
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া অনেকের কাছেই ‘ড্রিম’। আর এই স্বপ্ন পূরণ করতে একেক জন আবেদন করেন একেক যোগ্যতায়। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে দেখা গেল দারুণ এক তথ্য। বিশ্বজুড়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সাররা ঝুঁকছেন দেশটির ভিসা নিতে। তাও আবার নির্দিষ্ট একটি ভিসা পেতে আবেদন করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় খ্যাতি পাওয়া তরুণ-তরুণীরা।
ভিসাটি হলো ও-১ ক্যাটাগরি ভিসা। এই ভিসার মাধ্যমে অভিবাসী নন এমন ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে কাজ করার সুযোগ পান। ও-১ ক্যাটাগরির মধ্যে ও-১এ (O-1 A) দেওয়া হয় বিজ্ঞান, শিক্ষা, ব্যবসা বা অ্যাথলেটিকসে অসাধারণ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের। আর ও-১বি (O-1 B) বরাদ্দ থাকে ‘অসাধারণ প্রতিভা বা সাফল্য’ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য। এই ভিসা নিতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আবেদন করছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সাররা।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রতিবছর ও-১ ভিসা দেওয়ার হার আশ্চর্যজনকভাবে ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জুলিয়া আইন ২০২০ সালে কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করা শুরু করেন। তিনি দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘মহামারির সময় অন্য সবার মতো আমিও বিরক্ত হয়ে টিকটকে পোস্ট করা শুরু করি। লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে দ্রুতই আমার একটি ফ্যানবেস তৈরি হয়।’
এখন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে ১৩ লাখ ফলোয়ার রয়েছে বলে জানান ২৫ বছর বয়সী কানাডার এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে এই সাফল্যই তাঁকে ও-১ ভিসার পথে এগিয়ে দেয়। জুলিয়া বলেন, ‘এটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে অল্প সময়ে এখান থেকে অনেক টাকা আয় করা সম্ভব। আমার মনে হয়েছিল, এটি সময়ের ওপর নির্ভরশীল, কারণ কেউ জানে না এই জনপ্রিয়তা কত দিন টিকবে।’
জুলিয়া জানান, তিনি ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, এক্স ও স্ন্যাপচ্যাটে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেন। তাঁর আয়ের বড় অংশ আসে ফ্যানফিক্স (Fanfix) থেকে, যা ইনফ্লুয়েন্সারদের কনটেন্ট মনিটাইজ করার একটি সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। ২০২৩ সালের আগস্টে এই প্ল্যাটফর্মে কাজ শুরুর পর তিনি ও-১বি ভিসার জন্য আবেদন করেন এবং ওই কোম্পানিই তাঁর আবেদনে স্পনসর হিসেবে কাজ করে। এখন এই প্ল্যাটফর্ম থেকে মাসে পাঁচ অঙ্কের ডলার আয় করছেন বলে জানান জুলিয়া।
মহামারির সময় নিউ ইয়র্কের ফ্যাশন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে পড়তেন লুকা মর্নেট। সে সময় কনটেন্ট তৈরি শুরু করেন তিনি। ফ্রান্স থেকে আসা লুকা দ্রুতই বুঝতে পারেন, তাঁর এফ-১ (F-1) স্টুডেন্ট ভিসা ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে আয় করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অবশেষে স্নাতক শেষ করার পর ওপিটি চলাকালীন তিনি ও-১বি ভিসার জন্য আবেদন করেন।
একসময় ও-১বি ভিসা হলিউড তারকা ও সুপারস্টার সংগীতশিল্পীদের জন্য সংরক্ষিত থাকলেও বছরের ব্যবধানে এর পরিধি বেড়েছে। অভিবাসন আইনজীবী মাইকেল ওয়াইল্ডস বলেন, ‘আমরা এখন ই-স্পোর্টস খেলোয়াড়, ইনফ্লুয়েন্সার ও অনলিফ্যানস টিমের সদস্যদের জন্য ও-১ ভিসার আবেদন করছি। এটি এখন মানুষের পছন্দের নতুন মাধ্যম।’
ওয়াইল্ডস সংগীতশিল্পী সিনেইড ও’কনর, ফুটবল কিংবদন্তি পেলে ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী জঁ-জর্জেস ভনগেরিখটেনের মতো ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁর বাবা লিওন ওয়াইল্ডস ১৯৬০ সালে এই ফার্মটি শুরু করেন, যিনি নিক্সন প্রশাসনের সময় জন লেনন ও ইয়োকো ওনোকে নির্বাসনের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন এবং ও-১বি ভিসা প্রবর্তনে সহায়তা করেছিলেন। এখন ওয়াইল্ডসের মক্কেলের তালিকায় রয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও টুইচ (Twitch) স্ট্রিমাররা।
ও-১বি ভিসার যোগ্যতা অর্জনে আবেদনকারীকে ছয়টি নির্ধারিত মানদণ্ডের মধ্যে অন্তত তিনটির প্রমাণ দিতে হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো ইভেন্টে অংশগ্রহণ, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং ব্যবসায়িক বা সমালোচকদের কাছে প্রশংসিত সাফল্যের রেকর্ড অন্যতম। ২০২৬ সালে এসে এই মানদণ্ডগুলো ইনফ্লুয়েন্সারদের অর্জনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বিস্তৃত করা হচ্ছে।
জুলিয়া তাঁর আবেদনে উচ্চ আয় এবং সোশ্যাল মিডিয়ার পরিসংখ্যানকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আবেদনের একটি অংশ ছিল আমার এই অ্যাপে ২ লাখ ফলোয়ার, ওই অ্যাপে ৩ লাখ ফলোয়ার এবং প্রতি মাসে ১ কোটি মানুষ আমাকে দেখে। এটি কেবল একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয় নয়; মানুষ এখন নিয়মিত আমাকে দেখছে এবং কনটেন্টের জন্য টাকা দিচ্ছে।’
রুশ-ইসরায়েলি দাবাড়ু ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর দিনা বেলেনকায়ার ক্ষেত্রেও সোশ্যাল মিডিয়া তাঁর ও-১বি ভিসা পাওয়ার প্রধান মাধ্যম ছিল। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তাঁর আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর তিনি নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লট শহরে চলে যান।
তবে নির্দিষ্ট সংখ্যক ফলোয়ার থাকলেই যে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিশ্চিত, তা নয়। ভাইরাল মিউজিক গ্রুপ ‘বয় থ্রব’ (Boy Throb) তাদের সদস্য দর্শন মাগদুমের ও-১ ভিসা আবেদনের জন্য ১০ লাখ ফলোয়ার করার প্রচার চালিয়েছে। এই ব্যান্ডের অন্য তিন সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও মাগদুম ভারতে থাকেন। প্রথম পোস্টের এক মাসের মধ্যে তারা ১০ লাখ ফলোয়ারের লক্ষ্য অর্জন করলেও মাগদুমের ভিসা পাওয়ার বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। আইনি ও প্রসেসিং ফি বাবদ ব্যান্ডটি এরই মধ্যে ১০ হাজার ডলারের বেশি খরচ করেছে।
অসাধারণ যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া এই ভিসার জন্য কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আবেদনের এই ঊর্ধ্বগতি নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডমিনিক মাইকেল ট্রিপি এক পোস্টে একে সাম্রাজ্যের ‘শেষ পর্যায়ের দশা’ এবং ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে আইনজীবী ওয়াইল্ডসের মতে, ক্রিয়েটর ইকোনমি হলো আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের পরবর্তী ধাপ। তিনি বলেন, ‘ইনফ্লুয়েন্সাররা বিশ্ববাণিজ্যের একটি বড় শূন্যস্থান পূরণ করছেন। অভিবাসন প্রক্রিয়াকে এর সঙ্গে তাল মেলাতে হবে।’
জুলিয়া আইনও ইনফ্লুয়েন্সারদের পেশা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ উপলব্ধি করে না যে এর পেছনে কত পরিশ্রম করতে হয়। ৫০ বছর আগে মানুষ হয়তো আমেরিকান ড্রিম বা স্বপ্নের আমেরিকার রূপ এমনটা ভাবেনি, কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এটিই আমেরিকান ড্রিম।’

বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের আয়োজনে সম্মেলনে দেশের তরুণ বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক গবেষণা, উদ্ভাবন ও সম্ভাবনা তুলে ধরবেন। কংগ্রেসে বিভিন্ন সেশন, গবেষণা উপস্থাপনা, প্যানেল আলোচনা এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
৬ ঘণ্টা আগে
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। এর ফলে দেশের টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট ও ডেটা সেন্টার সেবাসমূহ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই খাতগুলো আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ডিজিটাল কার্যক্রমের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছ
১৯ ঘণ্টা আগে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের অংশ হিসেবে বড় আকারের কর্মী ছাঁটাই চালিয়েছে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওরাকল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি হতে পারে।
৩ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন টেক জায়ান্টদের লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, আজ বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে অ্যাপল, মাইক্রোসফট এবং গুগলের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে হামলা চালানো হবে।
৩ দিন আগে