Ajker Patrika

কুমিল্লা-চাঁদপুরের ঘটনা সরকারের চক্রান্ত: মির্জা ফখরুল 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২১, ১৫: ৪২
কুমিল্লা-চাঁদপুরের ঘটনা সরকারের চক্রান্ত: মির্জা ফখরুল 

কুমিল্লা ও চাঁদপুরের ঘটনা সরকারের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চক্রান্ত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘এই যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার যে চক্রান্ত, এটা এই সরকারের চক্রান্ত। তারা এই দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়, ধ্বংস করতে চায় এবং দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়।’ 

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী সমবায় দলের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। 

কুমিল্লা ও চাঁদপুরের ঘটনার উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, এই সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। 

জাতীয় প্রেসক্লাবে সভা-সমাবেশ বন্ধ ঘোষণা প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে সমস্ত জায়গা সংকুচিত করে ফেলেছে। তারা পল্টন ময়দান বন্ধ করেছে, মুক্তাঙ্গন বন্ধ করেছে। তারও আগে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ডিভাইডার দিয়ে বন্ধ করেছে। প্রেসক্লাবে নব্বইয়ের আন্দোলনের এক নেতার স্মরণে সভা হয়েছিল। সেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য দিলেন। এটা তারা (আওয়ামী লীগ) সহ্য করতে পারল না। পরের দিন থেকেই আওয়ামী লীগের নেতারা বলতে শুরু করলেন, এটা খুব অন্যায় হয়েছে, বেআইনি হয়েছে।’ 

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আরে ভাই, এত ভয় কেন? তারেক রহমান তো আট হাজার মাইল দূর থেকে একটা বক্তব্য দিয়েছেন। তাতে এত ভয় পাচ্ছেন কেন? আসলে তারা (আওয়ামী লীগ) প্রতি মুহূর্তে দুঃস্বপ্ন দেখে যে, এই বোধ হয় এসে গেল। আমাদের চেয়ার বোধ হয় গেল, গদি বোধ হয় গেল।’ 

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগ নেতাদের কথা শুনলে মনে হয়, আমরা বোধ হয় কেউ নেই। আমাদের অস্তিত্বই নেই। এমন এমন কথা বলেন, মনে হয় যে তাঁরাই ইতিহাস সৃষ্টি করেন, ইতিহাস তৈরি করেন, তাঁরা ইতিহাস লেখেন। গতকালও (বুধবার) আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেছেন, বিএনপি পালায়, আওয়ামী লীগ পালায় না।’ 

এ বক্তব্যের পাল্টা জবাবে ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তো ১৯৭১ সালেই পালিয়েছে। জিয়াউর রহমান দেশে থেকে যুদ্ধ করেছেন। এখানে থেকেই লড়াইটা করেছেন। জিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর সহধর্মিণী খালেদা জিয়া স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন। এটা তো ধ্রুবতারার মতো সত্য। তাঁকে (জিয়া) অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। যারা অস্বীকার করতে চায়, তারা আসলে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করতে চায়। তাঁর বিরুদ্ধে যা খুশি তাই বলছে। তাঁকে খুনি বলছে, অনেক সময় রাজাকার বলে, তাঁকে বলে পাকিস্তানের চর। দুর্ভাগ্য আমাদের, যে জাতি তাঁর স্বাধীনতার ঘোষণাকারীকে চেনে না, চিনেতে চায় না, সেই জাতি কখনো ওপরে উঠতে পারবে না।’ 

‘এত আয় আমাদের, ব্যয় করার জায়গা খুঁজে পাচ্ছি না’—পরিকল্পনামন্ত্রীর এ বক্তব্য প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘রাস্তায় আসতে আসতে তাঁর (পরিকল্পনা মন্ত্রী) এই কথা যখন পড়ছিলাম, তখনই দেখলাম রাস্তার পাশে দুটো বাচ্চা থালা হাতে নিয়ে সাহায্য চাইছে। তারা পায় না, তারা জায়গা খুঁজে পায় না।’ 

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত