Ajker Patrika

আসিফ নজরুল ও তাঁর পিএসের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকে আবেদন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ২২
আসিফ নজরুল ও তাঁর পিএসের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকে আবেদন
অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। ফাইল ছবি

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তাঁর একান্ত সচিব (পিএস) শামসুদ্দিন মাসুমের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ২৮২ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি করে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে অনুসন্ধান চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে।

আজ বুধবার দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার (অনুসন্ধান) বরাবর এই আবেদন জমা দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কমিশন না থাকায় এই আবেদনের বিষয়ে দুদকের কর্মকর্তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

আবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন সাব-রেজিস্ট্রার বদলি ও পদায়নে ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন ও নীতিমালা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে সাব-রেজিস্ট্রারদের পছন্দের কর্মস্থলে বদলি দিতে জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা হতে পারে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে বদলি করা হয়, যার মধ্যে অন্তত ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বদলি নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অতীতে মাত্র আট মাসে এত বিপুলসংখ্যক বদলির নজির নেই বলেও আবেদনে দাবি করা হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, বদলির নীতিমালা অনুযায়ী এ, বি ও সি গ্রেডের অফিসে একই গ্রেডের কর্মকর্তাদের পদায়ন করার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষের বিনিময়ে সি ও বি গ্রেডের সাব-রেজিস্ট্রারদের এ গ্রেডের অফিসে পদায়ন করা হয়েছে। এমনকি যোগদানের আগের দিনও বদলির আদেশ পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়, বদলি-বাণিজ্যের মাত্রা এতটা বেড়ে যায় যে গত বছরের ১ জুন আইন মন্ত্রণালয় নিজেই একটি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে বলা হয়, জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার বদলি-পদায়নে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই এবং এ ধরনের প্রতারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়। তবে আবেদনকারীর দাবি, ওই বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই শত শত বদলিতে বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়ে যায়।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আসিফ নজরুল একাধিক জেলা রেজিস্ট্রারের পদোন্নতি ও বদলির আদেশ দেন। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ১৭ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি করা হয়। সেই আদেশেই নীতিমালা ভঙ্গ করে কয়েকজনকে গ্রেডের বাইরে পদায়ন করা হয় বলে অভিযোগ।

আবেদনে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, নীলফামারীর জলঢাকার সাব-রেজিস্ট্রার মনীষাকে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে বদলি করা হয়। পরে চার মাসের মধ্যে তাঁকে আবার দিনাজপুরের হাকিমপুরে বদলি করা হয়। কিন্তু যোগদানের আগের দিনই আবার তাঁকে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ধরনের অনেক উদাহরণ রয়েছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন তাঁর আবেদনে অভিযোগ করেন, আইন উপদেষ্টার পিএস শামসুদ্দিন মাসুমের মাধ্যমে এসব ঘুষ লেনদেন পরিচালিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বদলি-বাণিজ্যের বাইরে ‘অনুরোধ’ ও ‘নির্দেশ’-বাণিজ্যের মাধ্যমেও সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি যথাযথভাবে অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে যদি ইতিমধ্যে দুদক কোনো অনুসন্ধান শুরু করে থাকে, তাহলে সে তথ্য আবেদনকারীকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ: শেষ মুহূর্তে সময় চাইলেন বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার বললেন—সুযোগ নেই

ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব—শান্তির রূপরেখা নাকি ট্রাম্পের জন্য কূটনৈতিক ফাঁদ

হরমুজ প্রণালিতে কি ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেই সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংসদে পাস

যুদ্ধবিরতি: হরমুজ থেকে টোল আদায় করবে ইরান-ওমান

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত