
নতুন সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে ৫০ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে আর্থিক সীমাবদ্ধতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। কার্ড নির্বাচনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়ে তাড়াহুড়ো না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) উদ্যোগে এবং ‘নতুন সরকারের সূচনাবিন্দু অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সিপিডির বিশেষ ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
মূল প্রবন্ধে নতুন সরকারের ১০টি চ্যালেঞ্জের কথা বলা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে চ্যালেঞ্জ। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, গ্রামীণ ৫০ লাখ পরিবারকে মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা দিতে বছরে আনুমানিক ৯ হাজার ৬০০ কোটি থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। এটি জিডিপির প্রায় ০.১৫ থেকে ০.২০ শতাংশের সমান। এই কর্মসূচি সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থাকে সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আর্থিক সীমাবদ্ধতা। পাশাপাশি উপকারভোগী নির্বাচনের প্রক্রিয়া হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রচলিত প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক পদ্ধতির পরিবর্তে বিজ্ঞানসম্মত ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ পদ্ধতি অনুসরণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু আন্তর্জাতিক সূচক রয়েছে। সেটা অনুসরণ করে এবং রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করে যদি দেওয়া হয়, তাহলে প্রকৃত বঞ্চিতরা সুবিধাভোগী হবে এবং নির্বাচনী ইশতেহারও বাস্তবায়িত হবে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, তাড়াহুড়ো করে দিলে একদিকে কার্ড প্রাপক নির্বাচনের ক্ষেত্রে দুর্নীতির আশঙ্কা বেশি থাকবে, অন্যদিকে উপকারভোগী নির্ধারণের জন্য প্রকৃত উপাত্তের ঘাটতি থাকতে পারে। সে জন্য একটু সময় নিয়ে দিলে প্রকৃতই যাঁরা পাওয়ার যোগ্য তাঁরা পাবেন।
অন্যদিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের জিডিপি এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ৪৬২ বিলিয়ন ডলার। এই অবস্থান থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে হলে ডলার ভিত্তিতে গড়ে প্রায় ৯ শতাংশ হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ লক্ষ্য অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী।
অন্যদিকে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোও এই লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম শর্ত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৬ সালের জন্য ৮ দশমিক ৩ শতাংশ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জন করা কঠিন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্রগতি ধরলেও প্রতিবছর প্রায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট করে উন্নতি প্রয়োজন, যাতে ২০৩১ সালে কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ১১ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তবে সংস্কারভিত্তিক পদক্ষেপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে স্বল্প মেয়াদে জিডিপির অতিরিক্ত ২ শতাংশ সমপরিমাণ রাজস্ব অর্জন সম্ভব, যা ২০৩১ সালে কর-জিডিপি অনুপাতকে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত করতে সহায়ক হতে পারে।
এ বিষয়ে সিপিডির তৌফিক ইসলাম খান বলেন, বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হলে এবং একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চাইলে, এমন উচ্চ রাজস্ব প্রবৃদ্ধিও যথেষ্ট না-ও হতে পারে। ফলে লক্ষ্য অর্জনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কার্যকর সংস্কার ও শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপরই নির্ভর করতে হবে।

ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) কর্তৃপক্ষের ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’ এবং দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখার প্রতিবাদে সরকারি সফর বাতিল করে দেশে ফিরে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
৮ মিনিট আগে
ভারতের নয়াদিল্লির বিমানবন্দর থেকে দেশে ফিরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ইন্ডিয়ান ওশেন রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ) সম্মেলনে অংশ নিতে তিনি গতকাল রোববার ঢাকা থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।
২৩ মিনিট আগে
কমিশন নয়, গুমের অভিযোগ তদন্ত করবে পুলিশ তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের তদন্তও করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়ায় এমন বিধান রাখা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় এই খসড়া করেছে।
৭ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সদস্যরা। আজ রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষের বাইরে সাক্ষাৎ করেন তাঁরা।
১০ ঘণ্টা আগে