
জীবন কখনো কখনো সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। ১৩ বছরের এক কিশোরী। আকাশছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে যার ঢাকায় পা রাখার কয়েক দিনের মধ্যে শুনতে হলো বাবা হারানোর খবর। শোক তাকে ছেয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু পাথরে পরিণত করতে পারেনি। বরং শোককে শক্তিতে রূপ দিয়ে মাতিয়েছে সবুজ গালিচা।
নারী ফুটবল লিগে পরশু কাচারিপাড়া একাদশ উন্নয়ন সংস্থাকে ৯-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সদ্যপুস্করিনী যুব স্পোর্টিং ক্লাব। হ্যাটট্রিক করে সেই ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতে অনন্যা খানম। ১০ হাজার টাকার চেক যখন হাতে তখনো তাকে স্বাভাবিকই লাগছিল। অনন্যা কেন অন্যদের চেয়ে অনন্য, সেই উত্তর পাওয়া গেল সদ্যপুস্করিনীর কোচ মিলন মিয়ার কথায়। ২ জানুয়ারি রাতে তিনি শুনতে পান অনন্যার বাবা হারানোর খবর। যদিও তা আড়াল করে রাখেন অনন্যার কাছে। শুধু এতটুকু আভাস দেন, তার বাবা খুব অসুস্থ।
সেদিনই রাতে কমলাপুর থেকে রংপুরের বাস ধরে অনন্যা। পরদিন বাড়ি গিয়ে দেখে বাবা আর নেই। স্ট্রোকে আগের দিন না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন তিনি। এমন মুহূর্তে কে না হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। অনন্যা তো শুধু কিশোরী। বাবার দাফনকার্য শেষ হওয়ার পরই অনন্যা ফিরে আসে ঢাকায়। শোকতাপেও অদম্য অনন্যা। ৪ জানুয়ারি পুলিশ এফসির বিপক্ষে ম্যাচ ছিল তার।
আনসার ভিডিপিকে হারিয়ে লিগ শুরু করেছে সদ্যপুস্করিনী। অনন্যা চায়নি শুরুর এ ছন্দ হারাতে। এখন ছুটি কাটালে সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়ায় ঘাটতি হতে পারে। গতকাল আজকের পত্রিকার সঙ্গে আলাপচারিতায় অনন্যা নিজের অদম্য মনোভাবই তুলে ধরেছে, ‘বাসা থেকে বলেছিল আজকেই (৩ জানুয়ারি) তো মাটি দিল, আর আজকেই চলে যাবি। আমার মনে হয়েছে, ফিরে গেলেই ভালো হবে। ওখানে থাকলে আরও দুর্বল হয়ে পড়তাম। সে জন্য চলে আসি।’
পুলিশের বিপক্ষে ম্যাচটা অবশ্য ভালো যায়নি অনন্যার। দল হেরেছে ২-০ গোলে। তবে পরশু কাচারিপাড়ার বিপক্ষে ম্যাচটি তার জ্বলে ওঠার মঞ্চ হয়ে দাঁড়ায়। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে গোল তিনটি পায় ২৮, ৩৪ ও ৩৮ মিনিটে। তার অন্যতম বিশেষ দিক হলো দ্রুতগতিতে দৌড়াতে পারা। তাই তো বাঁ প্রান্ত দিয়ে একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের নাজেহাল করে ছাড়ে। প্রতিটি মুহূর্তে অনন্যা খুঁজে পেত তার রিকশাচালক বাবাকে, ‘যখন গোল করি, তখনই বাবার কথা মনে পড়ছিল। বাবা আমাকে অনেক সাপোর্ট দিতেন। রংপুর থেকে এখানে আসার পর কেঁদেছি অনেক। এখন মা আর আমাকে পরিবারটা সামলাতে হবে।’
ফুটবলার হয়ে ওঠার পথে অনন্যার বাধাবিপত্তিও কম ছিল না। তবে সব সময় ঢাল হয়ে দাঁড়াতেন মা-বাবা। ‘গ্রামের মুরুব্বিরা বাধা দিতেন অনেক। আমার মা-বাবা যথেষ্ট সাপোর্ট দিয়েছেন। তাঁরা না থাকলে আমি এত দূর আসতে পারতাম না’—বলছিল অনন্যা।
বাড়ি মিঠাপুকুর উপজেলায় হলেও অনন্যা পড়াশোনা করছে রংপুর সদর উপজেলা পালিচড়া স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে। ফুটবলে এখনো বাফুফের বয়সভিত্তিক দলের গণ্ডি এখনো পার করতে পারেনি। তবে স্বপ্নটা তার যথেষ্ট বড়, ‘ভালো পেশাদার খেলোয়াড় হতে চাই। আমার স্বপ্ন ইউরোপের ক্লাবে জায়গা করে নেওয়া।’
অনন্যাকে বরাবরই বাকিদের চেয়ে একটু আলাদা চোখে দেখেন সদ্যপুস্করিনীর কোচ মিলন । কারণটাও বলেন তিনি , ‘অনন্যা অনেক ছোটবেলায় আমার এখানে আসছে । খুব সাহসী একটা মেয়ে এবং যখন ওকে কোনো টেকনিক্যাল বা ট্যাকটিক্যাল কোনো জিনিস বোঝাই , খুব মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং মাঠে প্রয়োগের চেষ্টা করে।’ মিলন বলছিলেন , অন্যান্যর মতো মেয়েদের কাছে ফুটবল একটা যুদ্ধ বা নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার একটা মাধ্যম । যে যুদ্ধে জিতে অনন্যাও নারী ফুটবলারদের বড় মঞ্চে আলোকিত করতে পারবে কি না , তা সময়ই বলে দেবে।

সৌদি আরবে ওমরাহ করতে গিয়ে যুদ্ধাবস্থার মধ্যে আটকা পড়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্লাইট সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ থাকায় তাঁর দেশে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। গত রাতে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
১৯ মিনিট আগে
অনেকটা একা হাতে ভারতকে সেমিফাইনালের টিকিট এনে দিলেন সাঞ্জু স্যামসন। যে ভারত কিছুদিন আগেও ছিল খাদের কিনারায়। স্বাগতিক হওয়ার পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন তকমাও ফ্যাকাশে হতে থাকে। দক্ষিণ আফ্রিকা আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাদের লড়াইটি হয়ে দাঁড়ায় অঘোষিত কোয়
১১ ঘণ্টা আগে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল থেকে আগেই ছিটকে গেছে জিম্বাবুয়ে। দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আজ সিকান্দার রাজার দল নিয়মরক্ষার ম্যাচ খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। তবে চাইলেও যে জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে পারছে না।
১২ ঘণ্টা আগে
সবার নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) পর বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফাও চিন্তিত হয়ে পড়েছে।
১৩ ঘণ্টা আগে