Ajker Patrika

যাকাত ব্যবস্থাপনা কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
যাকাত ব্যবস্থাপনা কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএম অফিস

দেশের যাকাত ব্যবস্থাপনায় সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘পরিকল্পিতভাবে যাকাত বন্টন করা গেলে দারিদ্র বিমোচনে যাকাত যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। এমন বাস্তবতায় সরকার যাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর এবং লক্ষ্যভিত্তিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’

আজ শনিবার আলেম ওলামা মাশায়েখ এবং এতিমদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই ইফতারের আয়োজন করা হয়।

দেশের যাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লক্ষ্যভিত্তিক এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে যাকাত দেওয়া হলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধুমাত্র যাকাত ব্যাবস্থাপনার মাধ্যমেই দেশে দারিদ্র বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।’

যাকাত নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনের উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘প্রতি বছর বাংলাদেশে এই যাকাতের পরিমাণ ২০/২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়ে থাকে। কেউ কেউ এর পরিমাণ আরও অনেক বেশি বলেছেন। তবে সুপরিকল্পিত এবং সুসংগঠিতভাবে যাকাত বন্টন না করায় বিত্তবান ব্যক্তির যাকাত আদায় হয়ে গেলেও যাকাতের অর্থ দারিদ্র বিমোচনে কতটা ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে এটি একটি বড় প্রশ্ন।’

ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএম অফিস
ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএম অফিস

তারেক রহমান বলেন, ‘ধনী দরিদ্র সব মিলিয়ে দেশে বর্তমানে পরিবারের সংখ্যা কমবেশি ৪ কোটি। এসব পরিবারগুলোর মধ্যে যদি দরিদ্র কিংবা হত দরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতি বছর পর্যায়ক্রমে ৫ লাখ পরিবারকে এক লাখ করে টাকা করে যাকাত দেওয়া হয়... আমার বিশ্বাস এসব পরিবারগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ পরিবারকে পরের বছর আর যাকাত নাও দিতে হতে পারে।’

যাকাতের সঠিক ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখতে দেশের আলেম সমাজের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দারিদ্র বিমোচনে যাকাত ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আপনাদের কাছে যৌক্তিক মনে হলে এ ব্যাপারে বিত্তবানদের সচেতন করার ক্ষেত্রে আপনারা আলেম ওলামা মাশায়েখগণ সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করতে পারেন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন করার লক্ষ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ওলামা, ইসলামিক স্কলার এবং সরকারি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদ্যমান ‘যাকাত বোর্ড’ কে পুনর্গঠন সম্ভব। যাকাতকে দারিদ্র বিমোচনে ব্যবহার করে ইসলামী বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে বলেও আমি মনে করি।’

রমজানে অসাধু পন্থায় নিত্য পণ্যের দাম না বাড়াতেও এসময় ব্যবসায়ীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পবিত্র রামাদান ত্যাগ এবং সংযমের মাস। রহমত-বারকাত-সংযমের মাস। অথচ অপ্রিয় হলেও সত্য...রামাদ্বান আসলেই আমাদের কেউ কেউ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেন। রামাদ্বান মাসকে লোভ-লাভের মাস বানিয়ে ফেলেন। পবিত্র রামাদ্বান মাসেও যারা অসাধু পন্থা অবলম্বন করছেন...আপনাদের প্রতি আমার বিনীত আহবান, অনুগ্রহ করে আপনারা মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না।’

ইফতার আয়োজন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘ইসলামী ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি অনুযায়ী অতীতের প্রতিটি রামাদানের প্রায় প্রতিদিনই আমরা বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করে আসছিলাম। আলেম ওলামা মাশায়েখ এবং ইয়াতিমদের সম্মানে আমরা সাধারণত পবিত্র রামাদানের প্রথম দিনেই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে থাকি। তবে দেশের চলমান বাস্তবতায় এবার আমাদেরকে একটু দেরি করেই আপনাদের সঙ্গে নিয়ে ইফতারের আয়োজন করতে হয়েছে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে গ্যাস বিদ্যুৎ জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যায় সংকোচন এবং কৃচ্ছতা সাধনের অংশ হিসেবে এবারের রামাদ্বানে আজ এবং গতকালের ইফতার মাহফিলসহ মোট দুইটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি। বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবারের রামাদানে এটিই হয়তো শেষ ইফতার মাহফিল।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আজকের এই ইফতার মাহফিলের অংশগ্রহণকারী ইয়াতিম সন্তানেরাই আজকের সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ মেহমান। পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে এতিমের হক আদায়ের ব্যাপারে মুমিন মুসলমানদের প্রতি ইসলামের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। ইয়াতিমের প্রতি হক আদায়ের গুরুত্ব এবং ইয়াতিমদের নিয়ে আজকের এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন। এই ইফতার মাহফিল ইয়াতিমদের প্রতি বিত্তবানদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দায় দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রতিজন বিত্তবান যদি অসহায় এতিমদের প্রতি পবিত্র কোরাআন-হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে সচেষ্ট থাকেন...তাহলে আমি বিশ্বাস করি...পিতৃহারা এতিম সন্তানেরা এক বুক বেদনা বুকে নিয়েও রাষ্ট্র এবং সমাজে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা খুঁজে পাবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

প্রতিবেশী দেশে আর হামলা নয়, ক্ষমাও চাইলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট

হঠাৎ কেন প্রতিবেশী দেশে হামলা বন্ধের ঘোষণা দিল ইরান, নেপথ্যে কী

ব্রিটেনের ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বোমারু বিমান, হামলা কি রাতেই

বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনিসংকেত: দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ জ্বালানি তেলের দাম

ইরান যুদ্ধে হুতিদের নীরবতা কি তুমুল ঝড়ের পূর্বাভাস

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত