
ইফতারে গরম-গরম পাকোড়া আর বিভিন্ন ভাজাপোড়ার স্বাদ অগ্রাহ্য করা আমাদের জন্য সত্যিই কঠিন। তবে মচমচে এ ভাজাপোড়া খাওয়ার নেশা যেন আপনার সুস্থতার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনেকেই ইফতারে সালাদ রাখা কিছুটা অস্বাভাবিক মনে করতে পারেন। কিন্তু ফিটনেস যাত্রায় সালাদ জাদুর মতো কাজ করে। ইফতারে কেবল পানি পান করলেই হাইড্রেশন হয় না। বরং পুষ্টিকর সবজি ও ফলের সালাদ শরীরের এনার্জি ধরে রাখতে জাদুর মতো কাজ করে। সারা দিন রোজা রাখার পর শরীর যখন সতেজতা আর পুষ্টির খোঁজে থাকে, তখন তেল-চর্বিযুক্ত ভাজাপোড়ার ভিড়ে সালাদই আমাদের শরীরে দেয় প্রশান্তি। সালাদ কেবল আপনার হজমশক্তি বাড়াবে না; বরং রমজান শেষে আপনাকে দেবে এক ঝরঝরে ও প্রাণবন্ত অনুভূতি।
ইফতারে সালাদ রাখার ৫ কারণ
আঁশের খনি: এক প্লেট সবুজ সালাদ মানেই প্রচুর আঁশ। এই উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। আঁশ খেলে পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে, যা আপনাকে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত রাখে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের প্রাকৃতিক উৎস: সালাদে থাকা শাকসবজি ভিটামিন ‘সি’ এবং ভিটামিন ‘এ’র দারুণ উৎস। উদাহরণ হিসেবে, মাত্র এক কাপ পালংশাক বা লেটুস আপনার প্রতিদিনের ভিটামিন ‘এ’-এর চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ পূরণ করতে পারে। লাল মরিচ, টমেটো এবং ব্রকলির মতো সবজি শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বাড়িয়ে দিয়ে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে ঢাল হিসেবে কাজ করে।
প্রোটিনের জোগান: শরীরে প্রোটিন জমা থাকে না। তাই প্রতিদিনের খাবারে এটি থাকা জরুরি। সবুজ শাকসবজি প্রোটিনের একটি ভালো উৎস হতে পারে। ক্যালরি নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রোটিন বাড়াতে সালাদে অল্প পরিমাণে কম চর্বিযুক্ত চিজ বা মুরগির বুকের মাংসের মতো চর্বিহীন মাংস যোগ করতে পারেন।
কম ক্যালরিতে দীর্ঘস্থায়ী তৃপ্তি: এই রমজানে যাঁরা ওজন কমাতে চাইছেন, তাঁদের জন্য সালাদ হতে পারে সেরা বন্ধু। এক বাটি সবুজ সালাদে গড়ে ১৫০ বা তার কম ক্যালরি থাকে। খাবার শুরুর আগে সালাদ খেলে তা দ্রুত আপনার পেট ভরিয়ে দেবে। ফলে মূল খাবারে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের আশঙ্কা অনেক কমে যাবে।
স্মার্ট ফ্যাট বা ভালো চর্বি: সব চর্বি শরীরের জন্য খারাপ নয়। অলিভ অয়েল, অ্যাভোকাডো এবং বাদামে থাকা মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সালাদে এই স্বাস্থ্যকর চর্বি যোগ করলে শরীর সবজি থেকে লাইকোপিন এবং লুটেইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো আরও কার্যকরভাবে শোষণ করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যাভোকাডোযুক্ত সালাদ খেলে শরীর সাধারণ সালাদের তুলনায় ৮ থেকে ১৩ গুণ বেশি বিটা-ক্যারোটিন শোষণ করতে সক্ষম হয়।
জেনে রাখুন দুটি সালাদের রেসিপি

ফ্রুট চাট
ফ্রুট চাট তৈরি করার কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। হাতের কাছে থাকা যেকোনো ফল দিয়ে এটি তৈরি করা যায়।
উপকরণ: আপেল, কলা, কমলা, আঙুর, ডালিম বা যেকোনো ঋতুভিত্তিক ফল।
মসলা: আধা চা-চামচ গোলমরিচ গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, সামান্য চাট মসলা, বিট লবণ এবং ভাজা জিরা গুঁড়া। মিষ্টি চাইলে মধু বা চিনি যোগ করতে পারেন।
প্রণালি: সব ফল কিউব করে কেটে একটি পাত্রে নিন। ওপর থেকে মসলা এবং লেবুর রস ছড়িয়ে আলতো করে মেশান। পরিবেশনের ১০ মিনিট আগে তৈরি করে রাখলে ফলের ভেতর মসলার স্বাদ ভালোভাবে মিশে যাবে।
ছোলা সালাদ

প্রোটিন ও স্বাদে ভরপুর এ সালাদটি ইফতারে আপনাকে দীর্ঘক্ষণ এনার্জি দেবে।
উপকরণ: ২ কাপ সেদ্ধ ছোলা, ১টি সেদ্ধ আলু কুঁচি, ১টি ছোট পেঁয়াজ, ১টি টমেটো, কাঁচামরিচ এবং ধনেপাতা কুঁচি।
মসলা: চাট মসলা, লবণ, লেবুর রস এবং স্বাদ বাড়াতে তেঁতুলের সস।
প্রণালি: একটি বড় পাত্রে সেদ্ধ ছোলা ও আলুর সঙ্গে সব সবজি এবং মসলা মিশিয়ে নিন। পরিবেশনের আগে ওপরে ক্রিস্পি পাপড়ি ভেঙে ছড়িয়ে দিলে খাওয়ার সময় চমৎকার মচমচে ভাব আসবে।
সূত্র: মিডিয়াম, ম্যাগ দ্য উইকলি

ভ্যাপসা গরমে যাঁরা রোজ অফিস করছেন বা যাঁরা বাড়িতে রয়েছেন, তাঁদের সবারই নাজেহাল অবস্থা। কখন বৃষ্টি নামবে, এই ক্ষণ গুনতে গুনতেই চলে এল বর্ষা। তপ্ত রোদ থেকে এবার একটু রেহাই পাওয়ার আশা করা যায়। বর্ষার প্রথম দিনেই আলমারিতে নীল শাড়ির খোঁজ পড়ে।
২৬ মিনিট আগে
আষাঢ় মানে বাহারি স্বাদের খিচুড়ির আয়োজন। ঝুম বৃষ্টিতে গরম-গরম সুস্বাদু খিচুড়ি বাঙালির রসনাবিলাসের দারুণ এক উপকরণ। আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন, খিচুড়িপ্রেমীদের জন্য আজ থাকছে মুখরোচক মুগ ডালের খিচুড়ির রেসিপি। সবজি, আচার এবং মাংস কষা দিয়ে খাওয়ার জন্য এই খিচুড়ির রেসিপি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা।
৩৬ মিনিট আগে
আমার মুখের ত্বকে দু-একটা ব্রণের দাগ ছাড়া তেমন কোনো দাগ নেই। তবে প্রতিবার ফেয়ার পলিশ করার পর চিকবোনের কাছে কালচে ছোপ দেখা যায়। কয়েক দিন পর আবার আবছা লাগে দাগটা। এটা কী? আমার কি মেছতা হতে যাচ্ছে?
১ ঘণ্টা আগে
ওজন কমানো মানেই চর্বি ছেঁটে ফেলা। এই ওজন কমানোর যাত্রায় আমরা প্রায়ই সব চর্বিকে একই নজরে দেখি। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, সব চর্বি সমান নয়। আমাদের ত্বকের ঠিক নিচে যে চর্বি জমে, তা দেখতে খারাপ লাগলেও শরীরের জন্য ততটা বিপজ্জনক নয়। আসল শত্রু হলো ‘ভিসারেল ফ্যাট’ বা পেটের গভীরে থাকা চর্বি।
১৪ ঘণ্টা আগে