Ajker Patrika

রামগড়ে পাহাড় কাটা বরদাশত করা হবে না, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ নৌপরিবহন উপদেষ্টার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। ফাইল ছবি
উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। ফাইল ছবি

খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দরসংশ্লিষ্ট এলাকায় পরিবেশ সংরক্ষণে নিয়মিত নজরদারি জোরদার এবং সেখানে পাহাড় কাটায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, পরিবেশ ধ্বংস, অবৈধ পাহাড় কাটা কিংবা সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম সরকার কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।

আজ বুধবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় এক দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় ৭ জানুয়ারি ‘ভারতের জন্য বন্দর নির্মাণে পাহাড় কেটে জমি ভরাট’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দরের জমি ভরাট কার্যক্রমে পরিবেশ ধ্বংস করে নির্বিচারে পাহাড় কাটার অভিযোগ তোলা হয়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন, পরিবেশগত ও কারিগরি দিক মূল্যায়ন এবং কোনো অনিয়ম থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন।

সরেজমিন পরিদর্শন, প্রকল্পের নথিপত্র পর্যালোচনা, স্থানীয় জনগণের সাক্ষাৎকার, প্রকৌশলগত মান যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থলবন্দরের সাইট ডেভেলপমেন্ট ও বালু ভরাটের কাজ ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৩২ দশমিক ২৮১ ঘনমিটার বালু ভরাটের বিপরীতে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫০৯ দশমিক ২৪৪ ঘনমিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ২০ দশমিক ১৫ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। অবশিষ্ট প্রায় ৪৮ লাখ টাকার বিল পরিশোধ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তদন্ত কমিটি আরও জানায়, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় ৭ জানুয়ারি প্রকাশিত ছবি ও সংবাদ স্থলবন্দরের জমি ভরাট কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত নয়। বালুর গুণগত মান যাচাইয়ে চুক্তি অনুযায়ী FM (Fineness Modulus) শূন্য দশমিক ৮০ হওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষায় ১ দশমিক ৬২ ও ১ দশমিক ৮৪ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে আরও নিরপেক্ষ মতামতের জন্য প্রয়োজনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) বা সমমানের স্বীকৃত ল্যাবে পুনরায় পরীক্ষা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

অবকাঠামোগত পরিদর্শনে কিছু স্থানে প্লাস্টারের কিউরিং ঘাটতির কারণে সামান্য ত্রুটি পাওয়া গেলেও বড় ধরনের কাঠামোগত সমস্যা বা বসে যাওয়ার প্রমাণ মেলেনি। এসব ত্রুটি সহজে মেরামতের মাধ্যমে সংশোধনযোগ্য বলে মত দিয়েছে তদন্ত কমিটি।

পরিবেশগত দিক পর্যালোচনায় কমিটি জানায়, রামগড় এলাকায় অতীতে অবৈধ পাহাড় কাটার ঘটনায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে এবং জরিমানা আদায় করা হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে কমিটি নিশ্চিত হয়েছে, সাম্প্রতিক পাহাড় কাটার অভিযোগ স্থলবন্দরের প্রকল্প কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।

তবে আজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নৌপরিবহন উপদেষ্টা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, পরিবেশ ধ্বংস, অবৈধ পাহাড় কাটা কিংবা সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম সরকার কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।

তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী, পরিবেশ সংরক্ষণে নিয়মিত নজরদারি জোরদার, অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং রামগড় স্থলবন্দরের অবকাঠামোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত