে চীনা রোবট নির্মাতা এজিবট সম্প্রতি আয়োজন করে এক ব্যতিক্রমী ‘রোবট গালা’; যেখানে পুরো অনুষ্ঠানেই অংশ নেয় রোবটরা। তাতে দেখানো হয় রোবটের গতিনিয়ন্ত্রণ, কম্পিউটার ভিশন ও সৃজনশীলতার সক্ষমতা।
১৭ ঘণ্টা আগে
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিশুদের ‘আসক্তিকর অ্যালগরিদম’, যৌন নির্যাতনসহ ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে সুরক্ষা দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা কবে থেকে কার্যকর হবে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
১ দিন আগে
শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি তৈরির অভিযোগে মেটা ও ইউটিউবকে ৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এক তরুণীর করা মামলায় লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি আদালত এই রায় দিয়েছেন। আদালত বলছে, মেটা (ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মালিক) এবং গুগল (ইউটিউবের মালিক) উদ্দেশ্যমূলকভাবে এমন আসক্তিকর প্ল্যাটফর্ম...
২ দিন আগে