Ajker Patrika

বাস, ট্রেন নাকি ট্যাক্সি, যেভাবে ঘুরে দেখবেন সিউল

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
চাংদেওকগাং, দক্ষিণ কোরিয়া। ছবি: উইকিপিডিয়া
চাংদেওকগাং, দক্ষিণ কোরিয়া। ছবি: উইকিপিডিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল ঘুরে দেখতে হলে শহরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাতায়াত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পর্যটকদের জন্য স্বস্তির খবর হলো, সিউলের গণপরিবহনব্যবস্থা বিশ্বের সেরা ব্যবস্থাগুলোর একটি। পরিষ্কার, সময়নিষ্ঠ এবং যাত্রীবান্ধব এই নেটওয়ার্ক শহরজুড়ে চলাচলকে সহজ করে তুলেছে।

সিউলে বাস, পাতালরেল ও ট্যাক্সি—সব ক্ষেত্রে একটি পরিবহন কার্ড ব্যবহার করে ভাড়া পরিশোধ করা যায়। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত কার্ডগুলো হলো নামানে, টি-মানি ও ক্যাশবি। এসব কার্ড পরিবহন কেন্দ্র ও দোকানে সহজে পাওয়া যায় এবং বারবার রিচার্জ করে ব্যবহার করা যায়। পর্যটকদের কাছে টি-মানি বেশি জনপ্রিয়। কারণ, এটি দোকানেও কিছু কিনতে গেলে কাজে দেয়। দেশ ছাড়ার সময় বিমানবন্দরে কার্ডের টাকা ফেরত নেওয়ার সুযোগও রয়েছে এতে।

পাতালরেল সহজ উপায়

সিউলের পাতালরেল শহরে চলাচলের দ্রুত ও সাশ্রয়ী মাধ্যম। শহরজুড়ে বিস্তৃত বহু লাইনের এই নেটওয়ার্কে প্রতিটি স্টেশনে ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষায় নির্দেশনা থাকে। একটি যাত্রায় একাধিকবার লাইন বা বাস পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। সাধারণত রাতের দিকে কিছু সময় পাতালরেল বন্ধ থাকে। পাতালরেলে শৃঙ্খলা খুব গুরুত্বের সঙ্গে মানা হয়। বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত আসন খালি রাখাই ভদ্রতা হিসেবে ধরা হয়।

বাসে শহর চেনার সুযোগ

বাসে চলাচল পাতালরেলের তুলনায় কিছুটা সময়সাপেক্ষ হলেও শহরের ভেতরের এলাকা ঘুরে দেখার জন্য এটি দারুণ। বাসে চললে রাস্তার আশপাশের জীবন, দোকানপাট ও পরিবেশ কাছ থেকে দেখা যায়। প্রতিটি বাসস্টপেজে ডিজিটাল স্ক্রিনে কোন বাস কখন আসবে, সেই তথ্য আগেই দেখানো হয়। ফলে অপেক্ষার সময় সম্পর্কে যাত্রীরা সহজে ধারণা পান। সিউলের বাসগুলো রংভেদে আলাদা রুটে পরিচালিত হয়। কিছু বাস শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলাচল করে, আবার কিছু বাস নির্দিষ্ট এলাকা বা আশপাশের অঞ্চলে যাতায়াত করে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাত্রা বাস থেকে পাতালরেলে বা এক বাস থেকে অন্য বাসে বদল করলে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হয় না। এ কারণে শহরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো যাত্রীদের জন্য বাস ব্যবস্থা সহজ ও সাশ্রয়ী একটি বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

রাতের জন্য ট্যাক্সি

রাতে চলাচলের জন্য সিউলে ট্যাক্সি সুবিধাজনক। বিশেষ করে যখন পাতালরেল এবং কিছু রুটের বাস চলাচল বন্ধ থাকে। ট্যাক্সি ভাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত এবং যাত্রীরা কার্ড বা নগদ—দুভাবেই ভাড়া পরিশোধ করতে পারেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে সহজে ট্যাক্সি পাওয়া যায়। ভাষাগত বিভ্রান্তি এড়াতে গন্তব্যের নাম কোরিয়ান ভাষায় লেখা বা মোবাইলে দেখানো ভালো। কারণ, অনেক জায়গার নাম উচ্চারণে কাছাকাছি হওয়ায় ভুল-বোঝাবুঝি হতে পারে। কিছু ট্যাক্সিচালক খুব ছোট দূরত্বের যাত্রী নিতে অনীহা দেখান। তাই রাতের যাত্রায় সময় ও গন্তব্য সম্পর্কে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা উচিত।

ব্যক্তিগত গাড়ি নয়

সিউলে ব্যক্তিগত গাড়ি চালানো সাধারণত নিরুৎসাহিত করা হয়। শহরটিতে প্রায়ই তীব্র যানজট দেখা যায় এবং পার্কিংয়ের জায়গা পাওয়া বেশ কঠিন ও ব্যয়বহুল। বিশেষ করে স্বল্প সময়ের ভ্রমণ বা শহরের ভেতরে চলাচলের জন্য গাড়িভাড়া না নেওয়া ভালো। সে তুলনায় গণপরিবহন ব্যবস্থাই দ্রুত, সাশ্রয়ী এবং বেশি সুবিধাজনক।

সাইকেল ও হাঁটা

সিউলে সাইকেল চালানোর ব্যবস্থাও আছে, বিশেষ করে নদীর পাড় এবং নির্দিষ্ট পথে। তবে সব রাস্তায় আলাদা সাইকেল লেন নেই। শহরটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় অনেক দর্শনীয় স্থান হেঁটেই ঘোরা যায়। অল্প দূরত্বে ঐতিহাসিক প্রাসাদ, জাদুঘর ও ক্যাফে পাওয়া যায়।

প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবহন

সিউলের গণপরিবহনব্যবস্থা প্রতিবন্ধীবান্ধব হিসেবে পরিচিত। অধিকাংশ পাতালরেল স্টেশনে লিফট, বিশেষ টাইলস ও হুইলচেয়ার সুবিধা রয়েছে। বাসেও বিশেষ আসন ও ওঠানামার সুবিধা রাখা হয়েছে। যাতায়াতব্যবস্থা শহরটিকে পর্যটকদের জন্য আরও সহজ ও আরামদায়ক করে তুলেছে।

সূত্র: লোনলি প্ল্যানেট

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত