সারা বিশ্বে ২৭ মার্চ বিশ্ব নাট্য দিবস হিসেবে উদ্যাপিত হলেও বাংলাদেশে তা ১৯৮২ সাল থেকে উদ্যাপিত হয়ে আসছে।
বাংলার জনজীবন ও নাটক হাজার বছর পেরিয়ে হাজারো বাধা উজিয়ে চলেছে পরস্পরের হাতে হাত রেখে। এর রূপবদল ঘটেছে অনেক, বহু দিক দিয়ে নাটক হয়েছে সমৃদ্ধ, অন্যদিকে নাট্যস্রোতে বদ্ধতাও এসেছে কখনো কখনো, চোরাটান কিংবা আবিলতা নাটককে পথভ্রষ্ট করতে হয়েছে উদ্যত, এর জঙ্গমতা হরণ করবার শঙ্কা তৈরি করেছে। তবু পলিমাটির বঙ্গভূমিতে জীবন ও সভ্যতা যেমন চলমান, নাটকও তেমনি ছিল প্রবহমান। হাজার বছরের সেই অভিযাত্রা যখন আমরা স্মরণে রাখি, তখন এই প্রত্যয়ে উদ্দীপ্ত না হয়ে পারি না যে নাটকের পরাভব নেই। হতে পারে নাট্যশিল্পীর তরবারিটি টিনের, ক্ষমতা তাঁর নাট্যনিবেদনের শূন্য পরিসর বা এম্পটি স্পেসে সীমিত কিন্তু বাস্তবজীবনের ডামাডোল থেকে কল্পনায় ডানা-মেলা নাটক যত অলীক মনে হোক, ততোধিক অলৌকিক ক্ষমতা ধারণ করে এই শিল্প। নাট্যশিল্পের রহস্যময়তাই এর প্রাণ, লৌকিক ও অলৌকিকের খেলার মধ্য দিয়েই নাটকের অস্তিত্বময়তা ও বিস্তার, হাজার বছর ধরে যেই শিল্পের অভিযাত্রা অব্যাহত রয়েছে এই গাঙ্গেয় অববাহিকার পলিমাটির দেশের জীবনযাত্রার সঙ্গে সমতালে।
বাংলা ভাষা ও ভাষাভিত্তিক নৃতাত্ত্বিক জনজাতির বিকাশের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে বাংলা নাট্য। হাজার বছর আগের যে চর্যাপদকে বাংলা ভাষার আদিরূপ হিসেবে শনাক্ত ও সমাদর করা হয়, তার সঙ্গে জড়িত ছিল জনমানুষের ধর্মাচার, ধর্মপালন ও সাধনপদ্ধতি। সম্মিলিতভাবে গীতবাদ্য সহযোগে লোকসমাজ যে-ভাষায় পরমের প্রতি অন্তরের আকুতি নিবেদন করত, সেটাই চর্যাপদ, বৌদ্ধ গান ও দোহা। এই কৃত্য বস্তুত লোকনাট্য, যেখানে রয়েছে নাট্যপরিসর—দেবগৃহের গর্ভ কিংবা অঙ্গন, রয়েছে দৃশ্যসজ্জা—আরাধ্য দেবতার মূর্ত রূপ ও আরও বিবিধ উপচার, রয়েছে আবহসংগীত—বাদ্যযন্ত্র ও বাদক দল, আছেন দর্শককুল—পুণ্যপ্রত্যাশী যে অন্ত্যজরা সমবেত হন প্রার্থনা সভায়। আরও যদি খুঁজি নাটকের উপাদান তবে বুঝব নির্দিষ্ট সময়ে শুরু হয় এই নাট্যকৃত্য, এমনকি ধ্বনিত হয় শুরুর সংকেত, শঙ্খবাদন অথবা ঢোলকবাদ্যে। সর্বোপরি এই নাট্যক্রিয়ায় প্রাণ সঞ্চারের জন্য রয়েছে গায়ক-গায়িকার দল, চর্যার পদসমূহ বা নাটকের স্ক্রিপ্ট সুধারসে যাঁরা প্রাণবন্ত করেন নৃত্য ও গীতে। চর্যার পদেও তাই দেখি নাটকের স্বীকৃতি, ‘নাচন্তি বাজিল গান্তি দেবী/বুদ্ধ নাটক বিসমা হোই।’
বাংলা নাটকের জন্মকাল ও এর পরবর্তী নাট্যসূত্রগুলো আমরা বিস্মৃত হয়েছিলাম নানা কারণে। তবে নিজস্বভাবে বিশিষ্টরূপে বাংলার নাট্যধারা তো প্রবহমান ছিল। বাংলা থেকে বিতাড়িত বৌদ্ধমত আশ্রয় খুঁজে পেয়েছিল নেপালের রাজদরবারে, তিব্বতের সাধনক্ষেত্রে এবং দূর থেকে দূরে চীনে, কোরিয়ায়, মঙ্গোলিয়ায় ও জাপানে।
বাঙালি পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর দূরপ্রাচ্যে যে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন, সেটা বাঙালির সাধনা ও সংস্কৃতির রাজ্যসীমা পেরিয়ে যাওয়ার দৃষ্টান্ত মেলে ধরে। অনুমান করতে পারি এই সূত্রে বাংলা নাটকেরও হয়েছে আন্তর্জাতিকীকরণ।
মধ্যযুগে শ্রীচৈতন্য মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে সাধনমার্গরীতি নিয়ে এলেন পুরোহিততন্ত্রের বাইরে, সাধারণজনের কাতারে, জাতপাতের ভেদ অতিক্রমকারী যে সাধনপদ্ধতির অবলম্বন হয়েছিল গান এবং গানের সম্মিলিত নিবেদন। বাঙালির অন্তরের সুর রূপ পেল কীর্তনগানে, গীতনৃত্যবাদ্যে এর পরিবেশনা ক্ষেত্রবিশেষে রূপ নিল পথযাত্রায়, গায়ক দল রাধাকৃষ্ণের প্রেমোপাখ্যান নিবেদন করে চলে লোকসমাজের মধ্যে, যা পরবর্তীকালে রোপণ করেছিল যাত্রাশিল্পের বীজ।
বৌদ্ধতান্ত্রিকতা, চৈতন্যদেবের ভক্তিময়তা ও সুফি ঔদার্যের মিলনে মধ্যযুগের ইসলামের ধর্মাচার থেকে জন্ম নিয়েছিল বাউলগান, যা উপচে পড়েছিল ফানাপ্রত্যাশী গুরু ও ভক্তের নৃত্যগীতমুখরতায়। এই সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল পারস্য কিংবা আরবভূমি থেকে আগত মিথ ও কিসসা-কাহিনি, যা রূপ নিয়েছিল পালাগানে ও আরও নানা নাট্যরীতিতে।
বাংলার এই নাট্য ঐতিহ্য অবহেলার শিকার হয়েছিল দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনে, তবে নাটকের প্রাণ সজীব ছিল লোকসমাজে এবং সেখান থেকে নতুন উপাদান ও সৃষ্টিবীজ নিয়ে নাটকের বহমানতা কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি। আজ একবিংশ শতকের দুই দশকাধিককাল পেরিয়ে আমরা নাটকের সংকট ও সঞ্জীবনী সম্ভাবনা দুইয়ের দোলাচলের মধ্য দিয়ে চলছি। এই সময়ে শিল্পের মশাল হাতে পথ চলবার দিশা নাট্যশিল্পীরা তাঁদের মতো করে খুঁজে নেবেন। ঐতিহ্য যেমন তাঁকে জোগাবে সৃষ্টিশীল উপাদান, যা সমকাল ও ভাবীকালের নিরিখে যাচাই-বাছাই ও নবায়ন করে নিতে হবে, তেমনি এটাও গুরুত্ববহ কেবল জাতীয় গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকলে চলবে না, শিকড় থাকবে মাটিতে কিন্তু ডানা মেলতে হবে উদার আকাশে। বাংলা নাটক দীর্ঘ পথপরিক্রমণে আকাশ ও মাটির সম্মিলন তৈরি করে চলেছে, সেই সমীকরণ আজ আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। বাংলার নাট্য আপন শক্তিতে আলিঙ্গন করবে বিশ্বনাট্য ঐতিহ্য, একই সঙ্গে বাংলা নাট্য সমৃদ্ধ করবে বিশ্বনাটককে। এমন স্পর্ধিত উচ্চারণ আজ আমাদের কাম্য। বিশ্বনাটক বহুকেন্দ্রিকতা নিয়ে বিকশিত হবে, সেটা বাস্তব করে তোলার দায়িত্ব নাটকের অজস্র কেন্দ্রের, যা নিজ নিজ সভ্যতার উত্তরাধিকার বহন করে বৈচিত্র্যের মধ্যে মানবের মিলন ঘটাবে, সভ্যতায় সবার অধিকার ও অবদান নিশ্চিত করবে।
এককেন্দ্রিক বিশ্ব মানবসভ্যতাকে কোন সর্বনাশের পথে নিয়ে যাচ্ছে, তা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতায় এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতি আইন পায়ে পিষ্ট করে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক আঘাতে। পাশ্চাত্য সভ্যতার অবসানের এই কালবেলায় নতুন বহুকেন্দ্রিক মানবিক সভ্যতার জাগরণের জন্য বিশ্ব উন্মুখ হয়ে আছে। সেই জাগরণের মন্ত্র ধ্বনিত করতে নাটক দায়বদ্ধ। জয় হোক নাটকের, বিশ্বের ও সর্বদেশের সর্বজাতির সর্বসংস্কৃতির।

২৫ মার্চ বিকেলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। পন্টুন থেকে সৌহার্দ্য পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মার উত্তাল স্রোতে তলিয়ে গেছে। নিখোঁজ থাকা অনেক মানুষকে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অল্প কিছু মানুষ সাঁতরে জীবন বাঁচাতে পেরেছেন।
১৮ ঘণ্টা আগে
ঈদের দিন বিকেলে পাবনা থেকে সাবেক সহকর্মী আশীষ-উর-রহমান শুভর ফোন। কাতর কণ্ঠে বললেন, ‘বন্ধু, খুব বিপদে আছি, একটু তেল জোগাড় করে দাও।’ তিনি ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে পাবনায় শ্বশুরবাড়িতে এসেছেন ঈদ করতে। রাজধানীতে ফিরে যেতে পারছেন না শুধু নিজের গাড়িতে তেল না থাকার কারণে। শুভর কথায় সচকিত হলাম।
১৮ ঘণ্টা আগে
বিজ্ঞান আমাদের শেখায় যে মানববুদ্ধি হলো স্ব-সংশোধনযোগ্য; এর জন্য প্রয়োজন কেবল সহনশীলতা ও নমনীয়তা। মহাবিশ্ব যেমন, তেমন করেই আমাদের তাকে বুঝতে হবে; কোনোভাবে এর কেমন হওয়া উচিত, তার সঙ্গে কতটুকু সাদৃশ্যপূর্ণ—এই ভেবে আমাদের বিভ্রান্ত হওয়া ঠিক হবে না।
১৮ ঘণ্টা আগে
আজ মহান স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলার মানুষ গড়ে তুলেছিল তাদের নিজের আবাসভূমি—বাংলাদেশ। ২৫ মার্চে ইয়াহিয়া সরকার তাদের সেনাবাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছিল বাঙালি নিধনের জন্য। তারই পরিণতিতে রক্তক্ষয়ী ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের পর এসেছিল বিজয়। বিজয় এসেছিল ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে...
২ দিন আগে