Ajker Patrika
সাক্ষাৎকার

আমাজনে ব্র্যান্ড গড়ে সফল মঈনুল ইসলাম

আমাজনে ব্র্যান্ড গড়ে সফল মঈনুল ইসলাম

আইনবিদ্যায় উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা সামনে রেখেও ভিন্ন পথে হাঁটার সাহস দেখিয়েছেন মঈনুল ইসলাম। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার প্রতি আগ্রহ থেকে তিনি যুক্ত হন বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম আমাজনের সঙ্গে। লন্ডনে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে গড়ে তোলেন ‘ইসেভিওর লিমিটেড’। বর্তমানে তিনি ও তাঁর দল ১৭০টির বেশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডকে আমাজনের বাজারে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করছেন। আমাজনের প্রতিযোগিতামূলক জগৎ, কাজের অভিজ্ঞতা এবং নতুনদের জন্য পরামর্শ নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন মো. আশিকুর রহমান

আইন পেশার সম্ভাবনা ছেড়ে আমাজন এফবিএ বা ডিজিটাল বিপণনে এলেন কেন?

যদিও আমার প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা আইন বিষয়ে, তবে আগ্রহ ছিল প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়। ১১ বছর ধরে আমি আমাজনে ব্র্যান্ড ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করছি। ২০১৩-১৪ সালের দিকে এফবিএ নিয়ে দেশে তেমন কোনো ধারণা ছিল না; না ছিল ইউটিউব টিউটোরিয়াল, না কোনো গাইডলাইন। শুরুতে পুঁজি বলতে ছিল শুধু আগ্রহ আর অদম্য চেষ্টা। লন্ডনে থাকাকালে আমাজনের সম্ভাবনা বুঝতে পারি। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষক ছিল না; বরং ক্লায়েন্টদের ছোট ছোট কাজ করতে গিয়েই শেখা। কাজের মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে প্ল্যাটফর্মটির খুঁটিনাটি আয়ত্তে আসে। খুব দ্রুত বুঝতে পারি, আমাজনে শুধু ভালো পণ্য থাকলেই হয় না—সেটি কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেটিই সাফল্যের বড় চাবিকাঠি। পণ্যের লিস্টিংয়ে আকর্ষণীয় ডিজাইন যুক্ত করার পরই বিক্রিতে বড় পরিবর্তন দেখি। সেখান থেকেই ‘ইসেভিওর লিমিটেড’-এর যাত্রা শুরু।

আমাজনে ছবির গুরুত্ব এত বেশি কেন?

আমাজনে ক্রেতারা প্রথমে চোখ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। একটি পণ্যের ওপর তারা গড়ে ৩ থেকে ৫ সেকেন্ড সময় দেয়। এই অল্প সময়ে ছবি দিয়ে আকৃষ্ট করতে না পারলে ক্রেতা আর আগায় না। ভালো ছবি মানেই বেশি ক্লিক, আর বেশি ক্লিক মানেই বিক্রির সম্ভাবনা বৃদ্ধি। পণ্য যত ভালোই হোক বা দাম যত কমই হোক—ছবি আকর্ষণীয় না হলে আস্থা তৈরি হয় না। বরং ভালো ভিজ্যুয়াল থাকলে বিজ্ঞাপনের খরচও কমে এবং ব্র্যান্ডের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে।

দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় লিস্টিং ইমেজে সাধারণত কী ভুল দেখা যায়?

অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, অনেকেই মূল ছবিটিকে যথেষ্ট আকর্ষণীয় করতে পারেন না, ফলে সেটি ক্রেতার নজর কাড়তে ব্যর্থ হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে ছবিতে অতিরিক্ত লেখা ব্যবহার করা হয়, যা ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করে। পণ্যের বাস্তব ব্যবহার দেখানো হয় না, ফলে ক্রেতা সেটির প্রয়োগ বুঝতে পারে না। একই সঙ্গে প্রতিযোগীদের তুলনায় নিজের পণ্যের বিশেষত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয় না এবং পুরো উপস্থাপনাটিই অগোছালো থাকে। এসব কারণে ভালো পণ্যও বাজারে কাঙ্ক্ষিত সাড়া পায় না।

‘ইসেভিওর লিমিটেড’ কীভাবে কাজ করে?

আমরা একটি নির্দিষ্ট ফ্রেমওয়ার্ক অনুসরণ করি CTR, Clarity এবং Trust। প্রথমে আকর্ষণীয় ভিজ্যুয়ালের মাধ্যমে ক্রেতার ক্লিক আনার চেষ্টা করা হয়। এরপর পরবর্তী ছবিগুলোর মাধ্যমে পণ্যের ব্যবহার ও বৈশিষ্ট্য পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়। সবশেষে ব্র্যান্ডের গল্প ও উপস্থাপনার মাধ্যমে ক্রেতার মনে বিশ্বাস সৃষ্টি করা হয়। এ পদ্ধতিতে আমরা ১৩০০-এর বেশি প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড ‘অ্যাঙ্কার’-এর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও আমাদের জন্য বড় অর্জন।

আপনাদের সাম্প্রতিক কোনো সফলতার কথা বলবেন, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরে?

সম্প্রতি একটি ‘হোম অ্যান্ড কিচেন’ ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছি। তাদের পণ্যে ক্লিক থাকলেও বিক্রি হচ্ছিল না। আমরা তাদের লিস্টিংয়ের সাতটি ছবিই নতুন করে ডিজাইন করি এবং প্যাকেজিংয়েও পরিবর্তন আনি। ফলে তাদের ক্লিক-থ্রু রেট ৪২ শতাংশ এবং কনভার্শন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এ ধরনের সাফল্য প্রমাণ করে, বাংলাদেশি দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।

যাঁরা আমাজনের মতো ই-কমার্সে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাঁদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

প্রথমেই বলব, হুজুগে শুরু করা ঠিক নয়। আগে আমাজনের পুরো ইকোসিস্টেম সম্পর্কে ভালোভাবে পড়াশোনা করে জানতে হবে। এখন অনলাইনে প্রচুর ফ্রি রিসোর্স রয়েছে, সেগুলো কাজে লাগান। শুধু পণ্য সংগ্রহ করলেই হবে না, সেটির উপস্থাপন হতে হবে বিশ্বমানের। দামের প্রতিযোগিতা না করে গুণমান ও উপস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। ভিজ্যুয়াল মার্কেটিং বা গ্রাফিকস সম্পর্কেও ধারণা রাখা দরকার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাজনে পণ্য বিক্রির আগে ‘ছবি বিক্রি’ করতে জানতে হবে। এটি রাতারাতি সফল হওয়ার ক্ষেত্র নয়; তবে ধৈর্য ও নিয়মিত চেষ্টা থাকলে এখানে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ: শেষ মুহূর্তে সময় চাইলেন বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার বললেন—সুযোগ নেই

ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব—শান্তির রূপরেখা নাকি ট্রাম্পের জন্য কূটনৈতিক ফাঁদ

হরমুজ প্রণালিতে কি ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেই সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংসদে পাস

যুদ্ধবিরতি: হরমুজ থেকে টোল আদায় করবে ইরান-ওমান

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত