
শীতে খেজুর রসের তৃষ্ণা বেশ তাড়া করে। এবার সেই তাড়া গিয়ে ঠেকে শিকদারপাড়া হাজারীপল্লিতে। আমরা ছুটলাম মানিকগঞ্জের ঝিটকায়। যেতে যেতে মাঝখানে নবগ্রামে ব্রেক মেরে মান্তার মেলায় ঢুকে হালিম, রুটি, মিষ্টি আর শুকনো বালুসাই খাওয়া হলো। গ্রামীণ মেলা মানে মজাদার সব খাবারের সমাহার। চুমুকে চুমুকে মালাই চা শেষ করে ছুটলাম হাজারীপল্লির উদ্দেশে।
এক টানে সেখানকার জনৈক গাছির বাড়ির উঠানে উপস্থিত। কিন্তু এ তো বাড়ির আঙিনা নয়, যেন আস্ত একটা খেজুরবাগান। এমন প্রাকৃতিক পরিবেশে মনটাই ফুরফুরে হয়ে উঠল। রাত্রিনিবাস খেজুরগাছের নিচেই। তাই দেরি না করে দ্রুত তাঁবু টানাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল বন্ধুদের কেউ কেউ। বাকিরা বারবিকিউর সরঞ্জাম গোছাতে আর কেউ গাছির গোডাউন থেকে লাকড়ি টানতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। সে এক মহাযজ্ঞ! সবকিছু প্রস্তুত হতেই একজন এসে আগুন জ্বালিয়ে বারবিকিউ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। কয়লার আগুনে মুরগি পুড়তে পুড়তে সবজির খিচুড়ি রেডি। গাছতলায় আজ সাজ সাজ রব। গাছির বউটিও বেশ মিষ্টি। তেল দিয়ে সহায়তা করলেন আমাদের। যাহোক, গরম-গরম খিচুড়ি খেয়ে নিই।
হঠাৎ শান্ত গ্রাম অশান্ত হয়ে পড়ল। দূর থেকে ভেসে আসছে মানুষের শোরগোল। গাছিও তাঁর বউ ফেলেই দৌড় দিলেন। তাঁর পেছনে দৌড়াল আমাদের দুজন। পরে জানা গেল, গ্রামের কোনো এক বাড়িতে চোর পড়েছিল।
রাত প্রায় ৩টা। তাঁবুতে আমরা ঢুকে পড়লাম। ফজরের আজানের আগেই গাছির দৌড়ঝাঁপে ঘুম ভেঙে গেল। খেজুরগাছ থেকে রসভর্তি ছোট ছোট মাটির হাঁড়ি নামাতে থাকল। প্রতিটি হাঁড়ি রসে টইটম্বুর। গ্লাসে ঢেলে খাওয়া শুরু হলো। প্রতিটি গাছের রসের স্বাদ ভিন্ন ভিন্ন। সূর্য উঁকি দিতেই রস জ্বাল দেওয়া শুরু হলো। মূলত রস বিক্রির চেয়ে গুড় তৈরিতে লাভ বেশি বলে গাছিরা সেটাই করতে চান। ঝিটকার খেজুরের গুড়ের নাম হাজারী গুড়। রস জ্বাল দেওয়া হচ্ছে, আর আমরা পল্লিটা ঘুরে ঘুরে দেখছি।

হাঁটতে হাঁটতে হাজারী গুড়ের জন্ম যে বাড়িতে, আমরা সেখানে গিয়ে পৌঁছালাম। বাড়ির এক বৃদ্ধার মুখে শুনলাম ইতিহাস। তিনি জানালেন, হঠাৎ একদিন বিকেলে জনৈক দরবেশ এসে বললেন, রস খাওয়াও। বাড়ির কর্তা বললেন, এখনো তো রস ঝরেনি। দরবেশ বললেন, তুমি হাঁড়ি নামাও। নামানোর পরে দেখা গেল হাঁড়িভর্তি রস। তিনি পান করলেন। আর কর্তাকে আশীর্বাদ দিয়ে বললেন, তুমি এখন থেকে রস দিয়ে গুড় বানাবে। সে গুড়ের নামডাক জগৎজোড়া ছড়িয়ে পড়বে। বাড়ির কর্তাও সেই মোতাবেক খেজুরের গুড় তৈরি শুরু করলেন। সত্যি সত্যিই আজ হাজারী খেজুরের গুড় প্রসিদ্ধ ও দামি। সুদূর ইংল্যান্ডের রানি এলিজাবেথও এই গুড়ের সুনাম করেছেন বলে জানা যায় কিংবদন্তি থেকে। এখন আর এই বাড়িতে হাজারী গুড় তৈরি হয় না। বর্তমানে তাঁদের কর্মচারীরাই হাজারী গুড় প্রক্রিয়াজাত করে বিক্রি করেন। বৃদ্ধার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমরা এগোলাম। দেখা হলো স্থানীয় গ্রামবাসী জহির সাহেবের সঙ্গে। তাঁর কাছ থেকে জানা গেল, হাজারী খেজুরের গুড় উৎপাদন সময়কাল চার মাস। এতে একজন কারিগর প্রতি মাসে ১ লাখ টাকার ওপরে বেতন পেয়ে থাকেন। এরপরেও কারিগর চাহিদামতো মেলে না। ফলে অনেক পুরোনো উৎপাদনকারীও দিনে দিনে হাজারী খেজুরের গুড় তৈরি বাদ দিয়েছেন। হয়তো একটা সময় বাংলাদেশের আরও অনেক ঐতিহ্যের মতো হাজারী খেজুরের গুড়ও বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
ফিরে এলাম তাঁবুর কাছে। এসে দেখি, গরম রস ঘোঁটা চলছে। ঘুঁটতে ঘুঁটতে রস সাদা এবং ঘন হয়ে এল। সেকি ঘ্রাণ! সত্যিই এবারের ভ্রমণে রথ দেখা হলো, সঙ্গে কলা বেচাও। খেজুরের রস পানের পাশাপাশি বিখ্যাত হাজারী খেজুরের গুড় তৈরির পদ্ধতিটাও দেখা হলো। এটা এক দারুণ অভিজ্ঞতা।
যাবেন কীভাবে
ঢাকার ফুলবাড়িয়া কিংবা গাবতলী থেকে অথবা দেশের যেকোনো স্থান থেকে সরাসরি মানিকগঞ্জে যাবেন। সেখান থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে যাওয়া যায় ঝিটকা হাজারীপল্লিতে।

বয়স চল্লিশের কোটা পার হতেই আয়নার সামনে দাঁড়ালে অনেকের মন খারাপ হয়ে যায়। বলিরেখা, চোখের নিচে কালো ছোপ কিংবা ত্বকের টানটান ভাব কমে যাওয়া— এসবই বার্ধক্যের স্বাভাবিক লক্ষণ। তবে বেশি যে সমস্যা ভোগায়, তা হলো ত্বকের অতিরিক্ত রুক্ষতা ও খসখসে ভাব। শুধু দামি ক্রিম মেখে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ, বয়স...
১২ ঘণ্টা আগে
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের বয়স বাড়বে, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, প্রকৃত বয়সের তুলনায় শরীরে বার্ধক্যের ছাপ পড়ে যায় অনেক আগে। একেই বলা হয় অকালবার্ধক্য। শরীরের স্বাভাবিক বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াগুলো সময়ের আগে দৃশ্যমান হলে তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বার্ধক্য অনিবার্য হলেও...
১৩ ঘণ্টা আগে
ইফতারে তেলে ভাজা বা বেশি মসলায় রান্না করা খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। স্বাস্থ্যকর ইফতারিতে কী রাখা যায়, তাই ভাবছেন কি? অত চিন্তা না করে রাখতে পারেন রঙিন ফলের সালাদ। রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা। এই রেসিপি যেমন স্বাস্থ্যকর, তেমনি সুস্বাদু...
১৮ ঘণ্টা আগে
সঠিক পরিকল্পনা, পুষ্টিকর খাবার এবং সহকর্মীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণই পারে আপনার কর্মজীবনকে রমজানেও আনন্দময় ও চাপমুক্ত রাখতে। খাদ্যাভ্যাস এবং ঘুমের রুটিন বদলে যাওয়ায় অনেক সময় ক্লান্তি ও অবসাদ ভর করে। কিন্তু মনে রাখবেন, রোজা রেখে কাজ করা মানেই কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেওয়া নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও মানসিক...
২০ ঘণ্টা আগে