আমাদের ঘরের বিরক্তিকর এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পোকামাকড়ের একটি আরশোলা। খাবার ও বাসনপত্র নোংরা করার পাশাপাশি এগুলো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ছড়ায়, অ্যালার্জি বাড়াতে পারে এবং হাঁপানি রোগীদের স্বাস্থ্য আরও খারাপ করে দিতে পারে। ভয়ের বিষয় হলো, এরা সহনশীল এবং অল্প খাবার, অল্প পানিতেও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে।
এই অবস্থা ঘর থেকে তেলাপোকা দূর করতে অনেকে ঘরোয়া ও কম খরচের উপায়গুলো চেষ্টা করেন। তেলাপোকার স্বভাব রাতের বেলা বেশি সক্রিয় থাকা এবং আর্দ্র জায়গায় আশ্রয় নেওয়া। তাই এসব জানা থাকলে এগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হয়।

বেকিং সোডা ও চিনি
তেলাপোকা দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে বেকিং সোডা ও চিনি বেশ কার্যকর। সমপরিমাণ বেকিং সোডা ও চিনি মিশিয়ে রান্নাঘরের আলমারি, ফ্রিজের পেছনে বা সিঙ্কের নিচে রেখে দিন। চিনি তেলাপোকাকে আকৃষ্ট করে টেনে আনে, বেকিং সোডা তাদের স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত করে মৃত্যু ঘটায়। কয়েক দিন পরপর মিশ্রণটি নতুন করে বদলে নিন। ছোটখাটো তেলাপোকার সমস্যায় এটি একটি নিরাপদ ও সহজ সমাধান।
ডায়াটোম পাউডার
এটি শৈবালের গুঁড়া, যা তেলাপোকার গায়ে লেগে শরীরের বাইরের স্তর নষ্ট করে দেয়। এতে তারা ডিহাইড্রেট হয়ে মরে যায়। ডায়াটোম পাউডার শুকনো জায়গায় ছিটিয়ে দিন, যেমন আলমারির কোণ, ফ্রিজের পেছনে, বেসবোর্ডের পাশে। ভেজা জায়গায় ব্যবহার করবেন না, এতে কার্যকারিতা কমে যায়।
ঔষধি তেল
পিপারমিন্ট, ইউক্যালিপটাস বা টি-ট্রি অয়েলের তীব্র গন্ধ তেলাপোকা সহ্য করতে পারে না। স্প্রে বোতলে কয়েক ফোঁটা তেল পানি মিশিয়ে রান্নাঘরের বিভিন্ন জায়গায়, ড্রেন বা আলমারির কোনায় স্প্রে করুন। এতে তেলাপোকা ঢুকতে সাহস পাবে না, আর ঘরও থাকবে সতেজ ও সুগন্ধি।

তেজপাতা
শুকনো তেজপাতা গুঁড়া করে আলমারি বা ড্রয়ারে ছড়িয়ে দিন, অথবা আস্ত পাতা ছোট কাপড়ে বেঁধে রাখুন। এর গন্ধ তেলাপোকা অপছন্দ করে। যদিও তেজপাতা তেলাপোকা মারে না, তবে খাবার সংরক্ষণের জায়গায় রাখলে এরা দূরে থাকে।
ভিনেগার
সরাসরি তেলাপোকা মারতে না পারলেও ভিনেগারের বেশ উপকার আছে। সমপরিমাণ সাদা ভিনেগার ও পানি মিশিয়ে রান্নাঘরের টেবিল, সিঙ্ক, তাক ও মেঝে মুছে নিন। এতে তেলাপোকা দূরে থাকবে এবং খাবারের বা তেলচিটে দাগও পরিষ্কার হবে।
বোরিক অ্যাসিড
তেলাপোকা মারার বেশ পুরোনো ও উপায় হলো বোরিক অ্যাসিড। তেলাপোকা যখন এর ওপর দিয়ে হাঁটে, এটি তাদের শরীরে লাগে। পরে শরীর পরিষ্কার করার সময় মুখ দিয়ে এটি ভেতরে প্রবেশ করে এবং তাদের মৃত্যু হয়। কার্যকারিতা বাড়াতে বোরিক অ্যাসিড চিনির সঙ্গে মিশিয়ে ছোট কনটেইনারে রাখা যায়। তবে সতর্ক থাকতে হবে, এটি শিশু ও পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে ব্যবহার করতে হবে।
ঘরোয়া উপায়ের সীমাবদ্ধতা
– যদিও এসব পদ্ধতি কার্যকর, তবু বড় আকারের উপদ্রবে এগুলো যথেষ্ট নয়।
– নিয়মিত প্রয়োগ করতে হয়, না হলে কার্যকারিতা কমে যায়।
– কিছু উপকরণ (যেমন বোরিক অ্যাসিড) শিশু ও পোষ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
– যদি ঘরের বিভিন্ন কোনা বন্ধ না করা হয় বা খাবারের উৎস সরানো না যায়, তবে কিছুদিন পর তেলাপোকা আবার ফিরে আসবে।
কখন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেবেন
যদি তেলাপোকার সমস্যা গুরুতর হয়, তাহলে পেশাদার কীটনাশক সেবাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সমাধান। তারা উন্নত পেশাদার উপায়ে কাজ করে, যেমন—
– ইনসেক্ট গ্রোথ রেগুলেটর ব্যবহার করে তেলাপোকার প্রজনন রোধ করা হয়।
– বিভিন্ন ফাঁদ বা জেল দিয়ে লুকানো তেলাপোকা দূর করে।
– রেসিডুয়াল স্প্রে দিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে ঘর সুরক্ষিত রাখে।
তেলাপোকা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হলেও একটু সচেতনতা, ঘরোয়া প্রতিকার এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সাহায্যে এগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। রান্নাঘর ও বাথরুম পরিষ্কার রাখা, খাবার ঢেকে রাখা, পানি ও ঘরের কোনা বন্ধ করা—এসব কাজ নিয়মিত করলে ঘরে তেলাপোকার উপদ্রব অনেকটা কমে যাবে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

বয়স চল্লিশের কোটা পার হতেই আয়নার সামনে দাঁড়ালে অনেকের মন খারাপ হয়ে যায়। বলিরেখা, চোখের নিচে কালো ছোপ কিংবা ত্বকের টানটান ভাব কমে যাওয়া— এসবই বার্ধক্যের স্বাভাবিক লক্ষণ। তবে বেশি যে সমস্যা ভোগায়, তা হলো ত্বকের অতিরিক্ত রুক্ষতা ও খসখসে ভাব। শুধু দামি ক্রিম মেখে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ, বয়স...
১৩ ঘণ্টা আগে
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের বয়স বাড়বে, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, প্রকৃত বয়সের তুলনায় শরীরে বার্ধক্যের ছাপ পড়ে যায় অনেক আগে। একেই বলা হয় অকালবার্ধক্য। শরীরের স্বাভাবিক বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াগুলো সময়ের আগে দৃশ্যমান হলে তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বার্ধক্য অনিবার্য হলেও...
১৪ ঘণ্টা আগে
ইফতারে তেলে ভাজা বা বেশি মসলায় রান্না করা খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। স্বাস্থ্যকর ইফতারিতে কী রাখা যায়, তাই ভাবছেন কি? অত চিন্তা না করে রাখতে পারেন রঙিন ফলের সালাদ। রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা। এই রেসিপি যেমন স্বাস্থ্যকর, তেমনি সুস্বাদু...
১৯ ঘণ্টা আগে
সঠিক পরিকল্পনা, পুষ্টিকর খাবার এবং সহকর্মীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণই পারে আপনার কর্মজীবনকে রমজানেও আনন্দময় ও চাপমুক্ত রাখতে। খাদ্যাভ্যাস এবং ঘুমের রুটিন বদলে যাওয়ায় অনেক সময় ক্লান্তি ও অবসাদ ভর করে। কিন্তু মনে রাখবেন, রোজা রেখে কাজ করা মানেই কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেওয়া নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও মানসিক...
২১ ঘণ্টা আগে