
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। তাই অবিলম্বে চুক্তি বাতিল এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর–রুনি মিলনায়তনে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘আমেরিকার সাথে অসম বাণিজ্য চুক্তি: বাংলাদেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ দাবি করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর। আলোচনায় অংশ নেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম. এম. আকাশ, সিপিবি সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং লেখক ও কলামিস্ট আবু তাহের খান।
আলোচনায় সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চুক্তির বিভিন্ন ধারা বিশ্লেষণ করলে এতে স্পষ্ট অসমতা দেখা যায়। তাঁর দাবি, একদিকে প্রায় ১২০০ কোটি টাকার দায় মওকুফ করা হলেও অন্যদিকে শুল্কহার ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৪ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে আগে যেখানে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা শুল্ক আদায়ের কথা ছিল, তা বেড়ে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, চুক্তির ভাষায় বাংলাদেশের জন্য বাধ্যতামূলক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে বেশি, যা চুক্তির ভারসাম্যহীনতার ইঙ্গিত দেয়।
সিপিডির এ ফেলো জানান, চুক্তি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানির বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে, যার ফলে অন্য দেশ থেকে তুলনামূলক কম দামে পণ্য কেনার সুযোগ কমে আসবে।
প্রতিরক্ষা খাতেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নির্দিষ্ট সরঞ্জাম কেনার শর্ত থাকার অভিযোগ তুলে মোস্তাফিজুর বলেন, এসব বিষয় দেশের অর্থনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যতম আলোচক অধ্যাপক এম. এম. আকাশ বলেন, চুক্তিটি অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছে এবং এতে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। তাঁর মতে, পুরো প্রক্রিয়ায় খুব অল্পসংখ্যক মানুষ যুক্ত ছিলেন, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সিপিবি সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে এমন কোনো চুক্তি করা হলে, তা দেশের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় অর্থনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা বাড়ছে, যা অনেক সময় নতুন ধরনের অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা তৈরি করে।
সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও মোকাবিলা করা প্রয়োজন। এ জন্য জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।
আলোচনা শেষে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল চুক্তি বাতিলের দাবিতে ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন থানায় পথসভা ও গণসংযোগ, ৮ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত গণসাক্ষরতা অভিযান ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ৭ মে জাতীয় সংসদ সদস্যদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশ ও জনগণের স্বার্থে জামায়াত কোনো আপস করবে না। আমাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ হাসিমুখে ফাঁসির কাষ্ঠে জীবন দিয়েছেন। কিন্তু পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে কোনো আপস করেননি। দেশ ও জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে।
১১ ঘণ্টা আগে
সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বেনজীরকে আটক দেশের পুলিশের কৃতিত্ব নয়, এটা ইন্টারপোলের কৃতিত্ব। তার বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্টও বর্তমান সরকার জারি করে নাই। তবে বেনজীর আটক বাংলাদেশের একটা অর্জন।...
১৪ ঘণ্টা আগে
আমি সীমান্ত হত্যাকাণ্ড এবং পুশ ইন সম্পর্কিত একটি বিশেষ আলোচনা করার প্রস্তাবে নোটিশ দিয়েছিলাম। সংসদের মুলতবি শাখা থেকে চিঠি দিয়ে আমাকে জানানো হয়– আজকে রবিবার এই বিষয়টি আলোচনা করার জন্য গৃহীত হয়েছে এবং এর অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাঠানো হয়েছে।
১৮ ঘণ্টা আগে
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে প্রতি তিন মাস অন্তর অগ্রগতি পর্যালোচনা ও তথ্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ)। বাজেট ঘাটতি, রাজস্ব আহরণ, খাতভিত্তিক বরাদ্দ ও সামষ্টিক অর্থনীতির ঝুঁকি নিয়ে দলটি বিস্তারিত মূল্যায়ন তুলে ধরেছে।
১ দিন আগে