ক্যারিয়ার ডেস্ক

কর্মক্ষেত্র মানেই সহযোগিতা, দায়িত্ব ভাগাভাগি ও লক্ষ্য অর্জনের যৌথ প্রয়াস। তবে একই সঙ্গে সেখানে মতভেদ ও দ্বন্দ্বের আশঙ্কাও অনিবার্য। কখনো সহকর্মীর সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝি, কখনো ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা; এ ধরনের পরিস্থিতি মনোবল নষ্ট করতে পারে, কাজের গতি কমিয়ে দিতে পারে, এমনকি চাকরি বদলের ভাবনাও মাথায় আনতে পারেন অনেকের। বাস্তবতা হলো, দ্বন্দ্ব পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। তবে সচেতনভাবে এসব পরিস্থিতি সামলাতে পারলে শুধু সমস্যার সমাধানই নয়; বরং কর্মপরিবেশ আরও ইতিবাচক হয়, দলগত সম্পর্ক দৃঢ় হয় এবং কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনও সহজ হয়।
ধরুন, আপনার বিভাগে একজন নতুন ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে ভূমিকা ও দায়িত্ব কীভাবে নতুন করে বণ্টিত হবে, তা নিয়ে আপনি স্বাভাবিকভাবেই অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে এগোবেন? চলুন দেখে নেওয়া যাক কর্মক্ষেত্রের দ্বন্দ্ব সামলানোর কয়েকটি কার্যকর কৌশল।
গঠনমূলক আলোচনার উদ্যোগ নিন
এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ভুল হলো নীরব থাকা কিংবা অনুমানের ওপর ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। উদ্বেগ যেন আপনাকে গ্রাস না করে, সে জন্য শুরুতে খোলামেলা ও স্পষ্ট যোগাযোগ করুন। নতুন সহকর্মীর সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিন। প্রয়োজনে ই-মেইলে আমন্ত্রণ পাঠান। তবে সেখানে ভাষা নির্বাচনে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
সহমর্মিতা দিয়ে শুরু করুন
ভাবুন, নতুন ম্যানেজার হিসেবে তিনিও হয়তো চাপে আছেন। নতুন পরিবেশ, নতুন দল; সবকিছুই তাঁর জন্য অপরিচিত। তাই বার্তায় এমন ভাষা ব্যবহার করুন, যা সম্মান ও সহযোগিতার বার্তা দেয়। যেমন ‘আপনার দিকনির্দেশনা পেলে উপকার হতো’ কিংবা ‘আমরা কি একবার বসে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে পারি?’ এ ধরনের বাক্য বোঝায়, আপনি ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নয়, সমঝোতা চান।
বার্তাকে মানবিক করুন
ই-মেইল অনেক সময় শীতল ও আনুষ্ঠানিক মনে হতে পারে। তাই শুরুতে দলে স্বাগত জানানো বা সৌজন্যমূলক একটি লাইন যোগ করলে বার্তাটি আরও মানবিক হয়ে ওঠে। পাঠানোর আগে বার্তাটি ভালো করে পড়ে নিন। সম্ভব হলে কোনো বিশ্বাসযোগ্য সহকর্মী বা মেন্টরের মতামতও নিতে পারেন।
নিরপেক্ষ স্থান বেছে নিন
দ্বন্দ্ব সমাধানের আলোচনায় জায়গা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপযুক্ত জায়গাই অনেক সময় অদৃশ্য ক্ষমতার প্রতীক হয়ে ওঠে। অফিসকক্ষ বা ব্যক্তিগত রুম অনেকের কাছে চাপের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাই সম্ভব হলে নিরপেক্ষ স্থান বেছে নিন, যেমন অফিস ক্যাফেটেরিয়া, কফিশপ কিংবা বাইরে অল্প হাঁটার সুযোগ আছে এমন কোনো জায়গা। খোলামেলা ও নিরপেক্ষ পরিবেশে বসলে আলোচনা স্বাভাবিক হয়, আত্মরক্ষামূলক মনোভাব কমে এবং পারস্পরিক বিশ্বাস তৈরি হয়। এতে উভয় পক্ষই নিজেদের কথা খোলামেলা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
কৌশলগতভাবে আলাপে এগোন
আলোচনায় বসার আগে কিছুটা প্রস্তুতি নিয়ে নিন। সহকর্মীর দায়িত্ব, আগ্রহ ও শক্তির জায়গাগুলো সম্পর্কে ভাবুন। কোথায় মিল হতে পারে, কোথায় মতপার্থক্য—এসব আগেই চিহ্নিত করলে আলোচনা আরও ফলপ্রসূ হয়।
শোনা দিয়ে শুরু করুন
আলাপের শুরুতে সহকর্মীকে কথা বলার সুযোগ দিন। মনোযোগ দিয়ে শুনুন। শুধু কথাই নয়, তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকার বোঝার চেষ্টা করুন। এতে অনেক সময় অপ্রত্যাশিত মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এটি সম্পর্কের সেতু গড়ে তুলতে সহায়ক।
অমিলকে সুযোগে পরিণত করুন
সব অমিলই দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে না। ধরুন, আপনি নতুন ধারণা তৈরি ও পরিকল্পনার পর্যায়টি উপভোগ করেন, আর আপনার সহকর্মী বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনায় দক্ষ। এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে দুজনই লাভবান হতে পারেন। নিজের কথা বলার সময় শুধু নিজের অবস্থান তুলে ধরাই নয়, বরং কীভাবে পার্থক্যগুলো কমানো যায়, সে পথ খোঁজার মানসিকতা রাখুন।
কর্মক্ষেত্রের দ্বন্দ্ব সামলানো সহজ নয়। এটি এক দিনের কোনো সমাধানও নয়; বরং একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে সহমর্মিতা, খোলামেলা যোগাযোগ ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে পারলে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা পেরিয়ে সম্পর্ককে আরও ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
সূত্র: ডিসিই, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি

কর্মক্ষেত্র মানেই সহযোগিতা, দায়িত্ব ভাগাভাগি ও লক্ষ্য অর্জনের যৌথ প্রয়াস। তবে একই সঙ্গে সেখানে মতভেদ ও দ্বন্দ্বের আশঙ্কাও অনিবার্য। কখনো সহকর্মীর সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝি, কখনো ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা; এ ধরনের পরিস্থিতি মনোবল নষ্ট করতে পারে, কাজের গতি কমিয়ে দিতে পারে, এমনকি চাকরি বদলের ভাবনাও মাথায় আনতে পারেন অনেকের। বাস্তবতা হলো, দ্বন্দ্ব পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। তবে সচেতনভাবে এসব পরিস্থিতি সামলাতে পারলে শুধু সমস্যার সমাধানই নয়; বরং কর্মপরিবেশ আরও ইতিবাচক হয়, দলগত সম্পর্ক দৃঢ় হয় এবং কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনও সহজ হয়।
ধরুন, আপনার বিভাগে একজন নতুন ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে ভূমিকা ও দায়িত্ব কীভাবে নতুন করে বণ্টিত হবে, তা নিয়ে আপনি স্বাভাবিকভাবেই অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে এগোবেন? চলুন দেখে নেওয়া যাক কর্মক্ষেত্রের দ্বন্দ্ব সামলানোর কয়েকটি কার্যকর কৌশল।
গঠনমূলক আলোচনার উদ্যোগ নিন
এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় ভুল হলো নীরব থাকা কিংবা অনুমানের ওপর ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। উদ্বেগ যেন আপনাকে গ্রাস না করে, সে জন্য শুরুতে খোলামেলা ও স্পষ্ট যোগাযোগ করুন। নতুন সহকর্মীর সঙ্গে বৈঠকের উদ্যোগ নিন। প্রয়োজনে ই-মেইলে আমন্ত্রণ পাঠান। তবে সেখানে ভাষা নির্বাচনে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
সহমর্মিতা দিয়ে শুরু করুন
ভাবুন, নতুন ম্যানেজার হিসেবে তিনিও হয়তো চাপে আছেন। নতুন পরিবেশ, নতুন দল; সবকিছুই তাঁর জন্য অপরিচিত। তাই বার্তায় এমন ভাষা ব্যবহার করুন, যা সম্মান ও সহযোগিতার বার্তা দেয়। যেমন ‘আপনার দিকনির্দেশনা পেলে উপকার হতো’ কিংবা ‘আমরা কি একবার বসে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে পারি?’ এ ধরনের বাক্য বোঝায়, আপনি ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নয়, সমঝোতা চান।
বার্তাকে মানবিক করুন
ই-মেইল অনেক সময় শীতল ও আনুষ্ঠানিক মনে হতে পারে। তাই শুরুতে দলে স্বাগত জানানো বা সৌজন্যমূলক একটি লাইন যোগ করলে বার্তাটি আরও মানবিক হয়ে ওঠে। পাঠানোর আগে বার্তাটি ভালো করে পড়ে নিন। সম্ভব হলে কোনো বিশ্বাসযোগ্য সহকর্মী বা মেন্টরের মতামতও নিতে পারেন।
নিরপেক্ষ স্থান বেছে নিন
দ্বন্দ্ব সমাধানের আলোচনায় জায়গা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপযুক্ত জায়গাই অনেক সময় অদৃশ্য ক্ষমতার প্রতীক হয়ে ওঠে। অফিসকক্ষ বা ব্যক্তিগত রুম অনেকের কাছে চাপের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাই সম্ভব হলে নিরপেক্ষ স্থান বেছে নিন, যেমন অফিস ক্যাফেটেরিয়া, কফিশপ কিংবা বাইরে অল্প হাঁটার সুযোগ আছে এমন কোনো জায়গা। খোলামেলা ও নিরপেক্ষ পরিবেশে বসলে আলোচনা স্বাভাবিক হয়, আত্মরক্ষামূলক মনোভাব কমে এবং পারস্পরিক বিশ্বাস তৈরি হয়। এতে উভয় পক্ষই নিজেদের কথা খোলামেলা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
কৌশলগতভাবে আলাপে এগোন
আলোচনায় বসার আগে কিছুটা প্রস্তুতি নিয়ে নিন। সহকর্মীর দায়িত্ব, আগ্রহ ও শক্তির জায়গাগুলো সম্পর্কে ভাবুন। কোথায় মিল হতে পারে, কোথায় মতপার্থক্য—এসব আগেই চিহ্নিত করলে আলোচনা আরও ফলপ্রসূ হয়।
শোনা দিয়ে শুরু করুন
আলাপের শুরুতে সহকর্মীকে কথা বলার সুযোগ দিন। মনোযোগ দিয়ে শুনুন। শুধু কথাই নয়, তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকার বোঝার চেষ্টা করুন। এতে অনেক সময় অপ্রত্যাশিত মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এটি সম্পর্কের সেতু গড়ে তুলতে সহায়ক।
অমিলকে সুযোগে পরিণত করুন
সব অমিলই দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে না। ধরুন, আপনি নতুন ধারণা তৈরি ও পরিকল্পনার পর্যায়টি উপভোগ করেন, আর আপনার সহকর্মী বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনায় দক্ষ। এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে দুজনই লাভবান হতে পারেন। নিজের কথা বলার সময় শুধু নিজের অবস্থান তুলে ধরাই নয়, বরং কীভাবে পার্থক্যগুলো কমানো যায়, সে পথ খোঁজার মানসিকতা রাখুন।
কর্মক্ষেত্রের দ্বন্দ্ব সামলানো সহজ নয়। এটি এক দিনের কোনো সমাধানও নয়; বরং একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে সহমর্মিতা, খোলামেলা যোগাযোগ ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে পারলে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা পেরিয়ে সম্পর্ককে আরও ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
সূত্র: ডিসিই, হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি

জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটিতে রিটেইল ইউনিট, এফভিপি-ভিপি বিভাগের শূন্য পদে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হবে। গত ১৩ জানুয়ারি এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
৮ ঘণ্টা আগে
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের ‘সহকারী পরিচালক’ (টেলিভিশন অনুষ্ঠান প্রশিক্ষণ) ও ‘সহকারী পরিচালক’ (টেলিভিশন প্রকৌশল প্রশিক্ষণ), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ‘চলচ্চিত্র পরিদর্শক’ এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘উপসহকারী প্রকৌশলী’ পদের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।
৯ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের (বিজেএসসি) অফিস সহায়ক পদের প্রাক্-যাচাই (এমসিকিউ) পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশিত হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৭ জানুয়ারি এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
১০ ঘণ্টা আগে
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন ন্যাশনাল ইলেকট্রো-মেডিকেল ইকুইপমেন্ট মেইন্টেন্যান্স ওয়ার্কশপ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ১০ ক্যাটাগরির পদে মোট ৮৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।
২ দিন আগে