Ajker Patrika

সূর্যের মৃত্যু কেমন হতে পারে, আভাস পেলেন বিজ্ঞানীরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
সূর্যের মৃত্যু কেমন হতে পারে, আভাস পেলেন বিজ্ঞানীরা
ক্যাটস আই নেবুলা। ছবি: নাসা ও ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি

পৃথিবীসহ সৌরজগতের সবকিছু সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে ঘুরছে। বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, সূর্যের বয়স এখন ৪৬০ কোটি বছর। পৃথিবী ও এর বাসিন্দাদের কিরণ-উত্তাপ দিয়ে টিকিয়ে রাখা এই নক্ষত্র আরও ৪৫০ কোটি থেকে ৫৫০ কোটি বছর বেঁচে থাকবে। এরপর সূর্যের মৃত্যুটা কেমন হতে পারে- সে আভাস বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি পেয়েছেন মহাকাশে একটি নক্ষত্রের শেষ সময়ের দৃশ্য অবলোকন করে।

বিজ্ঞান বিষয়ক কনটেন্ট প্রকাশকারী ওয়েবসাইট লাইভ সায়েন্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এবং ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ESA) ইউক্লিড টেলিস্কোপ সম্প্রতি একটি মৃতপ্রায় নক্ষত্রের শেষ সময়ের কিছু ছবি পাঠিয়েছে। সেসব ছবি বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, নক্ষত্রটি থেকে নীল, কমলা এবং লাল রঙের উজ্জ্বল গ্যাসের বলয় তীব্র গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। অগণিত ছায়াপথ এবং নক্ষত্রের ভিড়ে ছবিগুলো মূলত বিখ্যাত ‘ক্যাটস আই নেবুলা’ বা ‘এনজিসি ৬৫৪৩’-এর একটি নক্ষত্রের।

পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই ‘ক্যাটস আই’ মূলত একটি ‘প্ল্যানেটারি নেবুলা’ বা নীহারিকা। আলো সরল ও বাধাহীন এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লাখ কিলোমিটার পাড়ি দেয়। এভাবে এক বছরে আলো যে পথ পাড়ি দেয়, তাকেই এক আলোকবর্ষ বলে।

স্বল্প বা মাঝারি ভরের কোনো নক্ষত্র যখন তার জীবনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন সেটি থেকে নির্গত উজ্জ্বল গ্যাসের মেঘ চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। বড় নক্ষত্রগুলো যেভাবে প্রলয়ংকরী ‘সুপারনোভা’ বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস হয়, ক্যাটস আই নেবুলার নক্ষত্রটি সেভাবে হয়নি। বরং এটি শান্তভাবে তার বাইরের স্তরগুলোকে মহাকাশে ছড়িয়ে দিয়েছে, যার ফলে পরিত্যক্ত উপাদান দিয়ে তৈরি হয়েছে সুন্দর ও জটিল সব বলয়।

ইউক্লিড টেলিস্কোপের তোলা ছবিতে দেখা যায়, উজ্জ্বল কেন্দ্র ভাগকে ঘিরে গ্যাসের সূক্ষ্ম বক্ররেখা এবং তন্তুর মতো কাঠামো ছড়িয়ে আছে। দৃশ্যত মনে হবে গ্যাসের মেঘগুলো মহাকাশে উড়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মূল নীহারিকা গঠনের আগেই কোনো একপর্যায়ে নক্ষত্রটির বাইরের স্তরগুলো পুরোপুরি বিলীন হয়ে এগুলো নির্গত হয়েছিল।

অন্যদিকে, হাবল টেলিস্কোপের তোলা ছবিতে নীহারিকার উজ্জ্বল কেন্দ্রভাগের খুঁটিনাটি ধারণ করেছে। ছবিতে দেখা যায়, একটি মৃত অথচ উজ্জ্বল নক্ষত্রকে ঘিরে রয়েছে সাদাটে বুদ্‌বুদ এবং নীল রঙের গ্যাসের লুপ। হাবলের উন্নত ক্যামেরায় এই নীহারিকার কেন্দ্রভাগের আরও সূক্ষ্ম ও জটিল কাঠামো ধরা পড়েছে।

ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির মতে, এই সূক্ষ্ম বিষয়গুলো আসলে নীহারিকাটির বিবর্তনের এক ‘ফসিল রেকর্ড’ বা জীবাশ্ম দলিল হিসেবে কাজ করে। গ্যাসের প্রতিটি বুদ্‌বুদ নক্ষত্রটির ভর হারানোর একেকটি পর্যায়কে নির্দেশ করে। ছবিতে বুদবুদগুলোর চারপাশে বাদামি আভার মধ্যে সমকেন্দ্রিক বৃত্ত বা বলয় দেখা যায়, যা প্রতিটি বুদ্‌বুদের সীমানা চিহ্নিত করে। এ ছাড়া নীহারিকাটির ওপর এবং নিচ দিয়ে উচ্চশক্তির গ্যাস (পিংক বা গোলাপি রঙে দৃশ্যমান) তীব্র বেগে নির্গত হচ্ছে।

হাবল যেখানে মৃতপ্রায় নক্ষত্রটির উজ্জ্বল কেন্দ্র এবং তার আশপাশের অভূতপূর্ব খুঁটিনাটি তুলে ধরেছে, সেখানে ইউক্লিড উন্মোচন করেছে নীহারিকা থেকে কিছুটা দূরে থাকা গ্যাসীয় তন্তু এবং দূরবর্তী ছায়াপথ ঘেরা সুবিশাল মহাজাগতিক পটভূমি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

দুই বছরের কন্যাকে নিয়ে ২৩ তলা থেকে বাবার ঝাঁপ, দুজনেরই মৃত্যু

সব লঞ্চার ‘ধ্বংসের’ পরও এত ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র কীভাবে ছুড়ছে ইরান, আর কত অবশিষ্ট

ইরান এতগুলো দেশে হামলা চালাবে ভাবিনি, আমরা হতবাক: ট্রাম্প

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বদলি

যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ বিলিয়ন ডলারের রণতরিতে ৩০ ঘণ্টা ধরে আগুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত