
সরকার জ্বালানি তেল বিপণনে বিভিন্ন স্তরে সীমা বেধে দেওয়ার পর ফিলিং স্টেশনগুলোয় তেল না পেয়ে ভোক্তারা হামলা চালাচ্ছেন অভিযোগ করেছেন পাম্প মালিকেরা। তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নিরাপত্তা না পেলে তাঁরা ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হবেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকার একদিকে দেশে পর্যাপ্ত তেলের মজুত থাকার কথা বলছে, অন্যদিকে রেশনিং করে তেল সরবরাহের নির্দেশ দিচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ফলে পাম্পগুলোয় দীর্ঘ সারি, বিশৃঙ্খলা ও হামলার ঘটনাও ঘটছে।
রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে একটি হোটেলে আজ বুধবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক। তিনি চলমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে আট দফা দাবি জানান।
নাজমুল হক বলেন, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতার কারণে সরকার জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে। পাম্প মালিকেরা সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তা বাস্তবায়ন করছেন। তবে একদিকে সরকার পর্যাপ্ত মজুতের কথা বলছে, অন্যদিকে সীমা নির্ধারণ করে তেল দেওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছে- এই দ্বৈত অবস্থানের কারণে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সরকার নিজস্ব কৃচ্ছ্রতার নীতি পাম্প মালিকদের দিয়ে বাস্তবায়ন করছে। এতে তেলের ভোক্তা ও পাম্প মালিকেরা এখন মুখোমুখি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাম্পে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় উত্তেজনা বাড়ছে। কোথাও কোথাও হামলার ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি সুনামগঞ্জে এক পাম্প কর্মচারীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়। পাম্প মালিকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় নিয়মিত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের বিক্রির তুলনায় ১০ শতাংশ কম সরবরাহ দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও বাস্তবে তার চেয়েও কম দেওয়া হচ্ছে। অথচ এ সময়ে যানবাহনের সংখ্যা ও তেলের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। ফলে বাস্তবে ঘাটতি আরও প্রকট হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেলের জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে ৫ লিটার অকটেন দেওয়ার সরকারি নির্দেশনার সমালোচনা করা হয়। পাম্প মালিকদের মতে, কাগজপত্র যাচাই করতে সময় লাগবে, এতে লাইনে দাঁড়ানো অন্য গ্রাহকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হবে এবং বিশৃঙ্খলা বাড়তে পারে।
পাম্প মালিকেরা জানান, শহরের বহুতল ভবনের জেনারেটর ও গ্রামাঞ্চলের সেচ পাম্পের জন্য আলাদা কোনো নির্দেশনা না থাকায় পাম্পগুলোয় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। অনেক কৃষক সেচ পাম্প চালানোর জন্য তেল পাচ্ছেন না বলেও তাঁরা দাবি করেন।
পাম্প মালিকদের আট দফা দাবি
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে আট দফা দাবি জানিয়েছে পাম্প মালিকদের সংগঠন। দাবিগুলো হলো প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে পুলিশের পাশাপাশি সেনাসদস্য মোতায়েন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; মোটরসাইকেলে তেল সরবরাহে কোনো ধরনের বিভাজন না রাখা; বড়-ছোট সব পাম্পে সমানভাবে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা; বিপণন কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে তেল সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি করা; এজেন্সি, পিক পয়েন্ট ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে তেল সরবরাহ চালু করা; মনিটরিংয়ের নামে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে সামাজিকভাবে হেয় করা বন্ধ করা; কোনো পাম্প বা নৌযানে অবৈধ মজুত ধরা পড়লে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; এবং তেল ডিপোগুলোতে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ করা।
সংগঠনের সভাপতি নাজমুল হক বলেন, এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করে পাম্প মালিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে তাঁরা পাম্প পরিচালনা বন্ধ রাখতে বাধ্য হতে পারেন। তখন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার দায় সরকারের ওপরই বর্তাবে।

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ফোনালাপ নিয়ে ইসহাক দার তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘মোহাম্মদ ইসহাক দারের আজ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় তাঁরা মধ্যপ্রাচ্য এবং বৃহত্তর অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক শান্তি...
৩৮ মিনিট আগে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণে একাধিক দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আজ বুধবার রাত ১২টার আরও ২৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে গত দুই সপ্তাহে মোট ৪১৯টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হলো...
৩ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘদিন স্থগিত থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা–সিলেট–ম্যানচেস্টার রুট। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এই রুটে পুনরায় ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
দেশে গায়েবি ও মিথ্যা মামলা করার সংস্কৃতি অনেকটাই কমিয়ে আনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও জোরপূর্বক গুম এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছে এবং গায়েবি ও মিথ্যা মামলা করার সংস্কৃতিও অনেকাংশে কমেছে।
৪ ঘণ্টা আগে