
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে একের পর এক দেশের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় সৌদি আরবে ওমরাহ করতে গিয়ে আটকে পড়েছেন প্রায় সাড়ে চার হাজার বাংলাদেশি যাত্রী। সরাসরি ফ্লাইটে যাওয়া কিছু যাত্রী নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে পারলেও কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত হয়ে ট্রানজিটে যাওয়া যাত্রীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাঁরা নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে পারছেন না।
ওমরাহযাত্রীদের একটি বড় অংশ এখন সৌদি আরবেই অবস্থান করছেন। নতুন করে টিকিট কেটে দেশে ফেরার চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত চাহিদার কারণে সরাসরি ফ্লাইটের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। অল্পসংখ্যক টিকিট মিললেও একমুখী ভাড়া ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রায় তিন-চার গুণ বেশি।
সৌদি আরবে আটকে পড়া যাত্রীদের একজন সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন। তিনি রমজানের শুরুতে ওমরাহ করতে যান। তাঁর ফিরতি ফ্লাইট ছিল ২৩ মার্চ। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ফেরার দিন বিমানবন্দরে গিয়ে জানতে পারি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। পরে আমাদের মক্কায় ফেরত পাঠানো হয়। বাস ভাড়ার টাকাও ছিল না, ধার করে ভাড়া দিতে হয়েছে। এখনো অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে দেশে ফেরার টিকিট কিনতে পারিনি’।
হজ এজেন্সিগুলোর সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, ট্রানজিট ফ্লাইটে সৌদি আরবে যাওয়া যাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন। ফ্লাইট বাতিলের কারণে তাঁদের ফিরতি যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় অনেকেই হোটেল ভাড়া, খাবার ও অন্যান্য খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আটকে পড়া যাত্রীদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়েছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।
হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ঠিক কতজন যাত্রী আটকা পড়েছেন তার নির্ভুল হিসাব না থাকলেও সংখ্যা ৪ থেকে ৫ হাজার হতে পারে। ট্রানজিট ফ্লাইটে যাওয়া যাত্রীদের অধিকাংশের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে বিমান সংস্থাগুলোর শিডিউলেও বড় বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, ‘৭ মার্চ আমরা বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছি এবং অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এমনকি বিজনেস ক্লাসেও টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে।’
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আকাশপথেও। রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত এক মাসে ৭৯৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কাতারগামী ফ্লাইটগুলো বেশি বাতিল হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সূত্রগুলো বলেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের ফ্লাইট পরিচালনায়। ওই দিন ২৩টি ফ্লাইট বাতিলের পর ১ মার্চ ৪০টি এবং ২ মার্চ সর্বোচ্চ ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩৫টি ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। সর্বশেষ ২৭ মার্চ দিবাগত রাতের পরও ফ্লাইট বাতিলের ধারা অব্যাহত রয়েছে। এদিন কুয়েত এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া, গালফ এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস ও জাজিরা এয়ারওয়েজসহ বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মোট ২২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

ওমরাহ ও ভিজিট ফোরামের সভায় যোগ দিতে সৌদি আরব গেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রী তৌফিক বিন ফাউজান আল রাবিয়াহর আমন্ত্রণে তৃতীয় ওমরাহ ও ভিজিট ফোরামের সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ধর্মমন্ত্রীর।
১ ঘণ্টা আগে
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি আগামীকাল রোববার তৃতীয় দফায় বৈঠকে বসছে। বৈঠকটি রাত সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
২ ঘণ্টা আগে
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও দেশে তেলের দাম না বাড়ানো সরকারের একটি বড় সফলতা বলে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘অগ্রিম প্রস্তুতির কারণে সফলতাটা এসেছে। আমাদের পরিকল্পনা জনমনে স্বস্তি দেওয়া। বিশেষ করে এ সময়ে বোরো মৌসুমের সময়, যাতে কৃষি উৎপাদনে কোনো সংকট না হয়।
২ ঘণ্টা আগে
দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি ও চোরাচালান রোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার প্রতি মাসে ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি
৩ ঘণ্টা আগে