
শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে সংসদে সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তাঁরা বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে মানুষের বিশ্বাসের জায়গা নষ্ট হয়ে গেলে সরকারের ভিত নড়ে উঠবে। বিরোধী দলকে ভোট বর্জনের পুরোনো রেওয়াজ থেকে সরে আসার অনুরোধ করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিলসংক্রান্ত আলোচনায় জামায়াত ও এনসিপির তিন এমপি এমন সমালোচনা করেন। এ দিন বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ আসনের স্থগিত হওয়া নির্বাচন হয়। অনিয়মের নানান অভিযোগ তুলে বিরোধী দল জামায়াতের দুই প্রার্থী নির্বাচন বয়কট করেন।
বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে জামায়াতের এমপি নাজিবুর রহমান বলেন, ‘আজকে দুইটা উপনির্বাচন হয়েছে। মানুষজন বলছে, ১৯৯৬-এ ছিল মাগুরা, আজকে হলো বগুড়া। একই কাহিনি আমরা দেখছি। যদি এটা চলতে থাকে, তাহলে বিশ্বাসের জায়গাটা কোথায় থাকবে? বিশ্বাসের জায়গা নষ্ট হয়ে গেলে সরকারের ভিত নড়ে উঠবে।’
নির্বাচনের বিষয়ে এনসিপির আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, উপনির্বাচনে বিরোধীদলীয় এজেন্টদের ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আহত করা হয়েছে। বাচ্চাদের লাইনে দাঁড় করিয়ে ভোট দেওয়ানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশকে আরেকবার সংকটে ফেলা হচ্ছে।
১৯৯৪ সালের মাগুরা উপনির্বাচনের কথা উল্লেখ করে হান্নান মাসউদ বলেন, ট্রেজারি বেঞ্চের নেতারা বারবার দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন, আওয়ামী লীগের মতো সফল হতে পারেননি।
ভোটের প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমার বন্ধু তাঁর বক্তব্যে একটি ইঙ্গিত করেছেন, আজকে দুটি উপনির্বাচন হয়েছে, মাননীয় সংসদ সদস্য বগুড়া-৬ আসন নিয়ে ইঙ্গিত করেছেন যে, সেখানে নাকি ভোট কারচুপি হয়েছে। আমি বলতে চাই, বিকেল ৪টার পরে আপনারা বুঝলেন ভোট কারচুপি হয়েছে। ভোট প্রত্যাখ্যান করেছেন আপনারা বিকেল ৪টার পর। যখন আপনারা নিশ্চিত হয়েছেন আপনাদের পরাজয় নিশ্চিত। তার পরে আপনারা সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।’
এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই করে প্রতিবাদ জানান। মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমি বন্ধুদের বলতে চাই, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে নির্বাচন বর্জনের পুরান রেওয়াজ থেকে সরে আসুন।’
এরপর উপজেলা পরিষদের বিলের আলোচনায় শেরপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, ‘সরকারি দলের সদস্যরা বাস্তবতা উপলব্ধি করলে বিগত ১৭ বছরের ইতিহাসের ইতি টেনে চমৎকার করে বিল আনতেন। সেটা নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগোতে পারতাম। যে আইন আজকে পাসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা ম্যাটিকুলাস ডিজাইন। এভাবে যদি সাজানো পরিকল্পনার ভিত্তিতে আগামী দিনের সকল কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে নির্বাচনের আর কী দরকার। বিগত দিনের মতো সাজানো নির্বাচন একই কায়দায় বাস্তবায়িত হতে পারে।’
এমপি রাশেদ আরও বলেন, ‘আইনে ফাঁকফোকর রেখে দেওয়া হলে তার মাধ্যমে বিরোধী দলকে হেনস্তা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটা বুঝতে আমাদের বাকি নেই।’
উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ বলেন, ‘এই নির্বাচন নিয়ে প্রতিমন্ত্রী একটি অসত্য তথ্য এই সংসদে দিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বেলা দুইটার আগেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা প্রার্থী নিজেই দিয়েছেন। পরে সকল নেতা একত্র হয়ে মিডিয়া ডেকে বিবৃতি দেওয়ায় বিলম্ব হয়েছে। আমি অসত্য তথ্য এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করছি।’
এমপি রাশেদ আরও বলেন, ‘দুটি উপনির্বাচনে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে একতরফাভাবে তাদের দিকে ফলাফল নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতো। হামলা করা হতো। জখম করা হতো। সেই পরিস্থিতি শেরপুরের নির্বাচনে দেখা গেল। সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তাঁর মাথা দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেছে। শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারিসহ অন্য নেতৃবৃন্দ আহত অবস্থায় আছেন। আজকের ভয়ংকর হামলা আগামী দিনে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা আমরা টের পাচ্ছি। এই পরিস্থিতি হলে আগামী দিনে মানুষের ভোটব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা চলে আসবে।’
রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনে ভোট কারচুপি হয়েছে। সিল মারা হয়েছে। প্রশাসনকে ফোন করলে তারা বলছে, আমরা যাচ্ছি। তারা যাওয়ার আগেই রফাদফা হয়ে যাচ্ছে। হামলার পর হামলা করে আমাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামীকাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু করবে বিএনপি।
২ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন বিলের আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর এমপি নাজিবুর রহমান বলেন, ‘আইনমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন, কেন তিনি একই ইস্যুতে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়, যখন তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন, একটি পজিশন নিয়েছিলেন, আ
৩ ঘণ্টা আগে
‘যে আদালতের রেফারেন্সের ভিত্তিতে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ গ্রহণ করেছিল, সে সরকারে আমাদের সংসদ সদস্যও শপথ নিয়েছিলেন। তাহলে বিগত সরকারের সবকিছু অবৈধ ঘোষণা করতে হবে। যদি বলা হয় আমার রায়টি অবৈধ। কারণ, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাতজন বিচারপতির বেঞ্চে আমার রায়টি বহাল রাখা হয়েছিল...
৪ ঘণ্টা আগে
আপনি যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বলেছিলেন এবং আমরা গণমাধ্যমে দেখেছিলাম ভোটের দিন আপনিও ভোটকেন্দ্রে গিয়েছিলেন। একই দিনে জাতীয় নির্বাচনের ভোট, গণভোট দুইটা ভোট...
৫ ঘণ্টা আগে