মানুষের জীবন এক আশ্চর্য দাঁড়িপাল্লার মতো। এক পাশ কানায় কানায় আনন্দ তো অন্য পাশে সমান সমান বিষাদ।
নাকি কিছু কম-বেশি থাকে তাতে? কিন্তু যদি তাই হতো তবে কি এক আকাশ ভরা রোদ উঠেছে তো আরেক আকাশে শুধু মেঘ-বৃষ্টির খেলা চলত? কিংবা পৃথিবীর এক পাশে আঁধার হলে উল্টো পাশে আলোর রোশনাই ভরে উঠত?
এই যে আলো-আঁধারের খেলা, এর মূল সুর বাঁধা যার হাতে, তার নাম ‘সময়’। খুব ভেবে দেখলে বোঝা যায় এই ‘সময়’ নামের উল্টাপাল্টা ‘প্রাণীটিই’ আমাদের দিয়ে ওর যা ইচ্ছে তাই করিয়ে নিচ্ছে! অদৃশ্য একজন কেউ সময়ের ঘোড়াটার লাগাম ধরে আছে।
সকালের রোদ, দুপুরের আলো, বিকেলের ওম আর রাতের আঁধারের সঙ্গে জীবন মিলিয়ে কোনো মাহেন্দ্রক্ষণে বোকা মানুষ ভেবে নেই, ‘আহা! জীবনটা কেমন কাটিয়ে যাচ্ছি আমরা!’
সত্যি কি তাই? এ জীবন কি শুধুই ভেবে কাটিয়ে দেওয়ার? সেই ছোটবেলায় পড়েছিলাম:
‘পথ ভাবে আমি দেব, রথ ভাবে আমি,
মূর্তি ভাবে আমি দেব, হাসে অন্তর্যামী...’
কী অমোঘ এই বাণী! কী গভীর সত্যি কথা। জীবনের প্রতিটা বাঁকে মানুষ এক অনিত্য খেলা খেলে যাচ্ছে—জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা, জীবনযাপন, সংসার, মেতে থাকা এক আপন ভুবনে। সত্যি কি আমরা পুতুলের মতো চলছি না? খেলছি, হাঁটছি আর রোদ-বৃষ্টি-অন্ধকারকে আপন ভেবে যাচ্ছি। সবটায় নিজেকে নিয়েই মেতে থাকা।
পথ খুশি, রথ খুশি, মূর্তিটাও খুশি...জমজমাট ‘রথযাত্রা’ যদি জীবনের খেলা ধরে নিই, তবে সেই ‘জীবনখেলার’ আসল সুতাটা হাতে নিয়ে এক বিরাট শিশু যে আনমনে এক অনন্ত খেলা খেলে যাচ্ছে, তা বোঝার শক্তি পাই না কেন?
এই যে এমন ভাবনা, তা হয়তো এক আশ্চর্য দুর্বল বা শক্তিশালী মুহূর্তে আমাদের মনে হানা দেয়। একটু ভাবায় আবার ভুলিয়ে দেয় কেউ। আর ভুলে থাকা যায় বলেই এত আমার-আমার খেলা! এই খেলা যুদ্ধ বাধায়, মৃত্যু ডেকে আনে, ভেদাভেদ তৈরি করে, হানাহানি আর হিংসায় ডুবিয়ে দেয়। নিজের বাইরে চিন্তা করবার সময়টা সব মানুষের মনে একবারে উদয় হলে হয়তো পৃথিবী অন্য রকম হতো।
খুব আবোলতাবোল কথার পসরা সাজালাম। তবে জীবনের হিসাবটা যে এ রকমটাই মনে হয় আজকাল। এই যে দিনটা খুব নিজের মনে হলো, একটু পরেই সে আর আমার নেই! তার শরীরজুড়ে অন্য দিনের ছায়া! অন্য কারও নাম! ‘তারে আমার আমার মনে করে আমার করে আর পেলেম না!’
এই কি নয় জীবন? ছুটে চলো ছুটে চলো, যতটা জোরে পারা যায়! কেউ পেছনে পড়ে গেল, সে তোমার সঙ্গেই ছিল। আপন আর প্রিয় ছিল, তাতে কী! তোমাকে বা আমাকে পৌঁছে যেতেই হবে সেই গন্তব্যে, যার একটুও আমাদের হাতে নেই। তবু সবার আগে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা—এই তো মগজে ঢুকিয়ে দেওয়া আছে।
মুক্তির জন্য খুব লড়ে গেলাম। তারপর মুক্তির আনন্দে হাত মেলে দেখলাম হাতের তলায় নানান রকম আঁকিবুঁকি যা শিকল হয়ে আটকে দিতে চাইছে আমাদের সংসার-জগৎ বা মহাজাগতিক কোনো বস্তুর সঙ্গে। এই কি সেই সোনার শিকল যাতে জীবনরহস্য লুকানো আছে? রহস্যের সমাধান খোঁজা মানুষ ক্লান্ত হয় না কখনো। হয়তো তাতেই মুক্তি, তাতেই আলো, তাতেই বেঁচে থাকা। পুরোটা না বুঝে, সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে চেয়েও আবার সবাইকে নিয়েই একসঙ্গে বেঁচে থাকা।
যুদ্ধ বাধে, রক্ত ঝড়ে, নিজের মতো কারও জয় হয়। কেউ হেরে যায়। আর আড়াল থেকে মুচকি হাসে সময়ের নাটাই হাতে সেই অদৃশ্য একজন! কেউ কেউ আছে যারা শুধু মনে মনে না, সরবেও চায়, ‘অন্তত বেঁচে থাকাগুলো সুন্দর হোক সবার জন্য।’
হাঁটুপানি থেকে অসাবধানে বুকপানিতে চলে গেলে বুকের মাঝে কী সীমাহীন আতঙ্ক চেপে আসে, যখন স্রোতের টান ভাসিয়ে নিতে চায়! কেমন লাগে? কেমন সেই কষ্ট? কতটা সেই যন্ত্রণা? আর প্রিয়জনের একেবারে হারিয়ে যাওয়া!
যার যায় সে ছাড়া আর কেউ কেন বুঝতে পারে না? নাকি বুঝতে চায় না? বুঝতে না চাওয়ার এক ভয়ানক উন্মাদনা!
তবু মানুষ হয়ে জন্মানোর এই অনন্ত টানাপোড়েন ভাবায় মানুষকেই। মানুষই মানুষকে মারে, রক্ত ঝরায় তারপর সেই রক্তের মাঝে কেউ হাসে আবার কেউ ডুবে যায় কান্নার অতলে।
সবচেয়ে সহজ আর কম কষ্টের কাজটুকুই আজও করতে শেখা হলো না আমাদের। যার যতটুকু সাধ্য সবার পাশে থাকা, একটু সাহায্য করা...সরবে বা নীরবে। যেমন করে আকাশ পারে, প্রকৃতি পারে, নিজেদের সৃষ্টির সেরা ভেবে নিয়েও মানুষ আজও এইটুকুন কাজ শিখে উঠতে পারল না।
লেখক: আবৃত্তিশিল্পী

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও এস্থার ডাফলো তাঁদের যুগান্তকারী গবেষণায় দেখিয়েছেন যে ‘দারিদ্র্য বিমোচনের বড় পরিকল্পনা প্রায়ই ব্যর্থ হয়, যখন তা মাঠের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে।’ তাঁরা ‘পুওর ইকোনমিকস’ গ্রন্থে দেখিয়েছেন—দরিদ্র মানুষের আচরণগত...
৪ ঘণ্টা আগে
জাতীয় বাজেট কেবল একটি দেশের আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন-দর্শন, অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতিচ্ছবি। কোন খাতকে রাষ্ট্র কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, তার সবচেয়ে স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটে বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে।
৪ ঘণ্টা আগে
২০২৬ সালের ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট। তাতে মোট আকার ধরা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা ইতিহাসের বৃহত্তম বাজেট। এই বিপুল অঙ্কের বাজেট নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা, সমালোচনা...
৪ ঘণ্টা আগে
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর করার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করার পর চট্টগ্রামের খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ত্বরিত এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানানো যেতেই পারে।
৪ ঘণ্টা আগে