Ajker Patrika

দেশের এইচএসসি সিঙ্গাপুরের ক্লাস সিক্সের সমান: সংসদে ববি হাজ্জাজ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ২০: ২৫
দেশের এইচএসসি সিঙ্গাপুরের ক্লাস সিক্সের সমান: সংসদে ববি হাজ্জাজ
সংসদে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

বিগত ২০ বছরের অবহেলায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এমন শোচনীয় দশা হয়েছে যে, বাংলাদেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে সিঙ্গাপুরের ষষ্ঠ শ্রেণির সঙ্গে তুলনা করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

আজ রোববার জাতীয় সংসদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন।

বিগত ২০ বছরের শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘অতীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় যে চরম নৈরাজ্য চলেছে তা এখন স্পষ্ট, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় অনেক শিক্ষার্থী পাস পর্যন্ত করতে পারে না। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ সিঙ্গাপুরে আমাদের দেশের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) লেভেলকে তাদের ষষ্ঠ শ্রেণির সমমান হিসেবে তুলনা করা হয়। এই শোচনীয় দশা থেকে উত্তরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলাম, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো এবং প্রশাসনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কারের হাত দেওয়া হয়েছে।’

বক্তব্যের শুরুতেই প্রতিমন্ত্রী নতুন বাজেটকে অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে জনগণবান্ধব এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেই পরিষ্কার ছিল যে শিক্ষা খাতকে জাতির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হবে। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং অর্থমন্ত্রী প্রথম থেকেই এই দূরদর্শী চিন্তা ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশ ও জাতির সামনে এবারই প্রথম দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় বিনিয়োগের অংশ হিসেবে সামগ্রিক শিক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা খাতকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে একে পুরোপুরি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

সংসদে ও সংসদের বাইরে রাজনৈতিক বিরোধীদের নেতিবাচক প্রচারণার সমালোচনা করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তাঁদের আলোচনা গঠনমূলক না। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার পরে এ সংসদ। জনগণকে একটা সুন্দর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আমরা দেব। আলোচনার মাধ্যমে সেরা দিকগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরব।’

তিনি বলেন, ‘সরকার সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রাথমিকে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। বিরোধীদের কেউ কেউ নেতিবাচক আলোচনা শুরু করেছেন সাংস্কৃতিক কারিকুলাম নিয়ে। কিন্তু আমাদের সবার নজর রাখতে হবে আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিরোধী শিবিরেরই অনেকে অতীতে নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন যা, ভদ্র সমাজে উচ্চারণ করা যায় না। সেই একই নোংরা মনোভাব থেকে তাঁরা এখন অপপ্রচার চালাচ্ছেন যে, সাংস্কৃতিক শিক্ষা নাকি সন্তানদের ভুল পথে নিয়ে যাবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান আমাদের যে নতুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথ দেখাচ্ছেন, সেখানে পৌঁছাতে হলে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ও ক্রিয়েটিভ চেতনার জায়গা তৈরি করতে হবে। আর সে জন্যই সংস্কৃতি ও ক্রীড়াকে শিক্ষার বড় অংশ করা হয়েছে।

বাজেটের অর্থনৈতিক দিক ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘এটি একটি আশাবাদী ও জনবান্ধব বাজেট। এখানে জনগণের ওপর বিনিয়োগের পাশাপাশি ক্রিয়েটিভ ইকোনমি এবং পুরোনো ফ্যাক্টরিগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে সাপ্লাই সাইড এক্সপ্যানশনের সুনির্দিষ্ট জায়গা রাখা হয়েছে।’

শিক্ষা বাজেটের আকার বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ জানান, অতীতে শিক্ষা খাতে জিডিপির ১ দশমিক ৩ বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বরাদ্দ থাকলেও এবার তা বৃদ্ধি করে ২ শতাংশ করা হয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে এটি পর্যায়ক্রমে ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্ব দরবারে ঈর্ষণীয় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান, তাঁরা গঠনমূলক সমালোচনা করলেও দেশের এই মূল লক্ষ্য অর্জন ও অগ্রযাত্রায় যেন কোনো বাধা সৃষ্টি না করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত