
রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা নগদ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের আমির সৈয়দ রেজাউল করীম এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ইশতেহারে আরও বলা হয়, প্রাথমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিদিন একবেলা পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-যুবকদের জন্য সুদমুক্ত ও জামানতবিহীন এককালীন ঋণ চালু করা হবে।
ইসলামী আন্দোলনের আমির সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্য কার্ড চালু, ভর্তুকি মূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং বিভিন্ন সেবা সহজে পৌঁছাতে কৃষি কার্ড চালুর কথা বলেন।
ইশতেহারে ন্যাশনাল জব পোর্টাল চালুর কথা উল্লেখ করা হয়, যেখানে দেশে ও বিদেশে চাকরি খোঁজা, পরামর্শ প্রদান ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ থাকবে।
কর্মজীবী নারীদের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক দিবাযত্ন কেন্দ্র গড়ে তোলা, ঢাকাসহ সব নগরে সরকার নিয়ন্ত্রিত ও ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস ব্যবস্থাপনা চালু, সেবাকেন্দ্রিক করব্যবস্থা এবং সবার জন্য নির্বিঘ্ন নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার কথাও ইশতেহারে বলা হয়।
এ ছাড়া নারী পোশাকশ্রমিকদের জন্য আবাসনব্যবস্থা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে অবৈধ সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া এবং কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রীয় পদে ওলামায়ে কেরামের পদায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
সৈয়দ রেজাউল করীম বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মৌলিক নীতিমালার মধ্যে রয়েছে আদালত, ইনসাফ, নাগরিকের স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতা, দায়বদ্ধতা, সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনের শাসন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে এই মৌলিক নীতিমালার পূর্ণ প্রতিপালন করবে।
রেজাউল করীম আরও বলেন, ‘ক্ষমতার চর্চা ও হস্তান্তরে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ধারণায় একটি ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ, সুশাসিত ও সাম্যভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেশের সব মানুষকে সমান অধিকার ও মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে। ধর্ম বা জাতি বিবেচনায় কাউকে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বিবেচনা করবে না। সবার ধর্মীয় বিশ্বাস রক্ষা এবং পালনের নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি একধরনের হুমকি থাকায় তা রক্ষায় বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।
ইশতেহার ঘোষণায় ইসলামী আন্দোলনের আমির আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঘোষণা করছে যে, বাংলাদেশ তার সব প্রতিবেশী ও বিশ্বের অপরাপর রাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রযুক্তি-জ্ঞান ও সংস্কৃতির আদান-প্রদানে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করে কোনো দেশের কোনো ক্ষতি হতে দেওয়া হবে না।
নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সৈয়দ রেজাউল করীম বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারীর প্রতি দায় বোধ করে। নারীর বিদ্যমান পরিস্থিতি যে সমস্যাজনক, তা-ও স্বীকার করে। সে জন্য নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই ভূমির হাজার বছরের বোধ-বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের আলোকে করণীয় সব পদক্ষেপ নেবে। এখানে উল্লেখ্য যে, বিদ্যমান চিন্তাকাঠামোতে শরিয়াহ ও নারীকে পরস্পর বিরোধী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই যে, নারীর কর্মসংস্থান, অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীনতার জন্য ইসলামই সবচেয়ে কার্যকর নীতি। আমাদের ইশতেহারের পরতে পরতে তার প্রতিফলন দেখা যাবে।’

ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসন, মধ্যপ্রাচ্যব্যাপী যুদ্ধ ও গণহত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। দলটির নেতারা বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দস্যুতা গোটা পৃথিবীকে নতুন করে এক মহাযুদ্ধের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
১২ ঘণ্টা আগে
এবারের নির্বাচনে শুধু জাতীয় পার্টি বাদে সব দল ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল। শুধু জাতীয় পার্টিই একক দল হিসেবে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। তাই যুক্তিসংগতভাবে বলা যায়, ‘না’ ভোটের পক্ষের অধিকাংশ ভোটই জাতীয় পার্টির, তথা লাঙ্গলের...
১৩ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত আইনি কাঠামোর তোয়াক্কা না করে জাতীয় নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধানদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে হত্যার যে প্রবণতা ক্রমেই...
১৩ ঘণ্টা আগে
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘ইসরায়েল ইরানকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে কেন? তাদের শক্তির উৎস কোথায়? কোথা থেকে তারা মদদ পায়? সারা বিশ্বের মানুষ জানে। তাদের আক্রমণের মাধ্যমে মনে হয় সেই আদিম যুগের সেই কথা—‘জোর যার মুল্লুক তার’। এখন এটা আদিম যুগ না। জোর যার মুল্লুক বলে আপনি
১৫ ঘণ্টা আগে