
জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের বলেছেন, ‘দেশের অর্ধেক লোককে বাদ দিয়ে আপনারা (সরকার) সংস্কার করবেন, আপনারা বিচার করবেন, নিজের স্টাইলে বিচার আর নির্বাচন করবেন, এটা কত দিন টিকবে জানি না। বাংলাদেশের ইতিহাসে সকলকে বাদ দিয়ে যে সংস্কার করা হয়েছে, সেটা কোনো দিন টিকে নাই। দেশের মানুষ, সকলকে মিলে যদি অ্যামেন্ডমেন্ট (সংশোধনী) না করতে পারেন, সেই অ্যামেন্ডমেন্টও কখনোই টিকে থাকবে না।’
আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক প্রকাশনা উৎসবে এসব কথা বলেন জি এম কাদের। এদিন ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সোনার পাথরবাটি’ ও ‘মাইজেরিস অব ডেমোক্রেসি মিসকনসিভড্’ শিরোনামে লেখা জিএম কাদেরের দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। প্রকাশনা সংস্থা ‘আকাশ’ এর আয়োজন করে।
২০১৪ সালের পর থেকে সবগুলো নির্বাচন ‘সাজানো’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, ‘২০১৪-এর পর থেকে এখন পর্যন্ত যে নির্বাচন হয়েছে, সব কটি সাজানো নির্বাচন হয়েছে। প্রিডিটারমাইন্ড ইলেকশন হয়েছে।’
নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারকে কটাক্ষ করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারকে একটা অভিনন্দন জানানো উচিত। অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অত্যন্ত সুচতুরভাবে কারচুপি করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার অত্যন্ত সুচতুরভাবে দেশি-বিদেশিদের বোকা বানিয়েছে, আমাদেরকে বোকা বানিয়েছে। এই ধরনের কারচুপির নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে কারও সময় হয় নাই।’
‘ভোটার’, ‘কেন্দ্র’, ‘ভোট দেওয়ার সময়’ ও ‘ভোট কাস্টিংয়ের গাণিতিক হিসাব’ উল্লেখ করে সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে জি এম কাদের বলেন, ‘এই ধরনের নির্বাচন কাকে জেতানো হবে, কাকে হারানো হবে, কাকে বের করে দেবে—সম্পূর্ণ পূর্ব নির্ধারিতভাবে তারা এটা করেছে। এই নির্বাচনে আপনারা যতটুকু দেখিয়েছেন, যতটুকু ভোট কাউন্টিং দেখেছেন, সেই ভোট কাউন্টিং ইম্পসিবল। এটা হয়নি, হতে পারে না।’
আওয়ামী লীগের ২০১৪ সাল থেকে ‘ওয়ান সাইডেড ইলেকশন’ শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন রাষ্ট্রের মানুষের চিরদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্য থেকে মুক্তি। কিন্তু আমরা নিজস্ব দেশ পেলেও বৈষম্য থেকে মুক্তি পেলাম না। সংবিধানে গণতন্ত্র থাকলেও আসলে আমরা সেই গণতন্ত্র পাইনি। নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র পেয়েছে জনগণ।’
প্রধান আলোচকের বক্তব্য প্রখ্যাত প্রাবন্ধিক, রাষ্ট্রচিন্তাবিদ ও বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, ‘আমাদের গোটা ইতিহাসটাই বলে যে বাঙালির রাজনৈতিক প্রতিভা, রাজনৈতিক মেধা এই জাতির মধ্যে পাওয়া যায় না। বিদেশিদের দ্বারা শাসিত হয়েছে।’
আবুল কাসেম আরও বলেন, ‘রাজনীতি সম্পর্কে আমাদের চিন্তাচেতনা বিকশিত হোক। যাঁরা রাজনীতি করেন, তাঁরা কিছু লিখলে সেই লেখার গুরুত্ব অন্যদের লেখার তুলনায় সাধারণভাবে বেশি।’
বর্তমান বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, ‘দেশে আমরা সব সময় ভেবেছি একটা শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা উচিত। একটা নির্বাচন হয়েছে, একটা সংসদ পেয়েছি। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে আমরা যে বিরোধী দল পেয়েছি, এটাকে বিরোধী দল বলি না।’
মাসুদ কামাল তার মত তুলে ধরে বলেন, ‘বিরোধিতা মাঠে হচ্ছে, এগুলো লোকদেখানো। আমি মনে করি, পারসোনালি নৈতিকভাবে এই দলগুলো আসলে একই।’
বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের খুবই অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বৃহত্তর একটা রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হয়ে আছে। আরেকটা রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আর আরেকটা রাজনৈতিক দল বিরোধী দলে আছে এবং তাদের এ-টিম, বি-টিম, সি-টিম সব আছে। আর কোনো রাজনৈতিক দল নাই। এই অবস্থায় বাংলাদেশে একটা বৃহত্তর রাজনৈতিক দল দরকার, যেটা বিরোধী ভূমিকায় যেতে পারবে। সেটা এখন খুব জরুরি।’
আওয়ামী লীগের বিরোধিতা জাতীয় পার্টি শক্তভাবে করতে পারলে দেশে জঙ্গিবাদের মুখে পড়তে হতো না বলে মন্তব্য করেন সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না। তিনি বলেন, ‘ডক্টর ইউনূস সরকারের সময় জঙ্গিবাদ, চরম পন্থা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল।’
প্রকাশক আলমগীর সিকদার লোটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী, ইকবাল হোসেন তাপস, সাংবাদিক কাজী রনক হোসেন প্রমুখ।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশ ও জনগণের স্বার্থে জামায়াত কোনো আপস করবে না। আমাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ হাসিমুখে ফাঁসির কাষ্ঠে জীবন দিয়েছেন। কিন্তু পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে কোনো আপস করেননি। দেশ ও জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে
সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বেনজীরকে আটক দেশের পুলিশের কৃতিত্ব নয়, এটা ইন্টারপোলের কৃতিত্ব। তার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্টও বর্তমান সরকার জারি করে নাই। তবে বেনজীর আটক বাংলাদেশের একটা অর্জন।...
৮ ঘণ্টা আগে
আমি সীমান্ত হত্যাকাণ্ড এবং পুশ ইন সম্পর্কিত একটি বিশেষ আলোচনা করার প্রস্তাবে নোটিশ দিয়েছিলাম। সংসদের মুলতবি শাখা থেকে চিঠি দিয়ে আমাকে জানানো হয়– আজকে রবিবার এই বিষয়টি আলোচনা করার জন্য গৃহীত হয়েছে এবং এর অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়েছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে প্রতি তিন মাস অন্তর অগ্রগতি পর্যালোচনা ও তথ্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ)। বাজেট ঘাটতি, রাজস্ব আহরণ, খাতভিত্তিক বরাদ্দ ও সামষ্টিক অর্থনীতির ঝুঁকি নিয়ে দলটি বিস্তারিত মূল্যায়ন তুলে ধরেছে।
১৬ ঘণ্টা আগে