
জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সংস্কার, সম্ভাবনা এবং পরবর্তী সরকারের কাছে প্রত্যাশা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারের প্রস্তুতি চলাকালীনই এক আকস্মিক ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আফসানা বেগমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত ২০ জানুয়ারি রাতে জারি করা দুটি ভিন্ন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। এ নিয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এ নিয়ে ফেসবুকে চার পর্বের দীর্ঘ লেখা পোস্ট করেছেন আফসানা বেগম।
তিনি লিখেছেন, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সিডাপ মিলনায়তনে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে একটি সেমিনার করার কথা ছিল। এজন্য হল বুকিংও সম্পন্ন হয়। কক্সবাজারে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের পর একটি মিটিং চলাকালে আকস্মিকভাবে সরকারি গেজেটে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার খবরটি সামনে আসে।
২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর গত ৫ সেপ্টেম্বর আফসানা বেগমকে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
আফসানা বেগম লিখেছেন, ‘কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ দেওয়ার সময় অনুরোধ করা হয়েছিল দেশের জন্য কাজ করতে, কিন্তু অব্যাহতির প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
তিনি অভিযোগ করেছেন জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের বই নির্বাচন নীতিমালা সংশোধন নিয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ হয়েছিল। বই নির্বাচনে মন্ত্রী ও সচিবদের ২০ শতাংশ কোটা সংরক্ষরিত রাখার বিষয়টি নিয়েই মূলত বিরোধের সূত্রপাত। তিনি এটি বাদ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু উপদেষ্টা এটি বহাল রাখার পক্ষে।
আফসানা বেগমের মতে, ‘বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী কোটায় কোনো বই নির্বাচন পদ্ধতি (ক্যাটালগ জমা নেয়া, বই বেছে নেয়া) অনুসরণ করা হয় না। আবার কোটায় আসা লাইব্রেরিরও কোনো পরিদর্শন রিপোর্ট লাগে না। যারাই সচিব বা মন্ত্রীকে পটাতে পারেন, তাদেরই লাইব্রেরি নির্বাচিত হয়। সাধারণ তালিকায় হিসাবের নিয়ম থাকলেও কোটার অধীনে যত ইচ্ছা তত কপি বই, যত ইচ্ছা তত টাকা অনুদান যায় লাইব্রেরিতে। অযোগ্য অপাঠ্য বইগুলো তখন সাধারণ লাইব্রেরিকে জোর করে নিতে হয়।’
উপদেষ্টার সঙ্গে এটি আলোচনার কথোপকথনের অংশ বিশেষ তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন:
ফারুকী ভাই কথা বলা শুরু করেন, ‘কোটা থাকুক। পরবর্তী সরকার এসে ব্যবহার করবে। এটা ওদের লাগবে।’
আমি চমকে উঠি, ‘ভাই, কী বলেন, কোটা কেন থাকবে, কোটার জন্যেই না. . .’
ফারুকী বলেন, ‘আপনি বুঝতে পারছেন না, কোটা না থাকলে পরের সরকার অনুরোধের বইগুলো কীভাবে কিনবে? আর কত লাইব্রেরি অনুরোধ নিয়ে আসে জানেন?’
আফসানা বেগম বলেন, ‘ভাই, আমরা কি পরবর্তী সরকারের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এখানে এসেছি? আমাদের নিজেদের কোনো অ্যাজেন্ডা নাই? এই দেখেন আজকে আমি কীরকম বইগুলো পেয়েছি স্টকে। একটা ভালো সাহিত্য নাই। গবেষণা নাই। এদেশে গত চল্লিশ বছরে কত সাহিত্যিক, কবি, গবেষক গড়ে উঠেছে, তার কোনো ছাপ গ্রন্থকেন্দ্রে নাই। কোটাটা তুওে দেন, ভাই, আসিফ ভাই কিন্তু কোটা...’
ফারুকী বলেন, ‘আহা আপনি এটাকে শুধু শুধু কোটা বলছেন কেন।’ উপদেষ্টা বিরক্ত হন।
আফসানা বেগম বলেন, ‘এটা তো কোটাই। নীতিমালায় তো এটাকে কোটা বলা হয়েছে।’
উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে অনড় থাকেন এবং অমীমাংসিত অবস্থাতেই আলোচনা শেষ হয়।
অব্যাহতির আগে আফসানা বেগম প্রতিষ্ঠানটির আমূল পরিবর্তনের জন্য বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন বলে পোস্টে জানিয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে:
শতবর্ষী পাঠাগার পুনরুদ্ধার: দেশে অনেক প্রাচীন ও শতবর্ষী পাঠাগার ধুঁকছে। সরকারি উদ্যোগে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে এগুলিকে ‘মডেল পাঠাগার’ হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রস্তাব ছিল।
আন্তর্জাতিক বইমেলা ও অনুবাদ কার্যক্রম: লোকবল সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতায় স্থগিত থাকা আন্তর্জাতিক বইমেলা পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া বাংলাদেশি সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিতে এজেন্টদের মাধ্যমে অনুবাদের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিজিটাইজেশন ও গবেষণা: পাঠাগার সংক্রান্ত গবেষণা এবং আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে পাঠাগারের ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্য ছিল।
তিনি লিখেছেন, সরকারি উদ্যোগে একটি ‘গ্রন্থনীতি’র বাস্তবায়নযোগ্য খসড়া প্রস্তুত করা আছে। বর্তমানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংস্কৃতি নীতি সংস্কারের কাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্রন্থনীতির অনুমোদন ও বাস্তবায়ন ছাড়া জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র তথা পাঠক সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
পোস্টের শেষে আফসানা বেগম সংশয় নিয়ে লিখেছেন, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সংস্কার কার্যক্রম কি থেমে যাবে? সংস্কার কি আদৌ হবে?

ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) কর্তৃপক্ষের ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’ এবং দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখার প্রতিবাদে সরকারি সফর বাতিল করে দেশে ফিরে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
১ ঘণ্টা আগে
ভারতের নয়াদিল্লির বিমানবন্দর থেকে দেশে ফিরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ইন্ডিয়ান ওশেন রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ) সম্মেলনে অংশ নিতে তিনি গতকাল রোববার ঢাকা থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।
১ ঘণ্টা আগে
কমিশন নয়, গুমের অভিযোগ তদন্ত করবে পুলিশ তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের তদন্তও করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়ায় এমন বিধান রাখা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় এই খসড়া করেছে।
৭ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সদস্যরা। আজ রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষের বাইরে সাক্ষাৎ করেন তাঁরা।
১১ ঘণ্টা আগে