
দেশের মানুষ যেসব রোগে ভুগছে সেই তালিকায় সবার ওপরে আছে উচ্চ রক্তচাপ। প্রতি ১ হাজার মানুষের মধ্যে ৭৮ দশমিক ২৮ জন এই রোগে আক্রান্ত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপে উঠে এসেছে এই তথ্য।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে গতকাল রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। বিবিএস জানায়, ‘হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে’ নামের এই জরিপ চালানো হয় গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে। সারা দেশে ৪৭ হাজার ৪০টি খানা (পরিবার) এবং ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৮৬ মানুষের ওপর জরিপ চালানো হয়।
ফলাফলে দেখা যায়, জরিপের আগের ৯০ দিনে প্রতি ১ হাজার মানুষের মধ্যে ৩৩২ জন বা ৩৩ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো রোগে ভুগেছেন। ১০টি রোগের তালিকার শীর্ষে ছিল উচ্চ রক্তচাপ। এরপর যথাক্রমে ১ হাজার মানুষের মধ্যে পেপটিক আলসার (৬৩ দশমিক ৭৯ জন), ডায়াবেটিস (৪৩ দশমিক ১৫ জন ), বাত বা আর্থ্রাইটিস (৩৯ দশমিক ৭৫ জন), চর্মরোগ (৩৭ দশমিক ২৩ জন), হৃদ্রোগ (৩১ দশমিক ৩২ জন), হাঁপানি (৩০ দশমিক ৯৪ জন), অস্টিওপরোসিস (২২ দশমিক ৩০ জন), হেপাটাইটিস (২২ দশমিক ৩০ জন) এবং ডায়রিয়ায় (১৫ দশমিক ৮৯ জন) ভোগেন।
জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, দেশে সন্তান জন্মদানে অস্ত্রোপচারের (সিজারিয়ান) হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এখন মোট প্রসবের ৪৯ শতাংশই হচ্ছে অস্ত্রোপচারে। এতে খরচের পরিমাণ স্বাভাবিক প্রসবের তুলনায় পাঁচ গুণের বেশি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হজুর আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
দেশের পরিবারকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ, রোগব্যাধি ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের অভ্যাসে বড় পরিবর্তনের একটি চিত্র উঠে এসেছে সর্বশেষ জাতীয় জরিপে। পরিবারে সদস্যসংখ্যা কমছে, তবু গড় পরিবারপ্রধান এখনো পুরুষই।
জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, দেশে গড়ে একটি পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৪ দশমিক ০৩ জন। গ্রামে পরিবার তুলনামূলক বড়, শহরে ছোট। ৮৯ শতাংশ মানুষ নিজের বাড়িতে থাকে, ভাড়াটিয়া মাত্র ৯ শতাংশ। পরিবারপ্রধানের ৮৩ শতাংশই পুরুষ, নারীপ্রধান পরিবারের হার ১৭ শতাংশ এবং গ্রামেই নারীপ্রধান পরিবারের হার তুলনামূলক বেশি।
জরিপে দেখা যায়, মশা প্রতিরোধে ৯৭ শতাংশ মানুষ এখনো মশারি ব্যবহার করে। মশা মারার ইলেকট্রিক ব্যাট বা ম্যাট শহরে গ্রামের তুলনায় ছয়গুণ বেশি ব্যবহৃত হয়। রিফিলার ব্যবহার করেন প্রতি ১০০ জনে ৭৩ জন।
জরিপ মতে, সবচেয়ে বেশি চিকিৎসা নেওয়া হয় ওষুধের দোকান বা ডিসপেনসারি থেকে–৫১ শতাংশ। সরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিতে যায় মাত্র ১১ শতাংশ মানুষ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ২০ শতাংশ। চিকিৎসা নিতে গড়ে খরচ ২ হাজার ৪৮৭ টাকা, শহরে এ ব্যয় বেশি।
স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া নিয়েও ভোগান্তি রয়েছে; প্রতি পাঁচজনে একজনকে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে যেতে ১০ কিলোমিটার বা তার বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়। মাত্র ০.৫ শতাংশ পরিবার জেলা হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করে।
জরিপে দেখা যায়, ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী জনগোষ্ঠীর ২৬.৭ শতাংশ তামাক ব্যবহার করে। পুরুষের হার ৩৭.৯ শতাংশ, নারীর ১৬.৫ শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে এ হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। দেশে টয়লেট ব্যবহারের পর হাতে সাবান ব্যবহার করেন মাত্র ৬৫ শতাংশ মানুষ। তবে শহরে এ হার তুলনামূলক বেশি।

ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে অভিবাসন (ইমিগ্রেশন) কর্তৃপক্ষের ‘অসৌজন্যমূলক আচরণ’ এবং দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখার প্রতিবাদে সরকারি সফর বাতিল করে দেশে ফিরে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
২৩ মিনিট আগে
ভারতের নয়াদিল্লির বিমানবন্দর থেকে দেশে ফিরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ইন্ডিয়ান ওশেন রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ) সম্মেলনে অংশ নিতে তিনি গতকাল রোববার ঢাকা থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।
৩৮ মিনিট আগে
কমিশন নয়, গুমের অভিযোগ তদন্ত করবে পুলিশ তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের তদন্তও করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়ায় এমন বিধান রাখা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় এই খসড়া করেছে।
৭ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সদস্যরা। আজ রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষের বাইরে সাক্ষাৎ করেন তাঁরা।
১০ ঘণ্টা আগে