Ajker Patrika

শিবির নেতা জিসান মিয়াকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতির পর সংসদে উত্তেজনা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ১৯: ০৫
শিবির নেতা জিসান মিয়াকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতির পর সংসদে উত্তেজনা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতি নিয়ে সংসদে উত্তেজনা দেখা দেয়। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ধর্ষণ ও জোর করে ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য ঘিরে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে জাতীয় সংসদে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। আজ রোববার জাতীয় সংসদে পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ ও শিবির নেতা জিসান মিয়াকে নিয়ে ৩০০ বিধিতে দুটি বিবৃতি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

৩০০ বিধিতে একটি বিবৃতি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দুটি বিবৃতি দেওয়া এবং জিসান প্রধানের বিষয়টি বিচারাধীন অবস্থায় সংসদে তোলায় প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি ওই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ (প্রত্যাহার) চান। এ সময় সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে হইচই করতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একপর্যায়ে রুলিং দেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে আজ সংসদ অধিবেশনে পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়ার জন্য দাঁড়ান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই বিবৃতি শেষ হওয়ার পর তিনি আরেকটি বিবৃতি দেওয়ার জন্য স্পিকারের অনুমোদন চান। জবাবে স্পিকার বলেন, ‘যদি আরেকটা এ রকম গ্রেট নিউজ থাকে, তাহলে অফকোর্স অ্যালাউড।’

কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘একটা বিষয়ে কিছু ক্লেইম করা হয়েছে, সে জন্য বিবৃতি দিচ্ছি।’ এরপর তিনি জিসান মিয়া প্রধানের গ্রেপ্তারের বিষয় তুলে ধরে বলেন, পাঁচ-ছয় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে জনৈক একজন নারীর সঙ্গে মোহাম্মদ জিসান মিয়া প্রধানের পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁদের মধ্যে মোবাইল ফোনে কথাবার্তা শুরু হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কুমিল্লা জেলা পুলিশের তথ্যমতে, জিসান মিয়া ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জিসান ভুক্তভোগীকে ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য চাপ দেন এবং এ কাজ না করলে ভুক্তভোগীকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। একপর্যায়ে জিসানের দেওয়া ওষুধ খেয়ে ভুক্তভোগীর গর্ভপাত করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরে ভুক্তভোগী জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে জিসান ১২ জুন বিয়ে করতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। ১১ জুন রাত সাড়ে ৮টায় বিয়ে না করার টালবাহানায় জিসান নিজেই আত্মগোপন করেন।

জিসান প্রধানকে গ্রেপ্তার ও মামলার বিবরণ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে অনেকেই ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তার নিখোঁজের বিষয়টি অন্যভাবে বর্ণনা করে সরকারকে দায়ী করতে চেয়েছিল। প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের পরে সেটা আমরা মনে করলাম, এই ঘটনা জাতির সামনে প্রকাশ করা দরকার। তাই আমি এই মহান জাতীয় সংসদের মাধ্যমে এটা প্রকাশ করলাম।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পরই হাত তোলেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দুটি বিবৃতি দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ সময় স্পিকার বলেন, ৩০০ বিধি নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা যায় না। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই করতে থাকেন। স্পিকার তখন বিরোধীদলীয় উপনেতাকে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরবর্তী পর্যায়ে যে সাবজেক্টটা বলেছেন, আপনার এটা অ্যালাউ করা উচিত হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরবর্তী পর্যায়ে কোনো একটি দলকে লক্ষ্য করে একটি বিতর্কিত বিষয়ে পার্লামেন্টে এভাবে বক্তব্য রাখা বোধ হয় বাংলাদেশের পার্লামেন্ট ইতিহাসে এই প্রথম।’

তাহের বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি দলকে কনডেম করার জন্য ইনটেনশনালি এটা এখানে উপস্থাপন করেছেন। আমি জানতে চাচ্ছি, জিসান এখন কোথায় আছে? কুমিল্লার পুলিশ জিসানের সঙ্গে কারও কথা বলতে, এমনকি সাংবাদিকদের কথা বলতে দিচ্ছে না। যে মেয়েটার কথা বলা হয়েছে, ওই মেয়েটার সঙ্গেও কাউকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। তাহলে এটা কেন এখানে (সংসদে)? কোনো প্লট তৈরি হচ্ছে কি? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যটা মনে হচ্ছে যে, উনারা একটা প্লট তৈরি করার জন্যই পুলিশ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একই লাইনে আলোচনা করে এই কাজটি করছে।’

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান। এ সময় সরকার ও বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য দাঁড়িয়ে কথা বলতে থাকেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিতে চান।

এ পর্যায়ে স্পিকার বলেন, ‘এটা আমাদের দেশের সর্বোচ্চ জায়গা। আমরা সবাই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেব। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব, যদি সংসদীয় রীতিনীতির বাইরে কিছু হয়ে থাকে, সেটা পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবাই দয়া করে বসেন। আমরা দিনের কার্যসূচিতে যাচ্ছি।’ পরে দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট সম্পর্কে আলোচনা শুরু হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত