Ajker Patrika

দলিল আটকে দেওয়ার কথা বলে ৩৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 
দলিল আটকে দেওয়ার কথা বলে ৩৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে
সাবরেজিস্ট্রার মো. নাজমুল হুদা ও পিয়ন মো. আবদুস সালাম মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দলিল আটকে দেওয়ার কথা বলে নগদ ৩৩ লাখ টাকা ও স্বর্ণের আংটি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবরেজিস্ট্রার মো. নাজমুল হুদা ও তাঁর পিয়ন মো. আবদুস সালাম মিয়ার বিরুদ্ধে। তবে তাঁরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সাবরেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে, দলিল হওয়া জমির পরিমাণ ১ একর সাড়ে ১৪ শতাংশ। গত মাসের ৯ তারিখে দলিলটি পার হয়েছে। দলিল নম্বর ১৪০৪। দাতা মৃত অক্ষয় কুমার ঘোষের ছেলে মদন মোহন ঘোষ। গ্রহীতা মৃত মো. কছিম উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে মো. হাবিবুর রহমান। গ্রহীতার বাড়ি সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়।

জানা যায়, ভুক্তভোগী সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের বিউটি বেগমের বাবার বাড়ি বরিশাল। ১৯৮৮ সালে বিয়ে করেন তিনি রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের মির্জাপুর দিগর গ্রামের বকুল ঘোষকে। বিয়ে আগেই অবশ্য স্বামী নওমুসলিম হলে নাম রাখা হয় মো. বাবলু মিয়া। পরবর্তীকালে ২০১১ সালে ২ একর জমি বিউটি বেগমকে দলিল করে দেন তার শ্বশুর মদন মোহন ঘোষ। স্বামী সৌদিতে থাকতেন। সেখানেই তিনি ২০১৫ সালে মারা যান। পরবর্তীকালে বিউটি বেগমের শ্বশুর ও তাঁর বাড়ির লোকজন অন্যত্র চলে গেলে তিনি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নে আশ্রয় নেন।

ভুক্তভোগী বিউটি বেগম বলেন, ‘এখানে আমার আপনজন বলতে তেমন কেউ নেই। সেই সুবাদে হাবিবুর রহমান আমার জমি দলিল করি নেওয়ার চেষ্টা চালান। বিষয়টি জানতে পেয়ে আমি সাবরেজিস্ট্রার অফিসে দলিল ঠেকানোর জন্য যাই। তখন এ অফিসের পিয়ন মো. আবদুস সালাম মিয়া বলেন টাকা দিলে দলিল ঠেকানো যাবে। এতে আমি রাজি হই এবং টাকা দেওয়া শুরু করি। ২০ হাজার, ১০ হাজার, ৫ হাজার করে এ পর্যন্ত মো. আবদুস সালাম মিয়াকে আমি ৩১ লক্ষ টাকা দিয়েছি। আমার হাতে একটা স্বর্ণের আংটি ছিল সেটাও সালামকে দিয়েছি। কয়েক দিন আগে এ অফিসের সাবরেজিস্ট্রার অফিসারকেও দুই লক্ষ টাকা দিয়েছি। এখন শুনতে পেলাম জমির দলিল নাকি পার হয়ে গেছে। বিষয়টি জানার জন্য সাবরেজিস্ট্রার অফিসারকে জিজ্ঞেস করি। তখন উনি বলেন জমির দলিল পার হইছে তাতে কী হইছে? তখন আমি বলি স্যার আপনি যে আমার কাছে দুই লক্ষ টাকা খাইলেন, তাহলে ওর কাছে কত লক্ষ টাকা খাইলেন? তখন উনি (সাবরেজিস্ট্রার) বলেন খাইছি তার খাইছি তাতে কী হইছে?’

এ বিষয়ে কথা হয় জমি গ্রহীতা মো. হাবিবুর রহমানের সঙ্গে। চরম ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে এ জমি দলিলের প্রসেস করি। পরে গত মাসের ৯ তারিখে দলিলটি সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ এ সময় ধরে আমার ওপর অমানবিক নির্যাতন বহুবার চালিয়েছেন দলিল অফিস ও বাহিরের বিভিন্ন লোকজন। টাকাও নিয়েছেন তারা অনেক। কাউকে বলিনি। তবে সময় এসেছে সবার মুখ উন্মোচন করে দেওয়ার।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি বিউটি বেগমের জমি নিইনি। আর যদি নিয়ে থাকি, প্রমাণ দিতে পারলে জমি আমি ফেরত দিব তাকে।’

দলিল লেখক মো. সবুজ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্ত সাবরেজিস্ট্রার অফিসের পিয়ন মো. আবদুস সালাম মিয়া বলেন, ‘বিউটি বেগমকে আমি চিনি। তবে তার কাছ থেকে আমি কোনো আংটি বা টাকা নিইনি।’

জানতে চাইলে উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার মো. নাজমুল হুদার বলেন, ‘কথিত অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাকে তিনি কোনো টাকা দেননি। আর আমার অফিসের সালাম মিয়ার বিরুদ্ধে যদি কারও কোনো অভিযোগ থাকে, সে লিখিতভাবে অভিযোগ দিবে। আমরা তদন্ত করে দেখব। তদন্তে প্রমাণিত হলে আমরা তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত