
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অব্যাহতির কারণ ব্যাখ্যা করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, মামলাটির তদন্তে অভিযোগের পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি; বরং মামলার ভিকটিম ও তথ্যের সত্যতা নিয়েই গুরুতর অসংগতি পাওয়া গেছে।
আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে পিবিআই সদর দপ্তর গণমাধ্যমে এই ব্যাখ্যা পাঠায়। এতে পিবিআই জানায়, তারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট সব মামলা আন্তরিকতার সঙ্গে তদন্ত করছে। ইতিমধ্যে আন্দোলনকে ঘিরে দায়ের হওয়া ১৭টি জিআর মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৬৭টি সিআর মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
সম্প্রতি ধানমন্ডি থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় (মামলা নম্বর–০১, তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪) ফাইনাল রিপোর্ট (চূড়ান্ত প্রতিবেদন) আদালতে দাখিল করাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
পিবিআইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর শরিফ (৩৭) নামের এক ব্যক্তি ধানমন্ডি থানায় মামলাটি করেন। মামলায় ভিকটিম হিসেবে উল্লেখ করা হয় সাহেদ আলী (২৭) নামের এক যুবককে, যাঁকে বাদীর ছোট ভাই বলা হয়। এ ছাড়া আহত হিসেবে আরও নয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়, তবে তাঁদের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা বা পরিচয় দেওয়া হয়নি। ঘটনার স্থান হিসেবে ধানমন্ডি-২৭ এলাকার মিনা বাজারের আশপাশ এবং ঘটনার সময় গত বছরের ৪ আগস্ট বেলা ১১টা উল্লেখ করা হয়।
তদন্তে নেমে পিবিআই জানতে পারে, এজাহারে উল্লেখিত ঠিকানা অনুযায়ী সাহেদ আলী নামের কেউ কখনো সেখানে বসবাস করেননি। বাদীর ঠিকানায়ও তাঁর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তদন্তে আরও উঠে আসে, সাহেদ আলী বাদীর ভাই নন। তাঁর নামে এজাহারে উল্লেখ করা জাতীয় পরিচয়পত্রটি ভুয়া এবং সেটির সঙ্গে কোনো মোবাইল নম্বর নিবন্ধিত নেই।
এজাহারে ভিকটিমের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে সীমান্ত স্কয়ারের নাম উল্লেখ করা হলেও মার্কেট কমিটির সঙ্গে লিখিত ও সরাসরি যোগাযোগ করেও ওই নামে কোনো ব্যক্তির তথ্য পাওয়া যায়নি। আহত হিসেবে উল্লেখ করা অন্যদের বিষয়ে যাচাই করতে ঢাকা কলেজ ও ঢাকা সিটি কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ও সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকায় তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়ায় মামলাটির ফাইনাল রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
উল্লেখ্য, ধানমন্ডি থানায় করা ওই হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১১৩ জনের অব্যাহতির সুপারিশের বিষয়টি গতকাল সোমবার নিশ্চিত করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ধানমন্ডি থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই আবুল বাশার। তিনি জানান, সম্প্রতি ১১৩ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে পিবিআই। এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) কর্তৃপক্ষের ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’ এবং দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখার প্রতিবাদে সরকারি সফর বাতিল করে দেশে ফিরে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
৯ মিনিট আগে
ভারতের নয়াদিল্লির বিমানবন্দর থেকে দেশে ফিরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ইন্ডিয়ান ওশেন রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ) সম্মেলনে অংশ নিতে তিনি গতকাল রোববার ঢাকা থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।
২৪ মিনিট আগে
কমিশন নয়, গুমের অভিযোগ তদন্ত করবে পুলিশ তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের তদন্তও করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়ায় এমন বিধান রাখা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় এই খসড়া করেছে।
৭ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সদস্যরা। আজ রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষের বাইরে সাক্ষাৎ করেন তাঁরা।
১০ ঘণ্টা আগে