Ajker Patrika

একাত্তরের সঙ্গে চব্বিশ মিলিয়ে ফেললে বড় বিপর্যয় হবে: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
একাত্তরের সঙ্গে চব্বিশ মিলিয়ে ফেললে বড় বিপর্যয় হবে: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) আয়োজিত ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা- ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সঙ্গে আর কোনো রাজনৈতিক অর্জনের তুলনা চলে না বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। ’২৪ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন বড় ‘রাজনৈতিক অর্জন’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ঠিকানা মুক্তিযুদ্ধ এবং আমাদের ঠিকানা ৭১। আমাদের হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ অর্জন আমাদের স্বাধীনতা।’

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর নগর ভবনে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) আয়োজিত ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা- ২০২৬’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ’৯০ এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন, ’২৪ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন- এগুলো আমাদের বড় রাজনৈতিক অর্জন। স্বাধীন দেশে এই রাজনৈতিক অর্জনগুলোকে আমরা শ্রদ্ধা করি। তাই বলে এই অর্জনগুলোর সঙ্গে আমরা যদি স্বাধীনতাকে সমানতালে মিলিয়ে ফেলি, তবে তা হবে আমাদের জন্য অনেক বড় বিপর্যয়ের কারণ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা একবারই এসেছে, এর আগেও আসেনি, আবার পরেও আসবে না।

মন্ত্রী জানান, তাঁর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত শহীদদের সংখ্যা, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের এবং মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের সঠিক তালিকা প্রণয়নের মতো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কাজ করবে। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের বেতন-ভাতা, আবাসন ও চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বিবেচনায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেওয়া না হলে, দেশ কখনো এগিয়ে যেতে পারে না। মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো দল নেই, তাঁরা এ দেশের। মুক্তিযোদ্ধারা দেশের মালিকানার একমাত্র দাবিদার হওয়া সত্ত্বেও তারা দেশে সব সময় জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন।’

তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিনা মূল্যে চিকিৎসা, আবাসন ও উন্নত পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগরীর প্রায় দেড় হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধা অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে বীর শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের ওপর বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয় অনুষ্ঠানে। পরবর্তীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানার্থে সম্মাননা স্মারক, ফুলেল শুভেচ্ছা ও উত্তরীয় প্রদান করা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে একাত্তরের রণাঙ্গনের স্মৃতিচারণ করেন ক্যাপ্টেন নুরুল হুদা (সিটুসি) ৯ নম্বর সেক্টর; বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নঈম জাহাঙ্গীর ও সদস্যসচিব সাদেক আহমেদ খান; জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আহ্বায়ক ইশতিয়াক আজীজ উলফাত এবং বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) জয়নাল আবেদীনসহ প্রমুখ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পরিচালিত স্কুলের শিক্ষার্থীরা দেশাত্মবোধক গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন। এ ছাড়া, গান পরিবেশন করেন বেবি নাজনীন, ইথুন বাবু, রিজিয়া পারভীন, মৌসুমি চৌধুরী ও শিবা শানু।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ব্যাংক এশিয়ার কাছে ৪৭.৫ মিলিয়ন ডলারে বাংলাদেশি কার্যক্রম বিক্রি করছে পাকিস্তানি ব্যাংক আলফালাহ

আমির হামজার বিস্ফোরক মন্তব্য: ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী টুকু নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’

যুক্তরাজ্যের একটি বন্য প্রাণী পার্কে পুরো নেকড়ে দলকে হত্যা

দেশের সব পেট্রলপাম্পে নিয়োগ হবে ট্যাগ অফিসার

সৌদি যুবরাজ আমাকে তোষামোদ করছেন: ট্রাম্প

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত